পাঠ সংক্ষেপ

ইসলাম ধর্মে এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ওপর অনুমান ও মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে বারণ করা হয়েছে। পরস্পরের প্রতি ভালো ধারণা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে সকল প্রকার সংশয়-সন্দেহ থেকে দূরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়ে কারো সম্পর্কে মুখে কিছু উচ্চারণ তো করা যাবেই না, উপরন্তু মন্দ ধারণা সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে তা থেকে সরে আসা এবং হৃদয়ের ভিতরে থাকা অবস্থায়ই তা দূর করে ফেলার প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। আর এভাবে কুরআনুল কারীমে মানুষের অন্তরজগৎকে সকল প্রকার অনুমান ও মন্দ ধারণা এবং সন্দেহ-সংশয় থেকে পাক-সাফ করে হৃদয়কে স্বচ্ছ-শুভ্র রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে এক মুসলিমের হৃদয়ে অন্য মুসলিমের জন্য মন্দ ধারণার পংকলিতা এবং সন্দেহ-সংশয়ের আবিলতা মুক্ত নির্মল ও স্বচ্ছ ভালোবাসা বিদ্যমান থাকে।

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران:) أَمَّا بَعْدُ :

মুহতারাম হাযেরীন! আজ আমরা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, যার অশুভ পরিণতি আমরা ভোগ করে চলেছি ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবন পর্যন্ত। আর তা হলো অন্যের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা। এই মন্দ ধারণার কারণে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবন পর্যন্ত আমরা আজ অশান্তির আগুনে জ্বলছি। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন :

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ}

‘ হে ঈমানদারগণ, তোমরা অধিক ধারণা থেকে দূরে থাক । কারণ কোনো কোনো ধারণা পাপ। আর তোমরা একজন অন্যজনের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। আর একজন অন্যজনের গীবত করো না’ (সূরা আল-হুজুরাত:১২)

এই আয়াতে কারীমায় সর্বোচ্চভাবে একজন মুসলমানের সম্মান ও ইজ্জত রক্ষার আদেশ দেয়া হয়েছে। এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ওপর অনুমান ও মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে বারণ করা হয়েছে। পরস্পরের প্রতি ভালো ধারণা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে সকল প্রকার সংশয়-সন্দেহ থেকে দূরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়ে কারো সম্পর্কে মুখে কিছু উচ্চারণ তো করা যাবেই না, উপরন্তু মন্দ ধারণা সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে তা থেকে সরে আসা এবং হৃদয়ের ভিতরে থাকা অবস্থায়ই তা দূর করে ফেলার প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। আর এভাবে কুরআনুল কারীমে মানুষের অন্তরজগৎকে সকল প্রকার অনুমান ও মন্দ ধারণা এবং সন্দেহ-সংশয় থেকে পাক-সাফ করে হৃদয়কে স্বচ্ছ-শুভ্র রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে এক মুসলিমের হৃদয়ে অন্য মুসলিমের জন্য মন্দ ধারণার পংকলিতা এবং সন্দেহ-সংশয়ের আবিলতা মুক্ত নির্মল ও স্বচ্ছ ভালোবাসা বিদ্যমান থাকে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :

(إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيْثِ، وَلَا تَحَسَّسُوْا وَلَا تَجَسَّسُوْا وَلَا تَحَاسَدُوْا وَلَا تَدَابَرُوَا وَلَا تَبَاغَضُوْا وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَاناً)

‘ তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, ধারণাভিত্তিক কথা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান করো না আর তোমরা পরস্পর হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং পরস্পর শত্রুতা ও দুশমনি পোষণ করো না বরং হে আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে থাকো’ (বুখারী)।

মুহতারাম হাযেরীন! মন্দ ধারণা কখনই কোন কল্যাণ বয়ে আনে না বরং তা হিংসা -বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি করে, পাস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করে দেয়। যে মন্দ ধারণা পোষণ করে সে গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে। আর এক গুনাহ অন্য গুনাহর দিকে টেনে নেয়। এভাবে মন্দ ধারণা পোষণকারী বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধ ও পাপে জড়িয়ে পড়ে। আর পরিণতিতে এ মন্দ ধারণাই তার জন্য লাঞ্ছনা ও অনুশোচনার কারণ হয়। ইসলামের শুরুর যুগে অসহায়, দুর্বল মুসলমানদের সাথে যারা বিদ্রুপ করত এবং তাদের সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করত, শুনুন সেই মন্দ ধারণা পোষণকারীদের সম্পর্কে কুরআন কী বলছে :

{وَقَالُوا مَا لَنَا لَا نَرَى رِجَالًا كُنَّا نَعُدُّهُمْ مِنَ الْأَشْرَارِ. أَتَّخَذْنَاهُمْ سِخْرِيًّا أَمْ زَاغَتْ عَنْهُمُ الْأَبْصَارُ}

‘ জাহান্নামে যাওয়ার পর) তারা বলবে, আমাদের কী হলো! যাদেরকে আমরা মন্দ বলে গণ্য করতাম তাদেরকে তো দেখতে পাচ্ছি না, তবে কি আমরা অহেতুক তাদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রƒপের পাত্র মনে করতাম, না তাদের বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে?’ (সূরা সাদ:৬২-৬৩)

আর দুনিয়ার অসহায় মুসলিমদের অবস্থা আখিরাতে কী হবে পবিত্র কুরআন তাও বর্ণনা করেছে। শুনুন কুরআনের ভাষায় :

{فَالْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ . عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ . هَلْ ثُوِّبَ الْكُفَّارُ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ.}

‘অতএব আজ মুমিনরাই কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে। উচ্চ আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হলো তো?’ (সূরা আল-মুতাফফিফীন: ৩৪-৩৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন :

{زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ. }

‘ কাফিরদের জন্য পার্থিব জীবনকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে, তারা ঈমানদারদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে কিন্তু যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে কিয়ামতের দিন তারা কাফিরদের ওপরে থাকবে’ (সূরা বাকারা:২১২)

মুহতারাম হাযেরীন! আমাদের কর্তব্য ছিলো, নিজদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত ও সুদৃঢ় রাখা এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্ব-বন্ধনকে পর্বতের মত অটল, অবিচল রাখা। সবার সাথে হাসিমুখে, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হৃদয়ে কথা বলা এবং দেখা-সাক্ষাৎ করা। মুআমালাত ও মুআশারাতের ক্ষেত্রে ভালো ও সুধারণা পোষণ করা। আর অন্যের কাজ-কর্ম দেখার সময় ভালো ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখা কিন্তু আমরা যদি গভীরভাবে লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাব বিভিন্ন সন্দেহ-সংশয় ও মন্দ ধারণা পোষণের কারণে মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক আজ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ইসলামী ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন টুটে গেছে। আজ মুসলমানদের সাধারণ মজলিস থেকে শুরু করে বিশেষ মজলিস সর্বত্রই শুনতে পাওয়া যায় ধারণা ও অনুমানভিত্তিক আলাপ-আলোচনা। অমুক লোক এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, অমুক লোক এ ভালো কাজ করতেই পারে না, অবশ্যই তার কোনো গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এই ধারণা ও অনুমান এবং সন্দেহ-সংশয় সমাজে ঘৃণা ও নিন্দার উনুনে জ্বালানী সরবরাহ করছে। ফলে সমাজের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে অন্যের বিষয়ে সংশয়- সন্দেহ দানা বাঁধছে এবং ঘৃণা ও অবজ্ঞার সৃষ্টি করছে। ফলে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, আত্মীয়তার বন্ধন কেটে যাচ্ছে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। এমনকি সমাজে ঘটে-যাওয়া ছোট-বড় ঘটনা ও দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই সন্দেহ-সংশয় ও মন্দ ধারণা ফলাফল হিসেবেই ঘটছে।

কারো মধ্যে যখন মন্দ ধারণা পোষণের ধ্বংসাত্মক ব্যাধি অনুপ্রবেশ করে তখন সে ব্যাধি খুব দ্রুত তাকে অন্যের প্রতি অপবাদ আরোপে উদ্বুদ্ধ করে ফলে সে অন্যের দোষ-ত্রুটি ও গোপন বিষয় অনুসন্ধানের ঘৃণিত কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই দেখা যায়, কেউ যখন মন্দ ধারণা পোষণ করে তখন সে বলে ঘটনাটি আমি যাচাই করে দেখব। এরপরই সে অন্যের গোপন বিষয় জানার ঘৃণিত কাজে লেগে পড়ে এবং গীবত শুরু করে দেয়। তখন শুধু অন্যের মন্দ দিকগুলোই সে আলোচনা করে। এভাবে সে পাপের বোঝা ভারী করতে থাকে এবং ধ্বংসাত্মক সব অন্যায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মুহাতারাম হাযেরীন! অবস্থা যখন এই পর্যায়ে চলে যায় তখনই ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের শংকা দেখা দেয়। কারণ অন্যের বিষয়ে ভালো ধারণা পোষণের পরিবর্তে মন্দ ধারণা পোষণ করতে থাকার অর্থ মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক মন্দ ধারণা ও অনুমানের ওপর গড়ে উঠা। আর এ অবস্থা যখন ব্যাপক হয়ে যাবে তখন একজন অন্যজনকে ভিত্তিহীন অপবাদ দিতে থাকবে ফলে সমাজের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং নিজদের মাঝে হিংসা- বিদ্বেষ ও শত্রুতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হতে থাকব। আর এসব কিছু আমাদেরকে দুর্বল ও হীনবল করে ছাড়বে এবং আমাদের শক্তি নিঃশেষ করে দিবে। আল-কুরআন চৌদ্দশ’ বছর আগেই সুস্পষ্ট ভাষায় আমাদেরকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছে। ইরশাদ হয়েছে :

{وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ}

‘ আর তোমরা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য কর। পরস্পর ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ো না। তাহলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন’ (সূরা আল আনফাল : ৪৬)।

মুহতারাম হাযেরীন! অন্যকে মন্দভাবে মূল্যায়ন অন্যের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা এবং অন্যের প্রতি বিরূপ মন্তব্য করাই হলো পারস্পরিক ভালোবাসা নষ্ট ও শত্রুতা সৃষ্টির কারণ। আমি যদি মুসলিম ভাই সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করি এবং মুসলিম ভাইকে যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করি তাহলে অবশ্যই আমাদের মাঝে হৃদ্যতা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি হবে এবং আমাদের ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন সুদৃঢ় ও মজবুত হবে। আর যদি এর বিপরীত করি তাহলে নিজদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্র“তা সৃষ্টি হবে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বলতে আমাদের মাঝে কিছুই থাকবে না। তখন শত্র“রা আমাদেরকে ভূনা গোশতের মত মজা করে চিবিয়ে খাবে। আর বর্তমানে হচ্ছেও তাই। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব কলহে আমাদের শক্তি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে শত্র“পক্ষ আমাদেরকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তাই আসুন, মহব্বত ধ্বংসকারী দোষ-ত্র“টি থেকে আমরা বেঁচে থাকি এবং ভালোবাসা সৃষ্টিকারী গুণগুলোকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরি। ইনশাআল্লাহ দুনিয়া - আখিরাতে আমরাই কামিয়াব হবো।

মুহতারাম হাযেরীন! উলামায়ে কেরাম লিখেছেন, মন্দ ধারণা তাকেই বলে যে ধারণার স্বপক্ষে বাহ্যিক কোন কারণ কিংবা সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ নেই। এমন ধারণাকেই কুরআন-হাদীসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। সুতরাং বাহ্যিকভাবে যার মধ্যে সততা, সত্যবাদিতা ও আমানতদারী পরিলক্ষিত হয় তার সম্পর্কে ফাসাদ ও খিয়ানতের ধারণা পোষণ করা হারাম বলে বিবেচিত হবে। তবে যদি কারো মধ্যে সুষ্পষ্টভাবে খিয়ানত পরিলক্ষিত হয় এবং তার স্বভাব-প্রকৃতিও মন্দ হয়, আর এ ব্যাপারে যদি সমাজে তার কুখ্যাতিও থাকে তাহলে এমন লোক সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করা হারাম হবে না। এজন্যই কোনো কোনো আলিমের অভিমত হলো, বাহ্যিকভাবে যার অবস্থা ভালো তার সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ না করা। তবে যার বাহ্যিক অবস্থা ভালো নয়, তার সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করা জায়েয। সাঈদ ইবনুল মুসামইয়িব রহ. থেক বর্ণিত, তিনি বলেন :

(كَتَبَ إِلَيَّ بَعْضُ إِخْوَانِيْ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ أَنْ ضَعْ أَمْرَ أَخِيْكَ عَلَى أَحْسَنِهِ مَا لَمْ يَأْتِكَ مَا يَغْلِبُكَ، وَلَا تَظُنَّنَّ بِكَلِمَةٍ خَرَجَتْ مِنْ امْرِئٍ مُسْلِمٍ شَرًّا، وَأَنْتَ تَجِدُ لَهَا فِيْ الْخَيْرِ مَحْمَلاً)

‘ আল্লাহর রাসূলের সাহাবীদের একজন আমার কাছে লিখে পাঠালেন যে, অন্যের বিষয়গুলোকে উত্তম ব্যাখ্যার সাথে গ্রহণ কর যতক্ষণ না তোমার কাছে এমন প্রমাণ পৌঁছে, যা উত্তম ব্যাখ্যা করার সকল সুযোগ রহিত করে দেয়। বক্তার বক্তাকে ভালো উদ্দেশ্যে নেয়ার সামান্য সুযোগও যদি থাকে তাহলে কোনো মুসলিম ভাইয়ের কথায় মন্দ ধারণা পোষণ করো না’ (বাইহাকী)।

কারো বিষয়ে কোনো ধারণা পোষণ ও মন্তব্যের ক্ষেত্রে এটাই ছিলো সালাফে সালেহীন বা আমাদের নেককার পূর্বসুরীদের অনুসৃত নীতি।

আসলে কারো কথা ও কাজ থেকে কোনো ধারণা নেয়ার ক্ষেত্রে মূল গুরুত্বের বিষয় হলো বক্তা ও কর্তার উদ্দেশ্য ও নিয়ত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ অন্য কারো কথা বা কাজের বিপরীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো মোটেই খেয়াল রাখে না। বক্তা ও কর্তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, তাদের উদ্দেশ্য ও নিয়ত ইত্যাদি বিবেচনা না করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলে। অথচ অনেক সময় এমনও হয় যে, মন্দ কোন শব্দ বা বাক্য মুখ ফসকে বের হয়ে গেছে। কিন্তু বক্তার মন্দ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আবার অনেক সময় বক্তার ব্যবহৃত শব্দ শ্র“তিমধুর হয় কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে মন্দ। যেমন ইবনুল কায়্যিম রহ. উল্লেখ করেন, ‘একই কথা দুই ব্যক্তি বলে কিন্তু এ কথার মাধ্যমে একজন চূড়ান্ত বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার ইচ্ছা করে অন্যজন সর্বোচ্চ সংশোধন ও ইসলাহের ইচ্ছা করে’। এখন কার উদ্দেশ্য কী? এটা বোঝা যাবে কিভাবে? এটা বুঝতে হবে বক্তার কথার ধরণ, বক্তার চাল-চলন ও মতাদর্শ থেকে। এজন্যই আনন্দের আতিশয্যে কেউ যদি বলে ফেলে

اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِيْ وَأَنا رَبُّكَ

হে আল্লাহ আপনি আমার বান্দা, আর আমি আপনার রব’ তাহলে এই ব্যক্তিকে কাফির বলা যাবে না। কারণ এ কথার মাধ্যমে সে নিজকে ইলাহ দাবি করার ইচ্ছা করেনি বরং অতি আনন্দের কারণে উল্টো কথা তার মুখ ফসকে বের হয়ে গিয়েছে।

মুহতারাম হাযেরীন! ধারণা পোষণের ক্ষেত্রে উল্লিখিত নীতিই প্রান্তিকতা ও বেইনসাফী থেকে মুসলমানদেরকে বাঁচায়। সালাফে সালেহীন এ নীতির ওপর অটল ছিলেন এবং পরবর্তী মুসলিম উম্মাহর অনাগত সদস্যদের জন্যও তারা দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। হায় আফসোস! আজ আমরা কোথায় আর সালাফে সালেহীনের নীতি কোথায়? সালাফে সালেহীন অন্যের হোঁচট খাওয়ায়, তার স্খলনে, আনন্দ প্রকাশ করতেন না এবং আচার-আচরণে ও লেনদেনের ক্ষেত্রে কারো প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করতেন না। আর সালাফে সালেহীন মর্ম ও উদ্দেশ্যের বিবেচনা করতেন, শব্দের বিবেচনা করতেন না। তাই তো জনৈক আলিম বলেছেন, ‘অনেক সময় বক্তব্যের শব্দগুলো হয় কর্কশ কিন্তু উদ্দেশ্য হয় ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করা। আবার কখনো কখনো কোনো কাজকে অপছন্দনীয় মনে হয় তবে তা না করেও কোনো উপায় থাকে না।

কথা ও কাজের ক্ষেত্রে মর্ম ও উদ্দেশ্যই যেহেতু মূল বিবেচ্য বিষয়, সেহেতু অন্যের কথা ও কাজের মর্ম ও উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা না করে, কোনো ওজর বা সমস্যা ছিলো কি না তা তালাশ না করে অন্যের কথা ও কাজের মন্দ দিকটাকে বড় করে প্রকাশ করাই হলো মন্দ ধারণা। যেসব কথার দুটি মর্ম হতে পারে- একটি ভালো আর অপরটি মন্দ। সে ক্ষেত্রে মন্দ দিকটি প্রাধান্য দেয়া কী করে বৈধ হতে পারে? আর মনের খবর জানা এবং সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার তো কোন মানুষের নেই। মানুষের মনের সুপ্ত বিষয় ও গোপন ইচ্ছা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। সুতরাং এসব বিষয়ে হিসাব-নিকাশের অধিকারও একমাত্র আল্লাহর। মানুষের কর্তব্য হলো জাহির বা বাহ্যিক অবস্থার ওপর সিদ্ধান্ত দেয়া। আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা রহ. বর্ণনা করেন, আমি উমর রাযি. কে বলতে শুনেছি:

(إِنَّ أُنَاسًا كَانُوا يُؤْخَذُونَ بِالْوَحْيِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ وَإِنَّ الْوَحْيَ قَدِ انْقَطَعَ، وَإِنَّمَا نَأْخُذُكُمُ الْآنَ بِمَا ظَهَرَ لَنَا مِنْ أَعْمَالِكُمْ، فَمَنْ أَظْهَرَ لَنَا خَيْرًا أَمِنَّاهُ وَقَرَّبْنَاهُ وَلَيْسَ إِلَيْنَا مِنْ سَرِيرَتِهِ شَيْءٌ اللَّهُ يُحَاسِبُهُ فِي سَرِيرَتِهِ، وَمَنْ أَظْهَرَ لَنَا سُوءًا لَمْ نَأْمَنْهُ وَلَمْ نُصَدِّقْهُ، وَإِنْ قَالَ إِنَّ سَرِيرَتَهُ حَسَنَةٌ)

‘নবী আলাইহিস সালামের যামানায় লোকদের বিষয়ে ওহীর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হত। আর এখন ওহী বন্ধ হয়ে গেছে। তাই আমরা তোমাদের বিষয়ে বাহ্যিক আমল দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। সুতরাং আমাদের সামনে যে ভালো কাজ প্রকাশ করবে তাকে নিরাপত্তা দেব এবং নৈকট্য দান করব। তার গোপন বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের কোন দায়িত্ব নেই। আর যে আমাদের সামনে মন্দ প্রকাশ করবে আমরা তাকে বিশ্বাস করব না এবং নিরাপত্তাও দিব না। যদিও সে বলে যে, তার গোপন দিকটা ভালো’ (বুখারী)

সুতরাং মুহতারাম হাযেরীন! আমাদের উচিৎ নিজদের কথা ও কাজের হিসাব নেয়া, কার ব্যাপারে কি ধারণা পোষণ করছি তার হিসাব নেয়া। কার ব্যাপারে কী মন্তব্য করছি তা খুঁটিয়ে দেখা। আর সব সময় কুরআনের এ আয়াতটি স্মরণ রাখা :

{وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا}

‘যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান (বা জানা শোনা) নেই সে বিষয়ের পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয় প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে’ ( সূরা আল ইসরা:৩৬)

قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِي وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوْهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الْرَّحِيْمُ

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِيْنَ وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِيْنَ ، أَمَّا بَعْدُ:

মুহতারাম হাযেরীন! মন্দ ধারণা সৃষ্টি হওয়ার বাহ্যিক কিছু কারণ উলামায়ে কেরাম চি‎িহ্নত করেছেন। এ কারণগুলো থেকে যদি আমরা বেঁচে থাকতে পারি তাহলে মন্দ ধারণা পোষণের এ ভয়ানক ব্যাধি থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারব ইনশাআল্লাহ। মানুষ যখন মন্দ চরিত্রের অধিকারী এবং মন্দ ধারণা পোষণকারী লোকদের পরিবেশে বেড়ে ওঠে তখন তার মাঝেও এ অশুভ প্রকৃতি লালিত হয়। আর খারাপ বন্ধু-বান্ধবের সাথে ওঠা-বসা করলেও মানুষের মধ্যে বিভিন্ন মন্দ গুণের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মানুষ যখন নফসের অনুসরণ করে তখনও সে ভিত্তিহীন ধারণা পোষণে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কেননা কোন কিছুর ভালোবাসা সেক্ষেত্রে মানুষকে অন্ধ ও বধির বানিয়ে দেয়। তাই দেখা যায় নফসের অনুসরণ করে মানুষ যখন কারো প্রতি ঝুঁকে পড়ে তখন সে ঝোঁক ও আকর্ষণ তাকে সেই ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি ভুলিয়ে দেয়।

ফলে সে আর ঐ ব্যক্তির দোষ-ত্র“টি দেখতে পায় না। আর এই ঝোঁক ও আকর্ষণ তাকে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে সুধারণা পোষণে উদ্বুদ্ধ করে যদিও বাস্তবে ঐ ব্যক্তি ভুল করে থাকে। অপর দিকে মানুষকে যখন কেউ রাগিয়ে দেয়, তখন সে ঐ লোককে আর ভালোবাসে না। আর কারও প্রতি হৃদয়ের ঝোঁক হারিয়ে ফেলাই ঐ লোক সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করা এবং ঐ লোকের ভুল-ত্রুটি তালাশে প্ররোচিত করে। যদিও বাস্তবে লোকটি সৎ ও নির্দোষ হয়।

এমন মানুষ অহরহই পাওয়া যায়, যে নিজের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ ও ধোকাগ্রস্ত। ফলে সব সময় সে মনে করে, আমি হকের ওপর আছি, আর অন্যরা আছে বাতিলের উপর। সে নিজকে পবিত্র ভাবে এবং অন্যদেরকে দেখে ঘৃণার চোখে। এ প্রকৃতিটি তার মধ্যে অন্যের প্রতি ভয়ানক ধরণের মন্দ ধারণা পোষণের মানসিকতা তৈরি করে।

মুহতারাম হাযেরীন! বর্তমান যুগে মুসলিম সমাজে মন্দ ধারণা পোষণের ব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটা এমন এক মহাবিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে, যা মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সংহতি ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং মুসলমানদের সামাজিক শক্তি করে দিচ্ছে। ফলে মুসলমানরা অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় দারুনভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

মুহতারাম হাযেরীন! নিশ্চয়ই মন্দ ধারণা, প্রকৃত অবস্থা না জেনেই কারও ওপর দ্রুত অভিযোগ চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা, আমাদের সময়ের অনেক মানুষকেই আতঙ্কগ্রস্ত করেছে এবং করছে। মন্দ ধারণার কারণে অনেক সালেহ ও নেককার ব্যক্তিকে মানুষ বর্জন করছে যদিও এ বর্জনের পেছনে শরীয়তসিদ্ধ আদৌ কোনো কারণ নেই। এমনকি সে ব্যক্তি নিজেও তার সাথে অন্যের শত্র“তার কোনো কারণ খুঁজে পায় না। আর এসবই ঘটে পাপাশ্রিত অনুমান ও ধারণার কারণে গীবত ও মিথ্যাচারে মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কারণে। আর এভাবেই নিরপরাধ ব্যক্তিরা শিকার হচ্ছে কষ্ট-যাতনার, যা প্রকাশ্য পাপ ও অন্যায়। ইরশাদ হয়েছে :

{وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا}

‘ যারা মু’মিন নর-নারীকে যন্ত্রণা দেয় এমন অপরাধের কারণে যা তারা করেনি, তারা অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করবে’ (সূরা আল-আহযাব: ৫৮)।

মুহতারাম হাযেরীন! আমাদের কাছে যখন সুস্পষ্ট হয়ে গেলো যে, মন্দ ধারণা একটি ধ্বংসাত্মক বিপদ তখন এর প্রতিকার আবশ্যক, যেন এ ব্যাধি প্রকট আকার ধারণ করতে না পারে এবং আমাদেরকে ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে না পারে।

মন্দ ধারণা থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো, যে কোন অবস্থায় মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করা। আর কারো সম্পর্কে কোন মতামত বা সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে ভালো করে চিন্তা ভাবনা করা এবং মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। কারণ মন্দ ধারণা করে ভূল করার চেয়ে সুধারণা পোষণ করে ভুল করা উত্তম। উমর রাযি. বলেন :

وَلَا تَظُنَّنَّ بِكَلِمَةٍ خَرَجَتْ مِنْ امْرِئٍ مُسْلِمٍ شَرًّا، وَأَنْتَ تَجِدُ لَهَا فِيْ الْخَيْرِ مَحْمَلاً

‘ তোমার মু’মিন ভাইয়ের কথার যদি ভালো উদ্দেশ্য গ্রহণের কোন অবকাশ পাও তাহলে মন্দ উদ্দেশ্য গ্রহণ করো না’।

মন্দ ধারণা থেকে পরিত্রাণের আরেকটি উপায় হলো খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে মানুষের দোষ-ত্র“টি তালাশ না করা। মন্দ ধারণা সৃষ্টি হয় এমন কোনো কাজ যদি কেউ করেও বসে, তাহলেও মনে করা যে, বৈধ কোনো ওজর বা অপারগতাবশত হয়তো সে এরূপ করেছে।

মানুষের বাহ্যিক ও প্রকাশ্য অবস্থার ওপর নির্ভর করেই কারো সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করা। আর যা কিছু অভ্যন্তরীণ-অপ্রকাশ্য তা আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা। আর নিজের ছেলে-সন্তানকে মানুষের ব্যাপারে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ইসলামী শিষ্টাচার ও আদব-আখলাকের অনুকরণ অনুসরণের ওপর গড়ে তোলা। ওপরে বর্ণিত বিষয়গুলোর চর্চা ও অনুসরণ মন্দ ধারণা পোষণ ও তার বিধ্বংসী পরিণতি থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে হিফাযত করবে বলে আশা করা যায়। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল প্রকার মন্দ ধারণা থেকে হিফাযত করুন। মন্দ কাজ ও কথা থেকে হিফাযত করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে পরিচ্ছন্ন হৃদয় ধারণ করার তাওফীক দান করুন। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল প্রকার গুনাহ থেকে আপনি আমাদের হিফাযত করুন। হে আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহকে আপনি হিফাযত করুন। মুসলিম উম্মাহর ওপর থেকে সকল বালা-মুসিবত উঠিয়ে নিন। মুসলিমবিশ্বকে আপনি দারিদ্র্য মুক্ত করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ: (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ