পাঠ সংক্ষেপ

খুতবায় যা থাকছে : (ক)মাহে রমজানের শেষ দশকে মেহনত-মুজাহাদা, (খ)রমজানের শেষ দশক যাপনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ কি তা উল্লেখ করা, (গ)আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক মজবুত করা ও তার নৈকট্য লাভে মেহনত-মুজাহাদা

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ مُعَزِّ مَنْ أَطَاعَهُ وَاتَّقَاهُ، مُجِيْبِ دَعْوَةَ الدَّاعِيْ إِذَا دَعَاهُ وْهَادِيِ مَنْ تَوَجَّهَ إِلَيْهِ وَاسْتَهَدَاهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّىَ اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসল্লিয়ান! মাহে রমজানের মুবারক দিনগুলো বিদায় নিচ্ছে এক-এক করে। পবিত্র রজনীগুলোও এক-এক করে পরিণত হচ্ছে বিগত ইতিহাসে। মাহে রমজানের বরকতময় রাত ও দিনগুলো চলে যাচ্ছে আমাদের আমলের সাক্ষী হয়ে। আমরা যা গচ্ছিত রাখছি তার সংরক হিসেবে। মাহে রমজানে দিন-রাতগুলো আমাদের আমলের গুদামঘর, আমাদের আমলের সঞ্চয়-ব্যাংক যা কিয়ামতের ময়দানে হাজির হবে আমাদের সঞ্চিত আমলের পুঙ্খানুপুঙ্খ রেকর্ড নিয়ে। আর সেদিন রাব্বুল আলামীন ডেকে বলবেন:

( يَا عِبَادِيْ إِنَّمَا هِيَ أَعْمَالُكُمْ أُحْصِيْهَا لَكُمْ ثُمَّ أُوَفِّيْكُمْ إِيَّاهَا، فَمَنْ وَجَدَ خَيْراً فَلْيَحْمَدِ اللهَ، وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلِكَ فَلَا يَلُوْمَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ )

‘হে আমার বান্দারা! এগুলো তো তোমাদের আমল, যা আমি তোমাদের জন্য হিসাব করছি। অতএব যে ভালো পাবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে অন্যরকম পাবে সে যেন নিজকে ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ না করে’ (মুসলিম)।

ভাইয়েরা আমার ! পবিত্র মাহে রমজান বিদায়ের ঘন্টা বাজাচ্ছে। রমজানের শেষ দশক আমাদের দ্বার প্রান্তে। যদি আমরা বিগত দিনগুলোতে সিয়াম সাধনার যথার্থতা রায় অলসতা করে থাকি, তাহলে সামনের দিনগুলোতে যারপরনাই চেষ্টা করে যাওয়ার প্রত্যয় পোষণ করতে হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশক যেভাবে যাপন করেছেন সেভাবে যাপনের সাধনা করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের প্রথম বিশ দিনের রাতগুলো নামাজ ও নিদ্রা উভয়টির মধ্যদিয়ে কাটাতেন, আর শেষ দশ দিন কাটাতেন অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে। এ দশ দিন তিনি বিছানা পরিত্যাগ করতেন, স্ত্রীসঙ্গ পরিত্যাগ করতেন, বরং স্ত্রীগণকেও ইবাদাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আলী ও ফাতিমা রাযি. এর দরজায় কড়া নাড়তেন এবং বলতেন, ‘তোমারা কি উঠবে না? নামাজ পড়বে না?’ তিনি দরজায় কড়া নাড়তেন এবং বলতেন:

{ وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لاَ نَسْأَلُكَ رِزْقاً نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى }

আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিযক চাই না। আমিই তোমাকে রিযক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য’ (সূরা তা-হা, আয়াত ১২০)।

তিনি তাঁর স্ত্রীদের ঘরে যেতেন এবং ডেকে বলতেন, ‘ওঠো হে ঘরবাসিনী! দুনিয়ায় পোশাকে আচ্ছাদিতদের অনেকেই কিয়ামতের দিন হাজির হবে বিবস্ত্র হয়ে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মাহে রমজানের শেষ দশকে ইবাদাতের মাধ্যমে রাত্রিযাপন করতেন, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা সক্ষম তাদের কাউকে না জাগিয়ে ক্ষ্যান্ত হতেন না।

প্রিয় শ্রোতামণ্ডলী! কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, রাত জেগে কিয়ামুল লাইলের নামাজ পড়া ফরজ ওয়াজিবের বাইরে একটা অতিরিক্ত আমল। আর আমি তো আমার জিম্মায় থাকা আবশ্যিক নামাজগুলো যথার্থরূপেই আদায় করছি। এতটকু কি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়? উত্তরে বলা যায় যে, আবশ্যিক নামাজগুলো তো বাধ্যতামূলকভাবে পড়তেই হবে। তবে এ নামাজগুলো যে যথার্থরূপে আদায় হচ্ছে, এতে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি হচ্ছে না, এ ব্যাপারে কি কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবে? এখান থেকেই তো সুন্নত-নফলের নামাজের প্রয়োজনীয়তার কথা আসে। কেননা সুন্নত-নফল নামাজ ফরজ নামাজের অপূর্ণতাগুলো শুধরিয়ে পরিপূর্ণতা দান করে। সুনানে আবু দাউদের এক বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহ তাআলা বলবেন:

( انْظُرُوْا فِيْ صَلَاةِ عَبْدِيْ أَتَمَّهَا أَمْ نَقَصَهَا؟ فَإِنْ كَانَتْ تَامَّةً كُتِبَتْ لَهُ تَامَّةً وَإِنْ كَانَ انْتَقَصَ مِنْهَا شَيْئاً قَالَ انْظُرُوْا هَلْ لِعَبْدِيْ مِنْ تَطَوُّعٍ فَإِنْ كَانَ لَهُ تَطَوٌّعٌ قَالَ أَتِمُّوْا لِعَبْدِيْ فَرِيْضَتَهُ مِنْ تَطَوُّعِهِ ثُمَّ تُؤْخَذُ الْأَعْمَالُ عَلَى ذَاكُمْ )

‘আমার বান্দার নামাজ পরখ করে দেখো, সে কি তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছে, না কি অপূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেছে? যদি তার নামাজ পূর্ণাঙ্গ হয়ে থাকে, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গরূপেই লেখা হবে। আর যদি তাতে কোনো অপূর্ণতা থেকে থাকে, তবে দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি না। যদি নফল নামাজ থেকে থাকে, তাহলে তা দিয়ে আমার বান্দার ফরজ নামাজ পরিপূর্ণ করে দাও। অতঃপর অন্যান্য আমল এভাবেই নেয়া হবে (আবু দাউদ, সহীহ)।

ফরজ নামাজ পরিপূর্ণরূপে আদায় করার ব্যাপারে নিশ্চিত হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে আমাদেরকে নফল নামাজের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।

রমজানে শেষ দশকের বিশেষ একটি ফযীলত এই যে, এ দশ দিনে শবে কদরের সাক্ষাৎ পাওয়ার আশা করা যায়। আর লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকেও উত্তম। ইমাম নখঈ রহ. বলেন: লায়লাতুল কদর এক হাজার রাত থেকে উত্তম হওয়ার অর্থ- লায়লাতুল কদরের আমল লায়লাতুল কদর ছাড়া এক হাজার মাসের আমল থেকে উত্তম। এক হাজার মাস হিসেব করলে তিরাশি বছর চার মাস দাঁড়ায়। তাহলে বুঝতেই পারছেন লায়লাতুল কদর কত বেশি মর্যাদাবান, কত বেশি দামি। সুবহানাল্লাহ!

লায়লাতুল কদর সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

( مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ )

‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ আল্লাহর কাছে ছাওয়াব প্রাপ্তির আশায় কদরের রাতে ইবাদত করল, তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মা করে দেয়া হলো’ (বুখারী ও মুসলিম)।

অধিক নির্ভরযোগ্য মতানুসারে লায়লাতুল কদর মাহে রমজানের শেষ দশকের একটি রাত। আল্লাহ তাআলা এ রাতের ইলম বান্দাদের থেকে গোপন করে রেখেছেন তাদের প্রতি রহমতস্বরূপ। যাতে তারা মাহে রমজানের শেষ দশ রজনীতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করতে গিয়ে অধিক ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হয়। নামাজ, দু‘আ ও যিকরের মাধ্যমে রাত্রিযাপন করে। অতঃপর এ দশ রাতের মেহমনতে আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জনের সুযোগ পায়। তিনি লায়লাতুল কদরকে বান্দাদের পরীার উদ্দেশ্যেও গোপন করেছেন যাতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধনে কে অধিক নিবেদিত ও ঐকান্তিক তা পরিস্কার হয়ে যায়।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! লায়লাতুল কদর চেনার কিছু আলামতও রয়েছে। এসব আলামতের মধ্যে বিশুদ্ধ আলামত হলো: কদরের রাতান্তে যখন সকাল হবে, সেদিনকার সূর্যোদয় হবে সাদা হয়ে কিরণহীন অবস্থায়। উবায় ইবনে কাব রাযি. থেকে সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

( وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الْشَّمْسُ فِيْ صَبِيّحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لَا شُعَاعَ لَهَا )

‘আর তার আলামত হলো সেদিনকার সকালের সূর্যোদয় ঘটবে সাদা আকারে, যার কোনো কিরণ থাকবে না (মুসলিম)।

অবশ্য এ আলামতটিও কদরের রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর সকাল বেলায় জানা যাবে। এর হেকমতও লায়লাতুল কদর অনুসন্ধানে বান্দাদেরকে অধিক পরিশ্রমী করে তোলা, এবং যারা এ রাতের ফযীলত পাওয়ার জন্য পরিশ্রম করেছে তাদেরকে আনন্দিত করা।

হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী সত্যস্বপ্নের মাধ্যমেও লায়লাতুল কদর কবে তার জ্ঞান লাভ করা যেতে পারে। ইবনে উমর রাযি. থেকে বুখারী ও মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কয়েকজন সাহাবী নিদ্রারত অবস্থায় দেখেন যে, লায়লাতুল কদর রমজানের শেষ সাত দিনের মধ্যে অবস্থিত। রাসালুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমি দেখছি যে তোমাদের স্বপ্ন লায়লাতুল কদর রমজানের শেষ সাত দিনে হওয়ার ব্যাপারে এক হয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদর তালাশ করতে চায় সে যেন এই সাত দিনে তালাশ করে’ (মুসলিম)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লায়লাতুল কদর কবে তা দেখানো হয়েছিল। হাদীসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

( إنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، ثُمَّ أُنْسِيتُهَا أَوْ نُسِّيتُهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي الْوَتْرِ )

‘আমাকে লায়লাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, এরপর তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়। তাই রমজানের শেষ দশকে বেজোড় (রাতে) তোমরা লায়লাতুল কদর তালাশ করো। আর আমি নিজকে দেখেছি পানি ও কাদায় সিজদা দিতে (বুখারী) ।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! রমজানের শেষ দশকের একটি আমল হলো ইতিকাফ করা। ইতিকাফ হলো এই মুবারক দিনগুলোয় ইবাদত-বন্দেগীর উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান ও রাতযাপন করা। ইতিকাফ শরীয়তসম্মত একটি আমল হওয়ার ব্যাপারে আল কুরআনে ইঙ্গিত রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে :

{ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ }

‘এ অবস্থায় যে তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত’ (সূরা আল বাকারা:১৮৭)।

ইতিকাফ বিষয়ে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদীসের শেষাংশে রয়েছে :

( مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفْ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ فَقَدْ أُرِيْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيْتُهَا )

‘যে আমার সাথে ইতিকাফ করতে চায় সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে, কেননা এই রাত আমাকে দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে (বুখারী)।

তাই যার শক্তি সামর্থ্য আছে তার উচিত হবে ইতিকাফে বসে শেষ দশকের রাতগুলো যাপন করা। ইতিকাফকারী নিজকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর আনুগত্য, দুআ-মুনাজাত, যিকর ইত্যাদির জন্য সে নিজকে মসজিদে আঁটকে ফেলে। দুনিয়াবী সকল দৌড়ঝাঁপ থেকে মুক্ত হয়ে সে মসজিদের পবিত্র আবহে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে। মন ও শরীর উভয়টাকেই সে নিরঙ্কুশভাবে রাব্বুল আলামীনের দরবারে সঁপে দেয়। যা কিছু আল্লাহকে সন্তষ্ট করে শুধু তাতেই নিজকে সংশ্লিষ্ট করে নেয়। আর এভাবে সে শুধুই আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। যা করলে আল্লাহ রাযি হন শুধু তাতেই নিজকে নিয়োজিত করে।

সুপ্রিয় মুসল্লিয়ান! ইতিকাফের তাৎপর্য হলো, সৃষ্টজীব থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সুনির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে নিজকে আবদ্ধ করে নেয়া। আর আল্লাহ সম্পর্কে বান্দার জ্ঞান যত বাড়বে, আল্লাহর মহব্বত হৃদয়ে যত পোক্ত হবে, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে যতটুকু অগ্রসর হবে, দুনিয়ার প্রতি প্রেম ভালোবাসা ততই অর্ন্তহিত হবে।

ইতিকাফ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে পালিত জিবরীল আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। জিবরীল আ. প্রতি রমজানেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআন শুনাতেন এবং নিজেও তাঁর থেকে শুনতেন। আর যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াফাত হয় সে বছর তিনি দু’বার কুরআন শুনান এবং শোনেন (বুখারী ও মুসলিম)।

ইবনে আব্বাস রাযি.এর বর্ণনায় বুখারীতে আরো এসেছে :

( كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِيْ رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ، فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ وَكَانَ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلامُ يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ، فَلَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ )

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক দানকারী ছিলেন, তবে তিনি সবচে’ বেশি দান করতেন যখন জিবরীল আ. তাঁকে কুরআন শুনাতেন। আর জিবরীল আ. রমজানের প্রতি রাতেই তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন শেখাতেন। যখন জিব্রিল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি বেগবান বাতাস থেকেও অর্থকড়ি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অধিক দানশীল হতেন’ (বুখারী ও মুসলিম)।

ইতিকাফের ফযীলত

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর যেকোনো একটিতে শবে কদর রয়েছে। আর শবে কদরের ইবাদত তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শবে কদর প্রাপ্তির আশা নিয়েই ইতিকাফ করতেন। তিনি প্রথম দশকেও ইতিকাফ করেছেন, মধ্য দশকেও করেছেন, এরপর শেষ দশকে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন: ‘আমি প্রথম দশকে ইতিকাফ করেছি, এরপর মধ্য দশকে, এরপর আমাকে দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তা শেষ দশকে। অতএব তোমাদের মধ্যে যার ইতিকাফ করা পছন্দ হয় সে যেন ইতিকাফ করে (মুসলিম)।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن ِالْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر ِالحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو َالْغَفُور ُالرَّحِيْمْ .

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ وَأَشْكُرُهُ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلَى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْدِّيِن، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসল্লিয়ান! রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফ করা কখনো বাদ দেননি। তিনি প্রতি বছর দশ দিন ইতিকাফ করতেন। আর যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াফাত ফরমান, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। উপরন্তু যখন তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতে প্রতিযোগিতা শুরু করলেন, তিনি ইতিকাফ করা ছেড়ে দিলেন এবং তা শাওয়ালের প্রথম দশকে কাজা করে নিলেন (বুখারী)।

ইতিকাফ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন বিষয় থেকে নিজকে দূরে রেখেছেন, যা তার জন্য বৈধ ছিল। যেমন স্ত্রীসঙ্গ ও নিদ্রাগমন। রমজানের শেষ দশকে কঠোর মেহনতি হওয়া এবং লুঙ্গি বেঁধে নেয়ার ব্যাপারে আয়েশা রাযি. থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার অর্থ এটাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াফাতের পরও তাঁরা ইতিকাফ করেছেন। এমনকি আয়েশা রাযি. থেকে এক বর্ণনায় এসেছে যে, জনৈকা ইস্তেহাযাগ্রস্তা স্ত্রী একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এ অবস্থায় ইতিকাফ করলেন যে, তিনি রক্তিম ও হরিদ্রা বর্ণের রক্ত দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি যখন নামাজ পড়তেন আমরা তখন হয়তো তাঁর নিচে প্লেট রেখে দিতাম।

প্রিয় মুসুল্লিয়ান! আসুন এবার আমরা ইতিকাফের কিছু আহকাম ও মাসাইল নিয়ে আলোচনা করি।

১. রাসূল্ল্লুাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের অনুসরণ করে ইতিকাফের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা।

২. নিয়ত করে ইতিকাফ শুরু করে দেয়ার পর ইতিকাফ পূর্ণ করা জরুরী নয়।

৩. কমপে কত দিন ইতিকাফ করলে ইতিকাফ হিসেবে ধরা হবে, বিষয়টি অনির্দিষ্ট। তবে ইতিকাফকারী যেদিন থেকে ইতিকাফ শুরু করতে ইচ্ছুক, সেদিন সূর্যাস্তের পূর্বেই তাকে নিজ ইতিকাফের জায়গায় পৌঁছে যেতে হবে।

৪. নিজের জন্য একটা জায়গা বেছে নেয়া জরুরী, যেখানে নীরবে আল্লাহর যিকর-আযকার করতে পারবে। প্রয়োজনের সময় আরাম করতে পরবে। কাপড় পরিবর্তন করতে পারবে। পরিবারের কেউ এলে তার সাথে সাক্ষৎ করতে পারবে।

৫. ইতিকাফকারী মসজিদের বিভিন্ন প্রান্তে নফল নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে ইতিকাফকারীর জন্য উত্তম হলো অধিক নড়াচড়া ও নফল নামাজ না পড়া। এর প্রথম কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিজকে লুকিয়ে রাখা যায়, মসজিদের অভ্যন্তরে এমন একটি জায়গা তৈরি করে নিতেন। আর দ্বিতীয় কারণ যখন কেউ নামাজ পড়ার জায়গায় বসে থাকে তখন ফেরেশতারা তার প্রতি রহমত বর্ষণের দু‘আ করতে থাকে (বুখারী)।

৬. ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী মিলিত হওয়া, চুম্বন,স্পর্শ নিষেধ। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

{ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِد }

‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হবে না’ (সূরা আল-বাকারা : ১৮৭)।

ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

এক. মানবীয় প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন পায়খানা, প্রস্রাব, পানাহার - যদি তা মসজিদে পৌঁছে দেওয়ার মত কেউ না থাকে। অনুরূপভাবে যে মসজিদে ইতিকাফ করা হচ্ছে তাতে যদি জুমার নামাজ না হয়, তাহলে জুমা আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতি আছে।

দুই. এমন সব নেক-আমল বা ইবাদত-বন্দেগীর জন্য বের হওয়া যাবে না, যা ইতিকাফকারীর জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন রোগীর সেবা করা, জানাজায় অংশ নেয়া ইত্যাদি। তবে যদি ইতকিাফের শুরুতে এ জাতীয় কোনো শর্ত করে নেয়া হয়, তবে তার কথা ভিন্ন।

তিন. এমন সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না যা ইতিকাফ বিরোধী। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, চাষাবাদ ইত্যাদি। ইতিকাফ অবস্থায় এ সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যাবে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমাদের সমাজে একটা অশুভ চিত্র দেখা যায়, আর তা হলো, রমজানের শুরুতে তারাবীহ নামাজের সময় মসজিদ পূর্ণ থাকে। তবে যতই দিন যেতে থাকে ততই মুসল্লীদের সংখ্যা কমে যেতে থাকে। একজন মুমিনের জন্য এভাবে হিম্মত হারা হয়ে যাওয়া আদৌ উচিত নয়। রমজানের সওগাত কুড়াতে গিয়ে অলসতা একজন খাঁটি মুমিনের আচরণ হতে পারে না। তারাবীহ নামাজে অংশ না নিয়ে অনেকেই আবার খেল-তামাশায় মত্ত হয়ে পড়ে। এটা মাহে রমাজানের পবিত্রতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন বই অন্য কিছু নয়। যারা গাফেল তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। যারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুরসরণের দাবি করে তাদেরকেও সচেতন হতে হবে। শবেকদর পাওয়ার জন্য রাত জেগে মেহনত করতে হবে। নামাজে মাশগুল হতে হবে। এটা সত্যিই অবর্ণনীয় ত্র“টি ও দুর্ভাগ্য যে এমন একটি রজনীর খবর দেয়া হল যার ইবাদত তিরাশি বছর ইবাদাতের সমান। অথচ এ রজনীকে পাওয়ার জন্য ইবাদত না করে হেলাফেলায় সময় কাটিয়ে দেওয়া হল।

যে ব্যক্তি মাহে রমজানকে উদ্যম-উৎসাহে শুরু করল, পুরো রমজান কাঙ্খিত সিয়াম সাধনায় কাটানোর প্রেরণা নিয়ে শুরু করল, অথচ কিছুদূর না এগোতেই হিম্মত হারিয়ে ফেলল, এরূপ ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিবেদিত মুমিন হতে পারে না। আমাদের পূর্বসুরীদের ব্যাপারে তো আল্লাহ তাআলা বলেছেন :

{ كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ، وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ. }

‘রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো। আর রাতের শেষ প্রহরে এরা মা চাওয়ায় রত থাকত’ (সূরা আয-যারিয়াত:১৭-১৮)।

তাঁরা রাতের অধিকাংশ ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটানোর পরও কেন ইসতেগফার করতেন, আল্লাহর কাছে মা চাইতেন? আল্লাহর হক আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ত্র“টি হয়ে গেল কি না এই অনুভূতি থেকেই তাঁরা এরূপ করতেন।

মুহতারাম হাযেরীন! আসুন আমরা সেই ব্যক্তিদের মতো হই যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :

{ وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ. }

‘আর যারা যা দান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে করে থাকে এজন্য যে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল’ (সূরা আল মুমিনূন:৬০)।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আপনি আমি ঈমানের যে নিয়ামত পেয়েছি, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহেই। তাই আমাদের বলা উচিত :

{ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ }

‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়েত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়েত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়েত দিতেন’ (সূরা আল-আরাফ:৪৩)।

সকল নিয়ামত আল্লাহ তাআলার প হতে এবং তিনি ইচ্ছে করলে যেকোনো নিয়ামত মুহূর্তের মধ্যে ছিনিয়ে নিতে পারেন। এমনকি আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহীর যে নিয়ামত দিয়েছেন তাও তিনি নির্দ্বিধায় ছিনিয়ে নিতে পারেন। ইরশাদ হয়েছে :

{ وَلَئِنْ شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهِ عَلَيْنَا وَكِيلًا }

‘আর আমি ইচ্ছা করলে তোমার কাছে ওহীর মাধ্যমে যা পঠিয়েছি তা অবশ্যই নিয়ে নিতে পারতাম অতঃপর এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোনো কর্মবিধায়ক পেতে না। (সূরা আল ইসরা:৮৬)।

তাই ইবাদত-বন্দেগী করে দম্ভ ও গর্ব করার আদৌ কোন যৌক্তিকতা নেই। বরং আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে আমল কবুল না হওয়ার আশঙ্কা রাখতে হবে। কেননা আল্লাহর পাকড়াও সম্পর্কে তিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ নিরাপত্তাবোধ করে না। আর আল্লাহ তাআলা তো কেবল মুত্তাকী ব্যক্তিদের নেক-আমলই কবুল করেন।

তাই আমাদের উচিত, মাহে রমজানের বাকি দিনগুলোতে প্রচুর মেহনত করা। আমাদের আমল কবুল হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে হৃদয়ে শঙ্কা ও ভয় রাখা। আল্লাহ যাদের আমল কবুল করেন তাদের পর্যায়ে নিজদেরকে নিয়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে অকান্ত পরিশ্রম ও মেহনত করে যাওয়া।

প্রিয় মুসল্লিয়ান! শবেকদরের সাক্ষাৎ পেলে আমাদের উচিত হবে, আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে মা চাওয়া। আয়েশা রাযি. কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দু‘আ শিখেয়েছেন তা পড়া। অর্থাৎ:

( اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ )

‘হে আল্লাহ! আপনি অতি মাশীল, আপনি মা করা পছন্দ করেন, তাই আমাকে মা করে দিন’ (তিরমিযী, সহীহ)।

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطِّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে মাহে রমজানের হক পুরোপুরি আদায় করার তাওফীক দান করুন। রমজানের বাকি দিনগুলো যেন উত্তমভাবে কাটাতে পারি সে তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। শেষ দশকে যেন আমাদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত মেহনত ও পরিশ্রম করতে পারি সে তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। ইয়া রাব্বাল আলামীন! আপনার রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন আমাদেরকে সেভাবে রমজান যাপনের তাওফীক দান করুন। আমাদেরকে ইতিকাফ করার তাওফীক দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে লায়লাতুল কদর পাওয়ার জন্য শেষ দশকে মেহনত করার তাওফীক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের আহল ও আয়াল সবাইকে আপনি মাহে রমজানের নিয়ামতসামগ্রী উত্তমরূপে হাসিলের তাওফীক দিন। মুসলিম উম্মাহর উপর থেকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত দূর করে দিন। মুসলিম উম্মাহকে হিফাযত করুন। আমাদের শাসকদেরকে আপনি যে পথে চললে রাযি খুশী হন সে পথে চলার তাওফীক দিন। দেশের কল্যাণে, ইসলামের কল্যাণে তাদেরকে কাজ করে যাওয়ার তাওফীক দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ:(إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.