পাঠ সংক্ষেপ

খুতবার উদ্দেশ্য : ১ - ইসলামী মূল্যবোধ ও আখলাককেন্দ্রিক তরবিয়ত, ২- অসৎ সঙ্গী থেকে হুঁশিয়ার করা ও মুমিনদের সঙ্গ অবলম্বনের নির্দেশ, ৩ - কন্যা সন্তানের তরবিয়ত ও চরিত্রগঠন এবং তাদের সঙ্গ দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَرْسَلَ رَسُوْلَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ؛ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الْدِّيْنِ كُلِّهِ، وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ. وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَمَّا بَعْدُ :

সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস

অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।

মুসল্লিয়ানে কেরাম! ইসলাম একটি স্বভাবজাত ধর্ম। যাদের সৃষ্টিগত ফিতরত অপরিবর্তনীয় রয়েছে এবং যাদেরটা বদলে গেছে উভয়ের জন্যই ইসলাম সমানভাবে উপযোগী। উপরন্তু উভয় প্রকার স্বভাবের জন্য ইসলাম একটি প্রতিষেধকও বটে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

كُلُّ مَوْلُوْدٍ يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ وَإِنَّمَا أَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ وَيُمَجِّسَانِهِ

‘প্রতিটি সন্তান ফিতরত তথা ইসলাম নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহূদি, খৃস্টান বা অগ্নীপূজক বানায়।’

এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে সঙ্গদোষে মানুষের স্বভাবজাত ফিতরতে পরিবর্তন আসে। ফিতরত তার স্বচ্ছতা হারিয়ে, সরল পথ হারিয়ে ভিন্ন পথে চলতে শুরু করে।

মানুষ সঙ্গীবিহীন একাকী জীবনযাপন করতে পারে না। সে কারণেই মানুষকে সামাজিক জীব বলা হয়। মানবপ্রকৃতি সঙ্গী তালাশ করে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা আদম আ. এর জন্য মা হাওয়া কে সৃষ্টি করেন, যাতে তিনি তার কাছে মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন। তিনি তাকে একা রাখেননি। তিনি ইরশাদ করেন:

{هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا}

‘তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে বানিয়েছেন তার সঙ্গিনীকে, ’ (সূরা আল আরাফ : ১৮৯)।

মানুষ অন্যদের সাথে মিলেমিশে থাকতে চায়। অন্যদের সাথে সহযোগিতাপূর্ণ জীবনযাপন করতে চায়। ইসলাম মানুষের এই স্বভাবকে বাতিল করে দেয়নি, বরং তা আরো বেশী করে লালন করেছে। আরো জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সামাজিকভাবে পালনীয় ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধানসমূহ এদিকেই ইঙ্গিত করে। যেমন জুমার নামায , জামাআতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়, দুই ঈদ ও কুসূফের নামায ইত্যাদি। উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রেই অন্যদের সাথে একত্রিত হতে হয়, মিলিত হতে হয়। বিষয়টি এরকম নয় যে, ইচ্ছে হলে মিশব ইচ্ছে না হলে মিশব না। বরং বিষয়টি এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জামাতে শরীক হয়ে মিলিতভাবে নামায আদায় করার বিষয়টি আমরা সবাই জানি। এমনকি যেসব লোক জামাতে শরীক হয় না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

বুখারী ও মুসলিমে আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার ইচ্ছা হয়, আমি মুআজ্জিনকে আযান দিতে বলি। অতঃপর আমি কাউকে নির্দেশ দেই সে যেন লোকদেরকে নিয়ে জামাতে নামায পড়ে। তারপর আমি লাকড়ির বোঝাসহ কতিপয় লোককে নিয়ে ঐ সমস্ত কওমের কাছে যাই যারা জামাতে নামায পড়ে না। এবং সেখানে গিয়ে তাদের বাড়ীঘর আগুনে জ্বালিয়ে দিই।

অনুরূপভাবে মুসাফিরকে একাকী নয় বরং দলের সাথে সফর করতে উৎসাহিত করা এবং যে ব্যক্তি একাকী সফর করবে তাকে শয়তান বলে অভিহিত করার দ্বারাও সঙ্গী নির্বাচন করার বিষয়টি পরিস্কার হয়ে ওঠে। আমর ইবনে শুআইব রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে:

( الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ، وَالثَّلاثَةُ رَكْبٌ )

‘‘ একা সফরকারী এক শয়তান, দুই জন সফরকারী দুই শয়তান এবং তিন জন সফরকারী একটি যাত্রীদল বা কাফেলা’ (তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ)।

অতএব মানবজীবনের একটি অপরিহার্য বিষয় হলো, এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করা, যে বা যারা তাকে ভুলে গেলে স্মরণ করিয়ে দিবে, অমনোযোগী হলে সতর্ক করবে এবং কোনো কিছু না জানলে শিখিয়ে দিবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর দীন, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার বিধান দিয়েছেন যেমনটি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর ও তাঁর রাসূলের অপছন্দনীয় যাবতীয় কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে।

সুপ্রিয় মুসল্লিয়ান! বন্ধু বা সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তা হল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের সাথেই কেবল বন্ধুত্ব করা। যারা আল্লাহর শত্র“, রাসূলের শত্র“ তাদের সাথে সম্পর্ক বর্জন করা। ইরশাদ হয়েছে:

{ إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ }

‘ তোমাদের বন্ধু কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা নামায কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে বিনীত হয়ে’ (সূরা আল মায়েদা: ৫৫)।

অন্য আয়াতে তিনি বলেন:

{ وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ}

‘আর যে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ দলই বিজয়ী’ (সূরা আল মায়েদা: ৫৬)।

এ আয়াতের প্রতি ঈমানের একটি দাবি হল, সৎসঙ্গী গ্রহণ করা। যারা অসৎ, যারা আল্লাহ-বিদ্বেষী, রাসূল বিদ্বেষী, ইসলাম বিদ্বেষী তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা।

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:

{ لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آَبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ }

‘ যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে তুমি পাবে না এমন জাতিকে এমন লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করতে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধীতা করে, যদি সেই বিরুদ্ধবাদীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা জ্ঞাতিÑগোষ্ঠী হয় তবুও ’ (সূরা আল মুজাদালাহ: ২২)।

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলার শত্র“দেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি অন্যান্য আয়াতে আরো পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআ‘লার বাণী:

{ قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآَءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ }

‘ ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলছিল, ‘তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি এবং উদ্রেক হল আমাদের- তোমাদের মাঝে শত্র“তা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আন। ’ (সূরা মুমতাহিনাঃ ৪)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :

{ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ }

‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর। নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল’(সূরা আল ফাতহ: ২৯)।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন :

{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ }

‘হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দীন থেকে ফিরে যাবে তাহলে অচিরেই আল্লাহ এমন এক কাওমকে আনবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন এবং তারা তাঁকে ভালোবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনম্র এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে’ (সূরা মায়িদা : ৫৪)।

আরো ইরশাদ হয়েছে :

{ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ }

‘হে নবী, কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের ওপর কঠোর হও, আর তাদের ঠিকানা হল জাহান্নাম আর তা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান ’ (সূরা তাওবা ঃ ৭৩)।

উল্লিখিত আয়াতগুলোর বক্তব্য একটিই। আর তা হলো, সৎ ও মুমিন ব্যক্তিদেরকেই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা। যারা অসৎ এবং আল্লাহ ও রাসূলের শত্র“ তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা।

মানুষ যেমন বাঘ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে ঠিক তেমনি বুদ্ধিমান লোকেরা সব সময় খারাপ ও অসৎ লোকদের থেকে দূরে অবস্থান করে। কেননা খারাপ ও অসৎ লোকদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। শুধু তাই নয়, অসৎ ও মন্দলোকেরা এমন এক হতভাগার দল, যাদের সাথে উঠাবসাকারীরাও হতভাগায় পরিণত হয়। ইরশাদ হয়েছে:

{ وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا. يَا وَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا. لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولًا. }

‘আর সেদিন যালিম নিজের হাত দু’টো কামড়িয়ে বলবে, ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোন পথ অবলম্বন করতাম’! ‘হায় আমার দুর্ভোগ, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম’। ‘অবশ্যই সে তো আমাকে উপদেশবাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে তা আসার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক’ (সূরা ফুরকান : ২৭-২৯)।

তাফসীরকারকদের নিকট একথা প্রসিদ্ধ যে, যে জালেমের ব্যাপারে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল সে হলো, উকবা ইবনে আবী মু‘আইত। আর যে তাকে পথভ্রষ্ট করেছিল সে হলো উমাইয়া ইবনে খাল্ফ ও তার ভাই উবাই ইবনে খাল্ফ।

সুতরাং যে ব্যক্তি তার বন্ধুকে কুফরীর ক্ষেত্রে অনুসরণ করবে এবং কুফরী অবস্থায়ই মারা যাবে সে উকবা ইবনে আবী মু‘আইতের মতোই শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তা থেকে হিফাযত করুন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিকে যেমন সৎসঙ্গী অবলম্বন করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন, ঠিক অন্যদিকে তেমনি অসৎসঙ্গী থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। যেমন আবূ মূসা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে:

( إِنَّمَا مَثَلُ الْجَلِيْسِ الصَّالِحِ وَالْجَلِيسِ السُّوْءِ كَحَامِلِ الْمِسْكِ وَنَافِخِ الْكِيْرِ، فَحَامِلُ الْمِسْكِ إِمَّا أَنْ يُهْدِيَكَ وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيْحاً طَيِّبَةً وَنَافِخُ الْكِيْرِ إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيْحاً خَبِيْثَةً )

‘ সৎসঙ্গী ও অসৎসঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো আতর বহনকারী ও হাপরে ফুঁকদানকারী কামারের ন্যায়। আতরওয়ালার কাছে গেলে সে হয়তো তোমাকে বিনামূল্যে কিছু আতর হাদিয়া দিবে, অথবা তার কাছ থেকে তুমি আতর ক্রয় করবে অথবা তার কাছ থেকে সুঘ্রাণ পাবে। পক্ষান্তরে কামারেরর কাছে গেলে হয়তো তোমার কাপড় পুড়বে নতুবা তোমার নাকে দুর্গন্ধ লাগবে’ ( বুখারী)।

মুহাল্লাব রহ. বলেন, এ হাদীসে নেক লোকদের সাথে উঠাবসার বরকতের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এ কারণেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলেম-উলামাদের সাথে উঠাবসা এবং তালীম ও যিকিরের হালকার সাথে জড়িত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সৎসঙ্গীকে আতরওয়ালার সাথে উপমা দিয়েছেন। বলেছেন, আতরওয়ালার কাছে গেলে তার কাছে থাকা সামগ্রী না পাওয়া গেলেও সুঘ্রাণ পাওয়া থেকে অবশ্যই বঞ্চিত হবে না।

প্রিয় শ্রোতামণ্ডলী! লুকমান আ. তার সন্তানকে উপদেশ দিয়ে বলেন, প্রিয় বৎস! উলামায়ে কিরামের সাথে উঠাবসা করো এবং তাদের সঙ্গ অবলম্বনকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো। কেননা আল্লাহ তাআলা হেকমতের নূর দ্বারা অন্তরসমূহকে সজীব করেন যেমন সজীব করেন আকাশের বৃষ্টি দ্বারা মৃত যমীনকে।

তিনি আরো বলেন,তুমি তাদের সঙ্গদেওয়ার সময় হয়তো আল্লাহর রহমত তাদেরকে স্পর্শ করবে, আর তাদের সাথে তোমাকেও তা স্পর্শ করবে। এটা হলো তাকওয়া ও পরহেজগারিতে অগ্রণী ব্যক্তিদের সঙ্গ অবলম্বনের ফলাফল।

কোনো এক আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লামা আইনী রহ. বলেন, যাদের কাছে বসলে তোমার দীনী উপকার হয়, ইলমী ও আমলী ফায়েদা হয়, চরিত্র সুন্দর হয়, এমন লোকদের মজলিসে বসার নির্দেশ লুকমান আ.-এর বক্তব্যে রয়েছে। অতএব কোনো মানুষ যখন এমন কোনো লোকের কাছে বসে, যার কাছে বসলে আখেরাতের কথা স্মরণ হয় তখন তার উচিত খুব বেশি পরিমাণে ও বেশী সময় এ ধরনের লোকের কাছে বসা। সর্বোপরি যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে সঙ্গী বানিয়ে নেয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সৎসঙ্গ অবলম্বন করার এবং অসৎসঙ্গ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দিন। আমীন।

أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الْشَّيْطَانِ الْرَّجِيْمِ : {مَنْ عَمِلَ صَالِحاً فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاء فَعَلَيْهَا وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لّلْعَبِيدِ} ( سورة فصلت : 46)

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ, أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .

(দ্বিতীয় খুতবা)

اَلْحَمْدُ لِلّهِ وَلِيِّ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالصَّالِحِيْنَ، وَالْصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى رَسُوْلِ اللَّهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِيْنَ، أَمَّا بَعْدُ :

মুহতারাম হাযেরীন! এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে সৎসঙ্গী বেছে নেওয়ার ফল অপরিসীম। সৎসঙ্গী বেছে নেওয়ার দ্বারা সর্বপ্রথম ব্যক্তিজীবন সুন্দর হয়। আর ব্যক্তিজীবন সুন্দর হওয়ার দ্বারা আদর্শ সমাজ গড়ে উঠে। আর এটা তো পরিস্কার কথা যে, যখন কোনো সমাজ আদর্শ সমাজে পরিণত হয়, তখন সেখানে অবিরত ধারায় আসমান ও যমীন থেকে আল্লাহ তাআলা বরকত নাযিল করতে থাকেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন:

{ وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آَمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ. }

‘ আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের ওপর খুলে দিতাম’ (সূরা আল আরাফ:৯৬)।

ইমাম বাগাভী রহ. বলেন, আসমান ও যমীনের বরকত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আসমান থেকে পরিমিত বৃষ্টি বর্ষিত হওয়া এবং যমীন থেকে প্রয়োজনীয় ফসল ও উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়া। দুর্ভিক্ষ ও অনুর্বরতা না থাকা।

জান্নাতবাসীগণ সকলেই সৎসঙ্গী লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{ إِنَّ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا }

‘ নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস’ (সূরা আল কাহাফ: ১০৭)।

তিনি আরো বলেন:

{ وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ. لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ. }

‘ আর আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা বিদ্বেষ বের করে ফেলব, তারা সেখানে ভাই ভাই হয়ে আসনে মুখোমুখি বসবে। সেখানে তাদেরকে ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না ’ (সূরা হিজর : ৪৭-৪৮)।

সুপ্রিয় শ্রোতামণ্ডলী! সাহাবায়ে কিরাম ও আমাদের পূর্বসূরীগণ ছিলেন সৎসঙ্গীর উত্তম নমুনা। সহীহ বুখারীতে আবূ জুহাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে উল্লেখ হয়েছে:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালমান রাযি. ও আবূদ-দারদা রাযি. ভ্রাতৃত্বেরবন্ধনে আবদ্ধ করেন। একদিন সালমান রাযি. আবূদ-দারদা রাযি. এর সাক্ষাতে গেলেন। তখন তিনি আবূদ-দারদা রাযি. এর স্ত্রীকে জীর্ণ পোশাক ও বিষন্ন অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার একি অবস্থা? উত্তরে আবূ দারদা রাযি. এর স্ত্রী বললেন, আপনার ভাই আবূদ-দারদার তো দুনিয়ার আরাম-আয়শের প্রতি মোটেও মনোযোগ নেই।

এমন সময় আবূদ-দারদা রাযি. বাড়ীতে এসে সালমান রাযি. এর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করলেন এবং বললেন, আমি রোযা রেখেছি। আপনি আহার গ্রহণ করুন। সালমান রাযি. বললেন, আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত আহার গ্রহণ না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমি আহার গ্রহণ করব না। একথা শুনে আবূদ-দারদা রাযি রোযা ভঙ্গ করে সালমান রাযি.-এর সাথে আহার গ্রহণ করলেন।

রাতে যখন ঘুমানোর সময় হলো তখন আবূদ-দারদ রাযি. নামায পড়তে উদ্যত হলেন। সালমান রাযি. তাকে বললেন, এখন ঘুমিয়ে পড়ুন। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। একটু পর আবার তিনি নামায পড়তে উদ্যত হলেন। সালমান রাযি. বললেন, আরো ঘুমান। তিনি ঘুমিয়ে গেলেন। অতঃপর রাত যখন শেষভাগে উপনীত হলো তখন সালমান রাযি. বললেন, এবার উঠুন।

তারপর তারা উভয়ে নামায পড়লেন। নামায শেষে সালমান রাযি. বললেন, নিশ্চয় আপনার ওপর আপনার প্রতিপালকের হক রয়েছে। অনুরূপভাবে আপনার ওপর আপনার নিজ দেহের হক রয়েছে। আপনার ওপর আপনার স্ত্রীরও হক রয়েছে। অতএব আপনি প্রত্যেকের হক আদায় করুন।

পরদিন আবূদ-দারদা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে সালমান রাযি.-এর বক্তব্য পেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সালমান সত্য বলেছে।

অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! আপনারা লক্ষ্য করে দেখুন, সাহাবায়ে কেরাম সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যাপারে একে অপরকে কীরূপ সহযোগিতা করতেন। সৎসঙ্গের উপকারিতা এরূপই হয়ে থাকে।

পক্ষান্তরে অসৎসঙ্গ অবলম্বনের দ্বারা কোনো উপকার তো হয়-ই না বরং তা মানুষকে আল্লাহবিমুখ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের র চাচা আবূ তালিবের ঘটনা এ ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ। সহীহ বুখারীতে সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব রহ. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে:

যখন আবূ তালেবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিকট উপস্থিত হলেন এবং সেখানে আবূ জাহ্ল, আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়াকে পেলেন। তিনি আবূ তালেবকে লক্ষ্য করে বললেন, চাচা! আপনি বলুন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এটা এমন এক কালেমা যদ্বারা আমি আল্লাহর কাছে আপনার পক্ষে সুপারিশ করব।

একথা শুনে আবূ জাহ্ল ও আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয় আবূ তালেবকে বলল, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? এরপর অনেকক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাচা আবূ তালেবকে কালেমা পড়তে বলছিলেন আর আবূ জাহ্ল ও আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়া তাকে আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথাটি পুনরাবৃত্তি করছিল।

পরিশেষে আবূ তালেব কালেমা পড়তে অস্বীকার করল এবং আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপরই অটল থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে বারণ না করা হবে ততক্ষণ আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। তখন আল্লাহ তাআলা আবূ তালেবের ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল করলেন:

{ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى }

‘ নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী’ (সূরা আত ত্ওাবা: ১১৩)।

আর আবূ তালেবের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে খেতাব করে আল্লাহ তাআলা বললেন:

{ إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ }

‘নিশ্চয় তুমি যাকে ভালবাস তাকে তুমি হিদায়াত দিতে পারবে না বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন। আর হিদায়াতপ্রাপ্তদের ব্যাপারে তিনি ভাল জানেন’ (সূরা আল কাসাস: ৫৬)।

পিতা ও অভিভাবকদেরকে লক্ষ্য করে বলছি, আপনাদের প্রত্যেকেই রক্ষক আর আপনাদের প্রত্যেককেই তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হাদীসে এসেছে :

( كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ )

‘ তোমাদের প্রত্যেকেই তত্ত্বাবধায়ক, আর তোমাদের প্রত্যেককেই তার তত্ত্বাবধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে’।

তাই আপনাদের কর্তব্য হলো, আপনাদের সন্তানদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা। তারা কোথায় গেল, কোথায় খেল, কোথায় রাত্রিযাপন করল এবং মোবাইলে কার কার সাথে কথা বলল এ সব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। যদি আপনারা আপনাদের সন্তানদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর না রাখেন, তারা কোথায় যাচ্ছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে, সেদিকে নযর না দেন এবং পরিশেষে যদি তারা খারাপ স্বভাব ও মন্দ আচরণে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে তাহলে এর দায়ভার কিন্তু অবশ্যই আপনাদেরকে বহন করতে হবে। তাই আসুন, আমরা নিজেরা সৎসঙ্গ অবলম্বন করি এবং যে কোনো মূল্যে অসৎসঙ্গ পরিহার করি। সেই সাথে নিজেদের ছেলেমেয়ে ও অধীনস্থদের ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

{إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَـٰئِكَـتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِىّ يٰأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيْهِ وَسَلّمُواْ تَسْلِيماً } ( الأحزاب : 56 )

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الْرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الْطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنْ الْصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সৎ সঙ্গ অবলম্বনের তাওফীক দান করুন। অসৎ সঙ্গ থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন। মুমিন, মুত্তাকী ও পরহেযগার ব্যক্তিদের সঙ্গ অবলম্বনের তাওফীক দিন। সৎ সঙ্গের সুফলসমূহ ভোগ করার তাওফীক দিন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে নেক আমল করার তাওফীক দিন। আপনি যে সব আমল পছন্দ করেন এবং আপনার রেজামন্দী অর্জনে সহায়তা করে আপনি আমাদের সে সব আমল বেশি বেশি করার তাওফীক দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দিন। আমাদেরকে সকল বালামুসিবত থেকে হিফাযত করুন। আমাদের জীবনকে সকল প্রকার কল্যাণে ভরে দিন। আমীন। ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.