পাঠ সংক্ষেপ

খুতবার উদ্দেশ্য : ১-বিদআতের ভয়াবহ ক্ষতি ও প্রভাব, ২-দীনে কোনো বিদআত সংযোজন থেকে হুঁশিয়ার করা, ৩- বিদআত তৈরির কারণগুলো কি কি তা বর্ণনা করা

বিদআত থেকে হুঁশিয়ারী

(প্রথম খুতবা)

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ مُخْلِصاً لَهُ الدِّيْنَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ الصَّادِقُ الْأَمِيَنُ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثَيْراً، أَمَّا بَعْدُ

সুপ্রিয় মুসল্লীবৃন্দ! মানবতা যখন মূর্খতায় আচ্ছন্ন ছিল, বিশ্বাস আচরণ ও জীবনবোধ ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত, আখলাক ও চরিত্রের ঘটেছিল চরম অধপতন, তখন আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন, যার প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষকে তাদের প্রবৃত্তির পূজা ও বাপ-দাদার অন্ধ অনুকরণ থেকে মুক্ত করে সত্যের পথে নিয়ে আসা তাঁর অনুসরণের প্রতি দাওয়াত দেয়া তাঁর সুন্নতের অনুসরণ করতে বলা।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকলেন, তখন একদল দুর্ভাগা তাঁর সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীকেই সুউচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করলেন। তাঁর দীনকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। এবং ততদিন পর্যন্ত তাঁর রাসূলকে পৃথিবী হতে উঠিয়ে নিলেন না, যতদিন না তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণ হল, আমানত আদায় হল, উম্মতের কল্যাণ কামনা করে দীনের সবকিছু তিনি বুঝিয়ে দিলেন এবং আমাদেরকে রেখে গেলেন শুভ্র-সরল-সত্য পথে, যার রাত দিনের মতোই সমুজ্জ্বল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশংকা করেছিলেন যে, পৃথিবী থেকে তাঁর প্রস্থানের পর মানুষ আবার প্রবৃত্তি পূজায় নিমগ্ন হবে, তাঁর অনুসরণ ছেড়ে দিবে। অন্যকে অনুসরণ করবে ও তাঁর সুন্নত বর্জন করবে। এজন্যই তিনি ফিতনার আশংকা প্রকাশ করেছেন, বলেছেন সুন্নতের অবলুপ্তির কথা, বিদআতের প্রসার লাভের কথা।

প্রিয় মুসলি¬য়ান! কুরআন ও হাদীস অসংখ্যবার আমাদেরকে সুন্নতের অনুসরণ ও বিদআত পরিত্যাগ করতে বলেছে। সাহাবী, তাবেয়ী, উলামা-মাশায়েখগণও আমাদের সুন্নতের অনুসরণ এবং বিদআত বর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন, লেখনী চালিয়েছেন।

কুরআনুল কারীম সুন্নতের অনুসরণ বিষয়ক আয়াতে ভরপুর। কুরআন এ কথাও বলছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণই আল্লাহকে ভালবাসার নিদর্শন। ইরশাদ হচ্ছে :

{ قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمْ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ }

‘ বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আলে ইমরান:৩২)।

আল কুরআন আমাদেরকে অবহিত করেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত ছেড়ে দেয়ার অর্থই হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ। ইরশাদ হয়েছে :

{ فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ }

‘ অতঃপর তারা যদি তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, তারা তো নিজদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে। আর আল্লাহর দিকনির্দেশনা ছাড়া যে নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?’ (সূরা আল কাসাস:৫০)।

আর যারা প্রবৃত্তির পূজারী তারা নিঃসন্দেহে সুন্নত পরিত্যাগকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

{ وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى }

‘ আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে ওঠাবো অন্ধ অবস্থায়’ (সূরা তাহা:১২৪)।

বিদআতীদের অবস্থা এমনই। তারা সংকীর্ণ, তাদের মন অপ্রশস্ত। তাদের অন্তরে প্রশান্তি নেই, স্থিরতা নেই। তারা অস্থির। কেননা শান্তি ও হিদায়েত একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মধ্যে নিহিত। আর যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুসরণ করে সে কখনো বিভ্রান্ত হয় না, পথভ্রষ্ট হয় না। ইরশাদ হয়েছে :

{ فَمَنْ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى }

‘অতঃপর যে আমার হিদায়েতের অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না’ (সূরা তাহা:১২৩)।

আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

( مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ )

‘ দীনের ব্যাপারে যে ব্যক্তি নতুন কিছু আবিষ্কার করে, তার সে আবিষ্কার প্রত্যাখ্যাত হবে’ (বুখারী)

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: জাবের রাযি. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বক্তৃতা দিতেন, তখন তাঁর চোখ লাল হয়ে যেত, কণ্ঠ উঁচু হয়ে যেত। তাঁর ক্রোধ বেড়ে যেত, যেন তিনি কোনো সেনাবাহিনীকে হুঁশিয়ার করে বলছেন, তোমাদের শত্রুরা তোমাদের ওপর সকালেই আক্রমণ করবে, কিংবা, বিকেলেই আক্রমণ করবে। কাজেই সতর্ক হও। তিনি বলতেন, আমি আর কিয়ামত এভাবে প্রেরিত হয়েছি, এই বলে তিনি তার মধ্যমা ও শাহাদাত অঙ্গুলি মেলাতেন। এরপর বলতেন: সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম হিদায়েত হলো রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) সুন্নত, সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো দীনের নামে নতুন সৃষ্টি (বিদআত), আর প্রতিটি বিদআতই বিভ্রান্তি (মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন:

( مَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِيْ فَلَيْسَ مِنِّيْ )

‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম)।

আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

( إِنَّ اللَّهَ حَجَبَ التَّوْبَةَ عَنْ كُلِّ صَاحِبِ بِدْعَةٍ حَتَّى يَدَعَ بِدْعَتَهُ )

‘ আল্লাহ তাআলা বিদআতকারীর ভাগ্যে তাওবা নসীব করেন না, যতক্ষণ না সে বিদআত পরিত্যাগ করে’ (তাবারানী হাসদীসটি হাসান সনদে উলে¬খ করেছেন)।

প্রিয় মুসল্লী ভাইয়েরা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত আঁকড়ে ধরা তো ঈমানেরই দাবি। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর রাসূল মেনে নেয়ার চাহিদাই হলো তাঁর যথার্থ অনুসরণ করা। তিনি যা করতে বলেছেন তা করা যা বর্ণনা করেছেন তা বিশ্বাস করা যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা এবং আল্লাহ যেসব উপায় বৈধ করেছেন, সেসব উপায় ছাড়া অন্য উপায়ে তাঁর ইবাদত না করা। কাজেই আল্লাহর রাসূল যে উপায়কে বৈধতা দেননি, সে উপায় অবলম্বন করে আল্লাহর ইবাদত করলে তা কেবল প্রত্যাখ্যাতই হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

( أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنْ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ )

‘ তাদের জন্য কি এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য দীনের বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি’?

কাজেই সুন্নতের বিপরীত কোনো কথাই অনুসরণ করা যাবে না। তা সে যে-ই বলুক না কেন। ইমাম মালিক রহ. বলেন, ‘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া প্রত্যেকের কথাই গ্রহণযোগ্য আবার বর্জনীয়।

ইমাম শাফেঈ রহ. বলেন, এ ব্যাপারে উলামায়ে কিরাম একমত যে, যার কাছে সুন্নতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট, সে জন্য কারো কথার ভিত্তিতে রাসুলের সুন্নত বর্জন করা বৈধ নয়।

ইমাম আহমদ রহ. বলেন, আমি আশ্চর্য হই যখন দেখি যে, লোকজনের কাছে সূত্র স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও তারা সুফইয়ানের মতামত সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ فَلْيَحْذَرْ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ }

‘ অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে’ (সূরা আন-নূর:৬৩)।

‘বিপর্যয়’ তথা ফিতনা কী, জানেন? ফিতনা হলো শিরক। হয়ত সে যখন রাসূলের কোনো বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করবে, তখন তার অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি হবে, ফলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! ইসলাম হলো আনুগত্য, আত্মসমর্পণ। আল্লাহর কাছে নিজকে সমর্পণ করা। কাজেই যখন দলীল স্পষ্ট হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস প্রমাণিত হবে, তখন তার প্রতি আনুগত্য করা, তা স্বীকার করা আবশ্যক বলে গণ্য হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে :

{ وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمْ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِينًا }

‘ আর আল¬¬াহ ও তাঁর রাসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে’ (সূরা আল আহযাব:৩৬)।

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বক্তব্যে বলতেন :

( إِيَّاكُمْ وَالْمُحْدَثَاتْ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ ضَلَالَةٌ )

‘নবসৃষ্ট বিষয় তথা বিদআত থেকে সাবধান! কেননা প্রত্যেক বিদআতই বিভ্রান্তি’ ( আবু দাউদ, তিরমিযী ) ।

প্রিয় ভাইয়েরা! সুন্নতের অনুসরণের উপকারিতা অনেক।

জুরজানী রহ. বলেন, ‘বান্দার সৌভাগ্যবান হওয়ার আলামত হলো ইবাদত করা সহজ হওয়া, কাজ-কর্মে, কথাবার্তায় সুন্নতের অনুসরণ করা, সৎ লোকদের সংসর্গ লাভ করা, বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভালো ব্যবহার করা, আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সদ্ব্যবহার করা, মুসলমানদেরকে সম্মান করা এবং সময়ের মূল্যায়ণ করা’।

কিরমানী রহ. বলেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম থেকে দৃষ্টি অবনত রাখে, সন্দেহজনক কাজ থেকে বিরত থাকে, সার্বক্ষণিক আল্লাহ-ধ্যানে মগ্ন থাকে, সুন্নতের অনুসরণ করে, এবং হালাল খাওয়ার অভ্যাস করে নেয়, তার কোনো দূরদৃষ্টি ভুল করে না’।

প্রিয় মুসল্লী ভাইয়েরা! সুন্নতের বিরুদ্ধাচরণ ও প্রবৃত্তির অনুসরণই মুসলমানদের পরস্পর বিভক্তির কারণ এবং নিশ্চিত ভ্রষ্টতা।

ইরশাদ হয়েছে :

{ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ }

‘আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে’ (সূরা আল আনআম:১৫৩)।

আর নির্দেশ অমান্য করাই তো অবাধ্যতা। ইরশাদ হয়েছে :

{ فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلا تَطْغَوْا }

‘সুতরাং যেভাবে তুমি নির্দেশিত হয়েছ সেভাবে তুমি ও তোমার সাথী যারা তাওবা করেছে, সকলে অবিচল থাক। আর সীমালঙ্ঘন করো না’ (সূরা হূদ:১১২)।

আর কেবল যা ভালো লাগে এবং যা করতে মন চায়, তার ভিত্তিতে কোনো দলীল ছাড়া ইবাদত করাই প্রবৃত্তির অনুসরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ أَفَرَأَيْتَ مَنْ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ }

‘তবে তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে আপন ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে?’ (সূরা আল জাছিয়া:২৩)।

আর যারা প্রবৃত্তির পূজা করে, তারা আল্লাহর এ হুঁশিয়ারীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদআতকে ভ্রষ্টতা বলেছেন। তার কারণ, বিদআতী তার প্রবৃত্তির পেছনে পড়ে ভ্রষ্ট হয়। সে সন্দেহজনক দলীলকে চাহিদা মতো গ্রহণ করে। আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণের উদ্দেশ্যে নয়। ফলে সে প্রথমে তার প্রবৃত্তি ও মনকে দলীল বানিয়ে নেয়। এরপর অন্য দলীল খোঁজে। কাজেই দলীলগুলোকে সে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا }

‘ তিনি এ দিয়ে অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এ দিয়ে অনেককে হিদায়েত দেন’ (সূরা আল বাকারা:২৬)।

আল্লাহ তাআলা দলীল প্রমাণের ক্ষেত্রে ভ্রষ্টদের এ নীতি অনুসরণ থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন :

{ هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ }

‘তিনিই তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন, তার মধ্যে আছে মুহকাম আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ্। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ্ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে’ (সূরা আলে ইমরান:৭)।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অনৈতিকতা ও বিদআত থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।

প্রিয় ভাইয়েরা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের বিপরীতে অন্য কারো মতামত চলে না। তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। সহীহ হাদীসে আছে :

(مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ )

‘আমাদের মত ও পথের বাইরে যে ব্যক্তি কোনো আমল করবে, তার সে আমল প্রত্যাখ্যাত হবে’ (মুসলমি)।

মুহতারাম শ্রোতামণ্ডলী! বিদআতীরা পৃথিবীতেও লজ্জিত হয়, আখিরাতেও তারা শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।

শাতিবী রহ. বলেন, বিদআতীর ওপর পৃথিবীতে অপমান ও আল্লাহর আক্রোশ নেমে আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{ إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ }

‘নিশ্চয় যারা গো বাছুরকে (উপাস্য হিসাবে) গ্রহণ করেছে, দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে আক্রান্ত করবে তাদের রবের পক্ষ থেকে গযব ও লাঞ্ছনা। আর এভাবে আমি মিথ্যা রটনাকারীদের প্রতিফল দেই’ (সূরা আল আরাফ:১৫২)।

এ আয়াতে তাদের ও তাদের সদৃশ অন্যদের কথা বলা হয়েছে। কেননা বিদআতীরা যা করে, তা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ বৈ অন্য কিছু নয়।

ইমাম মালিক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো বিদআত চালু করল এই ভেবে যে, তা উত্তম, সে যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে এই ধারণা পোষণ করল যে তিনি রিসালাতের খেয়ানত করেছেন। কেননা আল্লাহ নিজেই তো বলেছেন:

{ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا }

‘ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম’ (সূরা আল মায়েদা:৩)।

কাজেই সেদিন যা দীন হতে পারেনি, আজ নতুন যোগ হয়ে তা দীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না।

সহীহ মুসলিমে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, দীন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনকারীদেরকে তাঁর হাউজ থেকে বিতাড়িত করা হবে।

বিদআত আসলে সঠিক দীনের ওপর আঘাত হানে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোনো জাতি একটি বিদআতে জড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ তাদের থেকে অনুরূপ একটি সুন্নত উঠিয়ে নেন (আহমদ)।

আর এটাতো আমরা আজ দেখতেই পাচ্ছি। দেখা যায়, অনেকে বিদআতকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে, অনেক প্রতিষ্ঠিত সুন্নত এমনকি ওয়াজিবও তারা ছেড়ে দেয়। আবার মিডিয়াগুলোও তাদের এসব কর্মকাণ্ড ঢালাওভাবে প্রচার করে। তাদের ভিডিও এমনভাবে প্রচার করে যে, সাধারণ মানুষ তাতে বিভ্রান্ত হয় এবং তাকেই প্রকৃত দীন মনে করে। কাজেই আমাদের সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِيْ الْقُرْآنِ الْعَظِيْمِ وَنَفَعْنِيْ وَإيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ اْلآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيْمِ, أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوْهُ إنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ .

বিদআত থেকে হুঁশিয়ারী

(দ্বিতীয় খুতবা)

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِيْنَ، وَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِيْنَ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসল্লী বন্ধুরা! মানুষকে যে বিষয়টি শিরক ও বিদআতে লিপ্ত করে তা হলো পূর্বসুরীদের অন্ধ অনুকরণ এবং কোনো আলেমের দলীলহীন সমর্থন ও গোঁড়ামী। আবূ দাউদসহ অন্যান্য সুনানে আছে, মু‘আয বিন জাবাল রা. বলেন, ‘সাবধান! তোমরা বিদআত থেকে বাঁচো। প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা। আমি তোমাদেরকে আলেম-এর পদস্খলন থেকে সতর্ক করছি। মনে রাখবে, শয়তান আলেমের কথায় বিভ্রান্তিকর কথা ঢুকিয়ে দেয়। কাজেই আলেমের সব সন্দেহজনক কথা থেকে বেঁচে থাকবে। আর অনেক সময় মুনাফিকও সত্যের কথা বলে থাকে’।

বলা হলো, আলেম যে বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন, তা কীভাবে বুঝব? তিনি বললেন, আলেমের প্রসিদ্ধ যেসব কথার ব্যাপারে বলা হয় যে এটা আবার কেমন কথা?! সেসব থেকে বাঁচো। অবশ্য এটা যেন আবার তোমাকে তার থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়। কেননা, হতে পারে সে সত্যের পথে ফিরে আসবে। আর সত্য যখনি শুনবে, গ্রহণ করে নিবে। কেননা সত্যের মধ্যে নূর আছে’।

এ তো হলো ঐ ব্যক্তির কথা যার আসল অবস্থা ছিল সুন্নতের অনুসরণ করা। কিন্তু যে বিদআতের ওপরই অবস্থান করে তার কোনো সম্মান নেই। কেননা বিদআতীরা এমন লোক, যারা আদত-অভ্যাসের অনুসরণের উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক কথার অনুসরণ করে, যদিও তা সুস্পষ্ট সুন্নতের বিপরীত হয়। নাউযুবিল্লাহ।

মুকাতিল বিন হায়্যান রহ. বলেন, বিদআতীরা এই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিপদস্বরূপ। এরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের কথা বলে। আর এসব ভালো কথা বলে মূর্খ মানুষকে শিকার করে নেয়। অতঃপর তাদেরকে ধ্বংসের মধ্যে ফেলে। এরা তো মধুর নামে বিষ পরিবেশনকারীদের মতোই।

শয়তান যে মানুষকে সুন্নতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে অসত্যের পথকে সুন্দর করে দেখায়, পূর্বসূরীদের অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামী করতে শেখায়, এর জন্য সে পুরনো অস্ত্র ব্যবহার করে। এ অস্ত্র সে আগেও ব্যবহার করেছিল। আগেও এর মাধ্যমে সে অনেক জাতিকে বিভ্রান্ত করে ছেড়েছে।

আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আ. এর ঘটনা কথোপকথন আকারে এভাবে উলে¬খ করেন :

{مَا تَعْبُدُونَ قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ أَوْ يَنْفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ }

তোমরা কিসের ইবাদাত কর?’ তারা বলল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর এগুলোর পূজায় আমরা নিষ্ঠার সাথে রত থাকি’। সে বলল, ‘যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়?’ ‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে’? তারা বলল, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’ (সূরা শুআরা:৭০-৭৪)।

সূরা যুখরুফে ইরশাদ হয়েছে:

{ أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا مِنْ قَبْلِهِ فَهُمْ بِهِ مُسْتَمْسِكُونَ بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلاَّ قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ }

‘ আমি কি তাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোনো কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে? বরং তারা বলে, ‘আমরা নিশ্চয় আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের ওপর পেয়েছি, আর নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে হিদায়েতপ্রাপ্ত হব’ আর এভাবেই তোমাদের পূর্বে যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের ওপর পেয়েছি এবং নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব’। তখন সে (সতর্ককারী) বলেছে, ‘তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে মতাদর্শে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট পথে নিয়ে আসি তবুও কি’? (তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?) তারা বলেছে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তার অস্বীকারকারী’ (সূরা যুখরুফ:২১-২৪)।

প্রিয় মুসল¬ীয়ান! বিদআতের অনেক বড় বড় ক্ষতি রয়েছে। এর কয়েকটি আমি এখানে তুলে ধরছি-

১. বিদআত সহীহ ও বিশুদ্ধ দীনের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং সুন্নতের জায়গা নিয়ে নেয়। ইমাম আহমদ রহ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণনা করেন, কোনো জাতি একটি বিদআতে জড়িয়ে পড়লে আল্লাহ তাদের থেকে অনুরূপ একটি সুন্নত উঠিয়ে নেন।

এজন্যই লক্ষ্য করবেন, বিদআতীরা বিদআত করে যতটা তৃপ্ত হয়, ততটা তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নত পালন করে হয় না। শয়তান তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রাখে।

২. বিদআতী ব্যক্তি মনে করে যে দীন অপূর্ণ। তাই সে দীনের পূর্ণতার জন্য বিদআতে লিপ্ত হয়। এমন যদি না হত, তাহলে সে বিদআতে লিপ্ত হত না।

৩. বিদআতীরা সুন্নত থেকে দূরে সরে যায় এবং সুন্নতের ওপর আমল করা থেকে তাদের ইচ্ছাশক্তি কমে যায়। এজন্যই আমরা দেখি, তারা বিদআত প্রতিষ্ঠায় নিজদের সম্পদ ব্যয় করে, শক্তি ব্যয় করে এবং সময় নষ্ট করে।

৪. বিদআত জাহিলিয়্যাতের যুগকে ফিরিয়ে আনে। ফলে মানুষে মানুষে বিভেদ ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রত্যেক দল মনে করে যে, তারা অন্য দলের তুলনায় ভালো।

৫. বিদআত মানুষকে সত্য থেকে বিচ্যুত এবং অহংকারী করে তোলে। কাজেই যখন কোনো বিদআতীকে সত্যের পথে ডাকা হয়, তখন সে শোনে না, বরং সে তার বিদআত নিয়েই পড়ে থাকে এবং সত্যের মোকাবিলা করে।

৬.বিদআত সঠিক দীনকে নষ্ট করে দেয়। আর এটাই কাফের ও মুনাফিক শয়তানরা কামনা করে। তারা বিভিন্নভাবে দীনের মেযাজ নষ্ট করার চেষ্টা করে। তাদের সবচে’ বড় অস্ত্র হলো বিদআত এবং ইবাদতের আদলে সৃষ্ট কাজকর্ম। ফলে যে ইসলামের মূল বিষয় জানে না, সে বাইরে থেকে মনে করে যে, দীনে ইসলাম কিছু বানানো বিষয়ের সমষ্টি। ফলে সে আর ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না।

আর বিদআতীদের বিদআতকর্ম প্রচার প্রসারের পেছনে অনেক পার্থিব উদ্দেশ্য থাকে। কুপ্রবৃত্তির অনুকরণও উদ্দেশ্য হয়। এজন্যই অনেকে বিদআত প্রচলনে প্রচুর সম্পদ ব্যয় করে। অনেক জায়গায় নারী-পুরুষের সংমিশ্রণে অনেক হারাম কাজও হয়ে থাকে।

আর ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এসব প্রচারে বড় ভূমিকা পালন করে। তারা এমনভাবে এদের ভিডিও প্রচার করে যে, যে শোনে বা দেখে, সে মনে করে এটা দীনেরই অংশ।

অনুরূপভাবে কিছু অসৎ আলেমও এসব বিদআত প্রচারে এবং এগুলোকে শরীয়তের পোশাক পরাতে তৎপর থাকে। কাজেই আলেম ও খতীবদের উচিত এদের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করা।

প্রিয় ভাইয়েরা! আল্লাহকে ভয় করুন। জেনে রাখুন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬মের সুন্নতে মুসলমানদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। কাজেই এ ছাড়া অন্য কোনো ভ্রান্ত কথা, দলীলহীন বক্তব্য বা বিদআতের শরণাপন্ন হবেন না। আপনাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, করেছেন এবং উম্মতের প্রথম যুগের আলেমরা যা করেছেন, তা-ই আপনাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিন।

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যথার্থরূপে সুন্নতের অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। সকল প্রকার বিদআত থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন। কোনো প্রকার বিদআত যেন আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে তাওফীক আমাদের সবাইকে দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমদেরকে জীবনের সকল স্তরে আপনার নবীর সুন্নত প্রতিষ্ঠার তাওফীক দান করুন। আমাদের দেশের কর্ণধারদেরকে সুন্নত সমুন্নত করার তাওফীক দান করুন।

ইয়া আল্লাহ, ইয়া রাব্বাল আলামীন! আপনি আমাদের দুআ-মুনাজাত কবুল করুন। আপনি আমাদের সকল আমল কবুল করুন। আমাদের বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণ করে দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন!

عبَادَ اللهِ رَحمكُمُ الله (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.