পাঠ সংক্ষেপ

কাপড়ের ওপর যদি একের পর এক ময়লা জমতে থাকে আর তা ধোয়া না হয় তাহলে কী অবস্থা হবে আপনারাই বলুন! অন্তরের অবস্থা ঠিক একই রকম। যদি গুনাহ জমতে থাকে আর তাওবা করা না হয়, ইস্তিগফার করা না হয়, তাহলে না-ধোয়া কাপড়ের মতোই তা ময়লায় ভারাক্রান্ত ও আচ্ছাদিত হয়ে যাবে।

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الْمَلِكِ الْوَهَّابِ الرَّحِيْمِ التَّوَّابِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ بِلَا شَكٍّ وَلَا ارْتِيَابٍ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْمَآبِ وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْراً، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! এ পৃথিবীতে মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ইবাদত করা। মানুষকে এ উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই কেউ যদি কোনো ভালো কাজ করে তবে সে তা নিজের উপকারের জন্যই করে। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আদায়ের অংশ হিসেবেই করে। পক্ষান্তরে কেউ যদি গুনাহের কাজ করে তবে সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বে অবহেলার কারণেই করে। তার নিজের ক্ষতি হিসেবেই তা করে। মানুষের গুনাহ যতোই বাড়ুক তা আল্লাহর শানে আদৌ কোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে না। অনুরূপভাবে নেক আমলও আল্লাহর কোনো উপকারে আসে না।

প্রিয় ভাইয়েরা! গুনাহ হলো ঘৃণ্য আবর্জনা যা সর্বাবস্থায় বর্জন করা আবশ্যক। গুনাহের এ আবর্জনা আমরা যদিও চোখে দেখি না, তার গন্ধ অনুভব করি না কিন্তু মানুষের অন্তরে এর প্রভাব লক্ষণীয়। মানুষ পাপের পর পাপ করতে থাকে এবং এক সময় তার অন্তর ঢেকে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{كَلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَّا كَانُواْ يَكْسِبُونَ}

‘ কখনো নয়, বরং তারা যা অর্জন করত তাই তাদের অন্তরসমূহকে ঢেকে দিয়েছে’ (সূরা আল-মুতাফফিফীন:১৪)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

(إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ، فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ، صُقِلَ قَلْبُهُ، فَإِنْ زَادَ زَادَتْ، فَذَلِكَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ)

‘ মুমিন বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যদি সে তাওবা করে নেয়, বিরত হয়ে যায়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তবে তার অন্তর মসৃণ হয়ে যায়। আর যদি সে আরো করে তবে দাগ আরো বেড়ে যায়, এটাই হলো অন্তর আচ্ছাদিত হয়ে যাওয়া যার উল্লেখ আল্লাহ তাঁর কিতাবে করেছেন’ (ইবনে মাজাহ, হাসান)।

এসব গুনাহ, যারপর বান্দা তাওবা করে না, ইস্তিগফার করে না, বান্দার অন্তরে স্তুপীকৃত হতে থাকে এমনকি এক পর্যায়ে কঠিন আবরণের রূপ পরিগ্রহ করে, যা অন্তরকে একেবারে ঢেকে ফেলে।

প্রিয় ভাইয়েরা! কাপড়ের ওপর যদি একের পর এক ময়লা জমতে থাকে আর তা ধোয়া না হয় তাহলে কী অবস্থা হবে আপনারাই বলুন! অন্তরের অবস্থা ঠিক একই রকম। যদি গুনাহ জমতে থাকে আর তাওবা করা না হয়, ইস্তিগফার করা না হয়, তাহলে না-ধোয়া কাপড়ের মতোই তা ময়লায় ভারাক্রান্ত ও আচ্ছাদিত হয়ে যাবে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমরা তো রাতদিন পাপ করেই যাচ্ছি। পাপ করার পর হয়তো অনেক দিন গুজরে যায়, অথচ তাওবা করা হয় না, ইস্তিগফারের জন্য আল্লাহর কাছে হাত দরায করা হয় না। গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া হয় না। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। নিশ্চয় পবিত্রতা ও প্রকৃত পরিচ্ছন্নতা হলো অন্তরের পবিত্রতা, অনন্তরের পরিচ্ছন্নতা। কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা দিয়ে কী হবে, যদি পাপের বোঝায় ভারাক্রান্ত থাকে হৃদয় পাপের ময়লায় আচ্ছাদিত থাকে অন্তরাত্মা?

এমন তো অনেকেই আছে যাদের কাপড় অনেক পরিষ্কার কিন্তু তাদের অন্তর আবর্জনায় পরিপূর্ণ। পাপের আধিক্যে দুর্গন্ধময়। তাদের অন্তর গুনাহের ময়লায় মলিন। তারা একের পর এক পাপ করে চলে, অন্যায় করে চলে কিন্তু তাওবা থেকে গাফেল থাকে, ইস্তিগফার থেকে গাফেল থাকে। মানুষ যদি তার প্রকৃত চেহারা উম্মোচিত করে, তাহলে তার নিজের কাছে ও মানুষের কাছে তার কি আদৌ কোনো মূল্য থাকবে? আর কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তাআলার কাছে তার কোনো মূল্য থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! সকল মানুষই পাপ করে, গুনাহ করে। তবে পার্থক্য হলো কেউ কেউ পাপ করার সাথে সাথে তাওবা করে নেয়। নিজের অন্তরকে পবিত্র করে নেয়। লজ্জিত হয়ে, অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, কৃত পাপের জন্য ক্ষমা চায়। পক্ষান্তনে অনেকেই এমন আছে যাদের অন্তরে পাপ স্তুপীকৃত হতে থাকে অথচ সে তাওবা করে নিজকে পবিত্র করে না। আল্লাহর কাছে ঐকান্তিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিজের অন্তরকে মসৃণ করে না।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ চাওয়ার দরজা সদা উন্মুক্ত। ইস্তিগফারের দরজা সদা উন্মুক্ত, যাতে আমরা তাওবা করে অন্তরের আবর্জনা থেকে নিজদেরকে পবিত্র করে নিতে পারি। আল্লাহ তো আমাদেরকে তাওবা করতে আহ্বান করছেন। কৃত গুনাহের ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলছেন, যাতে আমাদের অন্তর ভারমুক্ত হয়। গুনাহের বোঝা মুক্ত হয়। অন্তরের প্রশান্তি ফিরে আসে। হৃদয়ের শান্তভাব ফিরে আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ .}

‘ বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার:৫৩)।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে দু’টি নাম

الْغَفُوْرُ التَّوَّابُ

পরম ক্ষমশীল, তাওবা কবুলকারী। মহামহিম আল্লাহ তাআলার এ মহান নাম দু’টি তাঁর ক্ষমা ও তাওবা কবুল করার অর্থ জ্ঞাপক। পবিত্র মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং তাদেও ত্র“টি-বিচ্যুতি মাফ করে দেন। মূসা আলাইহিস সালাম অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে তাওবা করেছিলেন আল্লাহ তাআলা তাঁর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন :

{قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ}

‘ সে বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফ্সের প্রতি যুলম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’। অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-কাসাস:১৬)।

আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى وَعَصَى آَدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى}

‘এবং আদম তার রবের হুকুম অমান্য করল ফলে সে বিভ্রান্ত হল। এরপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, অতঃপর তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথনির্দেশ করলেন’ (সূরা তাহা:১২১-১২২)।

আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবা কবুল করেন এবং গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ}

‘আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা কর, তিনি তা জানেন’ (সূরা আশ-শূরা:২৫)

তাওবা বান্দাকে পরিচ্ছন্ন করে সফলতার পথে নিয়ে যায়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:

{وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}

‘হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (সূরা আন-নূর:৩১)

এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحاً عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَار.}

‘ হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাটি তাওবা আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত’ (সূরা আত-তাহরীম:৮)।

যারা তাওবাকারী, পবিত্রতা অর্জনকারী আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পছন্দ করেন। ইরশাদ হয়েছে:

{إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ}

‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং তিনি পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকেও ভালবাসেন’ (সূরা আল বাকারা:২২২)

আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘হে মানব জাতি! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, আমি প্রতি দিন একশতবার তাওবা করি’ (মুসলিম)

আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু. কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আমি তার কাছে দৈনিক সত্তরবারের বেশি তাওবা করি’ (বুখারী)।

আনাস রাযি থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবার কারণে খুব খুশি হন। যখন বান্দা তার কাছে তাওবা করে তখন বান্দা যে অবস্থায় থাকুক না কেন আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন।

(ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আদম সন্তান একটি স্বর্ণের উপত্যকার মালিক হলে, আরো দু’টি স্বর্ণের উপত্যকার মালিক হওয়ার আশা পোষণ করবে, তবুও তার মুখ পূর্ণ হবে না একমাত্র মাটি ছাড়া। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক তাওবাকারীকে ক্ষমা করে দেন’ (বুখারী)।

আর তাওবা কেবল আল্লাহ তাআলাই কবুল করতে পারেন, অন্য কারো তাওবা কবুল অথবা গুনাহ মাফ করার ক্ষমতা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ}

‘ তারা কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবূল করেন এবং সাদকা গ্রহণ করেন। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু’ (সূরা আত-তাওবা:১০৪)।

হাদীসে এসেছে। আবূ মূসা আল আশআরী রযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

(إِنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا)

‘আল্লাহ তাআলা রাতের বেলায় তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের বেলার গুনাহগাররা তাওবা করতে পারে এবং দিনের বেলা তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতের গুনাহগারর তাওবা করতে পারে। সূর্য পশ্চিম আকাশ থেকে উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এরূপ করবেন’ (মুসলিম)।

আল্লাহ তাআলার ‘আল গাফুর’ ও ‘আত-তাওয়াব’ নামের প্রতি ঈমান আনয়নের চাহিদাই হলো আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া, আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি প্রকাশ করা, তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও তাওবা করা এবং তার রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া।

তাওবা দ্রুত করা আবশ্যক, বিলম্ব করা কোনক্রমেই সমীচীন নয়। আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম) তাওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ দ্রুততার সাথে পালন করা উচিত। কারণ, বান্দা জানে না দেরি করলে তার তাওবা করার সুযোগ হবে কি না। যেহেতু যেকোনো সময় তার মৃত্যু এসে যেতে পারে, তাই তাওবার সুযোগ নাও হতে পারে। অন্যায় কাজ বারবার করার মাধ্যমে অন্তর কঠিন হয়ে যায় এবং আল্লাহ থেকে দূরত্বের সৃষ্টি হয়, ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। কারণ, ঈমান আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে হ্রাস পায়। বারবার অপরাধ করার দ্বারা অপরাধ করার মানসিকতা তৈরি হয়। কেউ যদি কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করে ফেলে, তবে তা থেকে ফিরে আসা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তার ওপর শয়তান বিজয়ী হয়ে যায় এবং বড়-বড় অপরাধ করার প্রেরণা দেয়। এ জন্য উলামায়ে কিরাম বলেন, সকল ধরনের অপরাধ কুফরী বৃদ্ধি করে। মানুষ ধাপে ধাপে এক অপরাধ থেকে আরেক অপরাধে পা রাখে। এক পর্যায়ে দীন থেকে সে সম্পূর্ণভাবে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খাঁটিভাবে তাওবা করতে বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে :

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحاً}

‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা’ (সূরা আত-তাহরীম:৮)।

হাফেয ইবনে কাছীর রহ. তাওবায়ে নাসুহা তথা খাঁটি তাওবার সংজ্ঞায় বলেন, ‘সত্য ও দৃঢ় তাওবা, যা মানুষের পাপসমূহ মুছে দেয়, এবং বিক্ষিপ্ত অবস্থাকে একত্রিত করে ঠিক করে দেয়। আর সে যেসব নিচু কাজ করত তা থেকে ফিরিয়ে আনে’।

উমর রাযি. বলেন, ‘যে তাওবার ফলে মানুষ গুনাহের দিকে আর ফিরে যায় না’। সংক্ষেপে বলা যায় তাওবায়ে নাসূহা হলো, যে তাওবায় নিম্নবর্ণিত পাঁচটি গুণ পাওয়া যায় :

এক. একনিষ্ঠতার সাথে তাওবা করা। তাওবায় আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ও তাঁর মাহাত্ম্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাঁর কাছে কল্যাণের আশা করা এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় পাওয়া ইত্যাদির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরী। এ ছাড়া তাওবা দ্বারা পার্থিব কোন বস্তু কামনা না করা অথবা সৃষ্টজীবের কাছে কিছু প্রার্থনা না করা। যদি এরূপ করা হয় তবে সে ব্যক্তির তাওবা কবুল হবে না, বরং ধরা হবে যে, সে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তাওবা করেছে। সে আল্লাহর কাছে ঐকান্তিকভাবে তাওবা করেনি বরং সে একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেকে কেন্দ্র করে তাওবা করেছে।

দুই. কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া ও হীনতা প্রকাশ করা এবং এ মনোভাব প্রকাশ করা যে, এ তাওবা কবুল না হলে পুরো জীবনটাই বৃথা যাবে। সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা গুনাহের জন্য যে শাস্তি নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা স্মরণ করা এবং সে ব্যাপারে আতঙ্কিত হওয়া।

তৃতীয়. অতি দ্রুত গুনাহের কাজ ত্যাগ করা। কেননা বিলম্ব হলে অপরাধে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা থেকে যায়। যদি কোন ফরয বা ওয়াজিব ছেড়ে দিয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তা সম্পাদন করে নিবে। যেমন যাকাত, হজ ইত্যাদি। কোনো গুনাহে নিমজ্জিত থাকাবস্থায় তাওবা করে কোনো লাভ নেই। যেমন কেউ সুদ খাওয়া থেকে তাওবা করল কিন্তু সর্বদা সুদের কাজ-কর্মে জড়িত রইল এ ধরনের তাওবা দ্বারা কোন লাভ হবে না বরং তার তাওবা হবে হাসি-তামাশা ও বিদ্রুপের নামান্তর। এর দ্বারা সে আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের সাথে তাচ্ছিল্যপুর্ণ আচরণ করল, যা তাকে আল্লাহর রহমত থেকে আরো দূরে সরিয়ে দেবে। কিংবা কেউ তাওবা করল যে, কখনো সে জামাতের সাথে নামায ত্যাগ করবে না, তার পরেও সে জামাত ত্যাগ করতে থাকলো, এমতাবস্থায় তার এ তাওবায় আদৌ কোনো ফল হবে না।

যদি কেউ মানুষের কোন হক নষ্ট করে থাকে, তবে সে হক আদায় করার পরই তাকে তাওবা করতে হবে, অন্যথায় তার তাওবা সঠিক বলে গণ্য হবে না। যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে হস্তগত করে অথবা তার কাছে থাকা অন্যের সম্পদ অস্বীকার করে, তবে উক্ত ব্যক্তির সম্পদ ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তাওবা শুদ্ধ হয়েছে বলে গণ্য হবে না। যদি উক্ত সম্পদের মালিক মারা গিয়ে থাকে, তবে তার উত্তরাধিকারীদের কাছে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনো উত্তরাধিকারী জীবিত না থাকলে বাইতুল মালে তা জমা করতে হবে। আর যদি কোনো উপায় খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে ওই ব্যক্তির নামে তা সদকা করে দিতে হবে। যদি কোনো মুসলমানের গীবত করে অপরাধ করে থাকে, তবে তার গীবত ত্যাগ করে তারপর তাওবা করা জরুরী।

চার. কৃত অপরাধে পুনরায় ফিরে না যাওয়ার সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি কেউ বলে, আমি তাওবা করেছি এবং সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আর কখনো ওই অপরাধ করব না, কিন্তু সে বারবার একই অপরাধ করতে থাকে, তবে তার তাওবা কবুলযোগ্য হবে না। কারণ, তার এ তাওবা হচ্ছে সাময়িক তাওবা, যার দ্বারা দীন বা দুনিয়ার কোনো উপকারের সম্ভাবনা নেই।

পাঁচ. তাওবা কবুলের সময় শেষ হওয়ার আগেই তাওবা করা। তাওবা কবুলের সময় শেষ হয় দু’ভাবে: সবার জন্য এক সাথে। নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য এককভাবে।

ক) পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয় হলে সবার ক্ষেত্রে তাওবার সময় শেষ হয়ে যাবে। তখন আর কারো তাওবা কাজে আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لا يَنْفَعُ نَفْساً إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْراً}

‘ যেদিন তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু প্রকাশ পাবে, সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার ঈমান উপকারে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি, কিংবা সে তার ঈমানে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি’ (সূরা আল আনআম:১৫৮)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পশ্চিম দিকে সূর্য উদয় হওয়ার আগে তাওবা করবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করবেন’ (মুসলিম)

খ) মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে আর তাওবা কবুলের সুযোগ থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآن}

‘ আর তাওবা নাই তাদের, যারা অন্যায় কাজ করতে থাকে অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু এসে যায়, তখন সে বলে, আমি এখন তাওবা করলাম’ (সূরা আন-নিসা:১৮)।

আবদুল্লাহ ইবন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার তাওবা কবুল করে থাকেন যতক্ষণ না রুহ বের হয়ে যাওয়ার গরগর শব্দ শুরু হয়’ (তিরমিযী)।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওবা করার সময় উযু করে দু’রাকাত নামায পড়ার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : ‘কোনো ব্যক্তি যদি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে উযু করে, অতঃপর দু’রাকাত নামায পড়ে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই মাফ করে দিবেন’ (আহমদ)। এ হাদীসের সত্যতার পক্ষে আরেকটি হাদীস রয়েছে। আর তা হলো- উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমাদের মধ্যে যদি কেউ উত্তমরূপে উযু করে, এবং বলে :

(أَشْهَدُ أنَّ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ)

তাহলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য বেহেশতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেন’ (মুসলিম)।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওবা করার তাওফীক দান করুন।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ, أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى المَبْعُوْثِ رَحْمَةً لِلْعَالَمِيْنَ، نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ الصَّادِقِ الْأَمِينِ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ، وَالتَّابِعِيْنَ وَتَابِعِيْهِمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

তাওবার ফলাফল

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! তাওবা মানুষকে পরিশুদ্ধ করে শাশ্বত সৌভাগ্য এবং দুনিয়া ও আখেরাতে হায়াতে তাইয়েবার অধিকারী বানায়। ইরশাদ হয়েছে :

{مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}

‘ যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব’ (সূরা আন-নাহল:৯৭)

পবিত্র কুরআনের উল্লিখিত আয়াতে নেক আমলের কথা বলা হয়েছে। আর নেক আমল হলো যার মধ্যে নিম্নলিখিত তিনটি শর্ত পাওয়া যায় :

এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ মুতাবিক হওয়া। ইরশাদ হয়েছে :

{وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ}

‘ রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর’ (সূরা আল হাশর:৭)

দুই. একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ হয়ে আমল করা। ইরশাদ হয়েছে :

{وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ}

‘আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে’ (সূরা আল বাইয়িনাহ:৫)

তিন. সঠিক আকীদা পোষণ করে আমল করা। ইরশাদ হয়েছে :

{مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}

‘ যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব’ (সূরা আন-নাহল:৯৬)

উক্ত আয়াতে নেক আমল করার সাথে সাথে মুমিন হওয়ার শর্ত করা হয়েছে। আর মুমিন হলো সে, যার আকীদাগত সঠিক ভিত্তি রয়েছে।

তাওবার একটি সুফল হলো : নিরাপত্তা ও হিদায়াত লাভ। ইরশাদ হয়েছে :

{الَّذِينَ آَمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ}

‘ যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্রণ করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত’ (সূরা আল আনআম:৮২)

পাপকর্ম পূন্যে রূপান্তরিত হওয়া তাওবার আরেকটি সুফল: ইরশাদ হয়েছে :

{إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا}

‘ আর যে তাওবা করে এবং সৎকাজ করে তবে নিশ্চয় সে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে’ (সূরা আল ফুরকান: ৭০)

আল্লাহর রেযামন্দী অর্জনে ধন্য হওয়াও তাওবার একটি সুফল: ইরশাদ হয়েছে :

{وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ}

‘ আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজদের প্রতি যুলম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবে ? আর তারা যা করেছে, জেনে শুনে তা তারা বার বার করে না’ (সূরা আলে ইমরান:১৩৫)।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! সঠিকভাবে তাওবা করতে পারলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সকল পাপ মোচন করে দেন। কেননা তিনি গাফূর ও গাফ্ফার তিনি রহমান ও রাহীম। ইরশাদ হয়েছে :

{قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ}

‘ বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার:৫৩)

এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কবীরা গুনাহে অপরাধী ব্যক্তি- মুসলমান, কাফির নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءاً أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُوراً رَحِيماً}

‘আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা:১১০)।

অতএব, আমার ভাইয়েরা! আমরা যারা গুনাহে লিপ্ত, চলুন অতি দ্রুত তাওবা করে নিই। আল্লাহর কাছে সকল অন্যায় অপরাধের জন্য ক্ষমা চাই। নিশ্চয় তিনি অতি দয়ালু পরম ক্ষমাশীল।

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الطِّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ, আমাদেরকে আপনি তাওবায়ে নাসূহার তাওফীক দান করুন। আমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দিন। আমাদেরকে আপনি পূত-পবিত্র করুন। আমাদের গুনাহগুলোকে আপনি ছাওয়াবে রূপান্তরিত করুন। আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকীমের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.