পাঠ সংক্ষেপ

খুতবায় যা থাকবে : ১-আল্লাহ তাআলা যা পছন্দ করেন সৃষ্টি করেন, ২-কল্যাণ অর্জনের মৌসুম ও নেক-আমলের মাধ্যমে তা যাপন করার পদ্ধতি, ৩-যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের ফযীলত, ৪-বান্দার ওপর আল্লাহর রহমতের ব্যাপকতা

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ بَيَّنَ الطَّرِيقَ وَأَوْضَحَ الْمَحَجَّةَ، وَ أَرْسَلَ رُسُلَهُ مُبَشِّرِيْنَ وَمُنْذِرِيْنَ لِئَلَّا يَكُوْنَ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ الَّذِيْ كَسَاهُ مِنْ حُلَلِ النُّبُوَّةِ وَالرِّسَالَةِ مَهَابَةً وَبَهْجَةً، صَلَّىَ اللهُ وَسَلَّمَ وَبَارَكَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! একজন মুসলমানের কাজে ও সময়ে নিহিত থাকে বরকত। আর সব থেকে বেশি রকতপূর্ণ কাজ হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করা, নেক-আমল করা। আনুগত্য ও নেক-আমল বহুগুণে বেড়ে গিয়ে রকতময় হয়ে ফিরে আসে আমলকারীর কাছে। ইরশাদ হয়েছে:

{ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا }

‘যে সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ’ (সূরা আল আনআম: ১৬০)।

হাদীসে এসেছে, ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন :

( إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذَلِكَ فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً وَإِنْ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَإِنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً وَإِنْ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً )

‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ভালো কাজ ও মন্দ কাজ লিপিবদ্ধ করেছেন। এরপর তিনি তা বয়ান করেছেন। অতঃপর যে ব্যক্তি একটি নেক-আমল করার ইচ্ছা করল, কিন্তু আমল করল না, আল্লাহ তার কাছে তা একটি পূর্ণ নেকি হিসেবে লিপিবদ্ধ করবেন। আর যে ব্যক্তি একটি নেক-আমল করার ইচ্ছা করল এবং সে তা করেও ফেলল আল্লাহ তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ, এমনকী আরো বহুগুণ বাড়িয়ে লিখবেন। আর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ করার ইচ্ছা করল, অথচ সে তা করল না, আল্লাহ তাআলা তার কাছে তা একটি পূর্ণ নেকি হিসেবে লিখে নেবেন। আর যে ব্যক্তি একটি গুনাহ করার ইচ্ছা করল এবং তা করে ফেলল, আল্লাহ তাআলা তা একটি গুনাহ হিসেবেই লিখবেন। যে ব্যক্তি নিজেই ধ্বংসে নিপতিত হয় সে ছাড়া আল্লাহর ব্যাপারে কেউ ধ্বংস হয় না’ (বুখারী ও মুসলিম)।

এর দ্বারা বুঝা যায়, আনুগত্যের সকল আকার-প্রকৃতিই বরকতময়। আনুগত্যপূর্ণ কথা বরকতময় কথা কেননা আনুগত্যপূর্ণ একটি কথা, দশটি নেকির সমতুল্য করে আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে লিপিবদ্ধ করেন এবং এর দ্বারা তিনি বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত হিফাযত করেন। আর যখন বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন তিনি তাঁর প্রতি অনন্তকালের জন্য রাজি হয়ে যাবেন।

আল্লাহর আনুগত্যপূর্ণ আমল বরকতময় আমল। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতিটি দশ ওয়াক্ত নামাজের সমান। একটি হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে :

( أَمْضَيْتُ فَرِيضَتِي وَخَفَّفْتُ عَنْ عِبَادِي )

‘আমি আমার ফরয বিধিবদ্ধ করে দিয়েছি এবং হালকা করে দেয়েছি বান্দাদের বোঝা’ (বুখারী ও মুসলিম)।

ফরয নামাজ বাস্তবে পাঁচটি। তবে ছাওয়াবের নিরিখে পঞ্চাশটি। একমাস রমজানের রোজা দশ মাস রোজার সমান। হাদীসে এসেছে :

( رَمَضَانُ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ، وَسِتُّ شَوَّالٍ بِشَهْرَيْنِ )

‘রমজান দশ মাসের (রোযার) সমান আর শাওয়ালের ছয় রোযা দুই মাসের (রোযার) সমান’ (ইবনে খুযাইমা ও নাসাঈ, সহীহ)।

আর সাদকার প্রতিদান সাতশতগুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে দেয়া হয় (আহমদ)। আর মাবরুর হজ্বের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু নয় (বুখারী ও মুসলিম)।

নামাজ পাপ-গুনাহ থেকে পবিত্রকারী। হাদীসে এসেছে :

( أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ ؟ قَالُوا : لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ ، قَالَ : فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَ )

‘ ভেবে দেখো! যদি তোমাদের কারো ঘরের দরজার কাছে একটি নদী থাকে, যাতে সে রাতে ও দিনে পাঁচ বার গোসল করে, এমতাবস্থায় তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকবে?’ সাহাবীরা বললেন, ‘না, থাকবে না’। তিনি বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণও একই রকম- অর্থাৎ এর দ্বারা তিনি গুনাহসমূহ মুছে দেন (বুখারী ও মুসলিম)।

আল্লাহর জন্য আনুগত্য লেনদেন ও আচরণের ক্ষেত্রেও বরকতময় কেননা সুন্দর আচরণের মাধ্যমে মানুষ সিয়াম পালনকারী ও রাত্রিযাপনকারীর মর্যাদা পেয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিবেশী হবার যোগ্যতা অর্জন করে, জান্নাতের শীর্ষস্তরে একটি বাড়ির মালিক হয়ে যায়, ঈমানকে পূর্ণতা দানে সক্ষম হয় এবং ছাওয়াবের পাল্লা ভারি করে নেয়।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! সব থেকে বরকতময় সময় হলো যিলহজ্বের প্রথম দশ দিন। এ দশ দিনের মর্যাদা আল্লাহর নিকট অনেক বেশি। এ দশ দিন আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার দশ দিন মুবারক দশ দিন।

এ দশ দিনের মর্যাদা বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এ দশ দিনের কসম করেছেন। তিনি বলেন :

{ وَالْفَجْرِ. وَلَيَالٍ عَشْرٍ }

‘শপথ ফজরের ও দশ রাতের’ (সূরা ফজর:১-২)।

দশ রাত বলতে এখানে যিলহজ্বের দশ রাতকে বুঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বড় কোনো বিষয় ছাড়া কসম খান না। যেমন আকাশ, পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, বাতাস ইত্যাদি। কাল ও সময় নিয়ে কসম করলে কাল ও সময়ের মধ্যে যা উত্তম তা নিয়েই তিনি কসম করেন, যেমন ফজর, আসর, দুহা, রাত, দিন এবং যিলহজ্বের দশ দিন। স্থান নিয়ে কসম করলে সর্বোত্তম স্থান নিয়েই তিনি কসম করেন, যেমন মক্কা। যদিও আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্ট যেকোনো বিষয় নিয়েই কসম করতে পারেন। তবে মানুষের জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে কসম করা হারাম।

সুপ্রিয় শ্রোতামণ্ডলী! আল্লাহ তাআলা উত্তম সময়গুলোর সাথে যুক্ত করে যিলহজ্বের প্রথম দশ দিনকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন :

{ وَالْفَجْرِ، وَلَيَالٍ عَشْرٍ، وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ، وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ }

‘কসম ভোর বেলার। কসম দশ রাতের। কসম জোড় ও বেজোড়ের। কসম রাতের যখন তা বিদায় নেয়’ ( সূরা আল ফাজর: ১-৫)

তিনি ফজর তথা, ভোরবেলার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জোড়-বেজোড় এবং রাতের কথা উল্লেখ করেছেন। ফজরের সময়- ঘুম আকারে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়ার সময়। স্তব্ধতার পর নড়াচড়া শুরু হওয়ার সময়। দুর্বলতার পর মানুষের শরীরে শক্তি ফিরে আসার সময়। ফজরের সময় একত্রিত হয় ফেরেশতারাও। ওপরন্তু, কে মুমিন কে মুনাফিক তাও চেনা যায় ফজরের মুহূর্তে। আল্লাহ তাআলা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনকে জোড় ও বেজোড় সংখ্যার সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন। এ জোড়-বেজোড় সংখ্যায় আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন তাঁর সমস্ত মাখলুক। রাতের সাথেও যুক্ত করে তিনি এ দশ দিনকে উল্লেখ করেছেন। আর আল কুরআনে দিনের তুলনায় রাত উলি¬খিত হয়েছে অধিক সংখ্যায়। রাত উলি¬খিত হয়েছে ৭২ বার, আর দিন ৫৭ বার। রাত নফল ইবাদতের জন্য উত্তম সময়। ইখলাস ঐকান্তিকতার প্রমাণ পেশ করার জন্যও উত্তম হলো রাতের বেলা। কেননা এ সময় ইবাদতকারীকে একমাত্র আল্লাহ তাআলাই দেখেন, তার অবস্থা সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা রাত্রিকালীন ইবাদাতকারীদের প্রশংসা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে :

{ وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمْ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلامًا وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا ‘ }

আর রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’, আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদারত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত্রি যাপন করে’ (সূরা আল ফুরকান: ৬৩-৬৪)।

রাতের ইবাদতে রয়েছে আলাদা তৃপ্তি, আলাদা স্বাদ। সালাফদের একজন বলেছেন: রাত না থাকলে বেঁচে থাকা কখনো কাম্য হত না। অন্য একজন বলেছেন: ইবাদতের মাধ্যমে রাত্রিযাপন, জামাতের সাথে নামাজ আদায় এবং নেককার ব্যক্তিদের সঙ্গদান ছাড়া দুনিয়ার কোনো স্বাদ আর অবশিষ্ট নেই।

যিলহজের প্রথম দশ দিনের আরেকটি ফযীলত হলো, আল্লাহ তাআলা এ সময় মুসলমানদের জন্য তাঁর দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন।

দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দেয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এ ঘটনা যিলহজ্বের প্রথম দশকেই ঘটেছিল। দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দেয়া এমনি এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যা ইহুদীদেরকেও ঈর্ষান্বিত করে দিয়েছিল। জনৈক ইহুদী আলেম উমর রাযি. কে বলেছিল: আপনাদের কিতাবের একটি আয়াত যদি আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের ওপর নাযিল হত, তাহলে আমরা ওই দিনটিকে ঈদ হিসেবে পালন করতাম। আয়াতটি হলো :

( الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمْ الإِسْلامَ دِينًا )

‘ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম’। উমর রাযি. বললেন,‘আমি জানি, উক্ত আয়াত কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে। আরাফার দিন শুক্রবারে আয়াতটি নাযিল হয়েছে’ (বুখারী)।

প্রিয় ভাইয়েরা! যিলহজ্বের প্রথম দশকের একটি ফযীলত এও যে, মুসলমানদের ওপর এ দশকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দেয়ার একটি দিক হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের হৃদয়কে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে মানুষ দলে দলে ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিতে শুরু করল। এর বড় প্রমাণ, নিয়াতম পরিপূর্ণ করে দেয়ার ঘোষণার সময় মুসলমানদের সংখ্যা ছিল এক হাজারের কিছু বেশি। আর বর্তমানে মুসলমানদের সংখ্যা শতকোটিরও ঊর্ধ্বে। নিয়ামত পরিপূর্ণ করার আরেটি দিক হলো, ইসলামকে সকল দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে দেয়া, প্রকাশ করে দেয়া। আরব উপদ্বীপে ইহুদীধর্ম ছিল, খৃষ্টধর্ম ছিল, পৌত্তলিকতা ছিল, অগ্নিপূজা ছিল। ইসলাম সবগুলোকেই জাযিরায়ে আরাবিয়া (আরব উপদ্বীপ) থেকে বিদায় করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইরশাদ হয়েছে :

{ هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا }

‘তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়েত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি এটাকে সকল দীনের ওপর বিজয়ী করতে পারেন। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট’ (সূরা আল ফাতহ: ২৮)।

নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দেয়ার আরেকটি দিক হলো, কাফির, মুশরিকদের পবিত্র হারাম অঞ্চলে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া। পবিত্র অঞ্চল শুধু মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যাওয়া ফলে মুসলমানরা সুযোগ পেয়ে যায় অভিন্ন শরীরে পরিণত হবার। এক ও অদ্বিতীয় মাবুদের নির্বিঘ্ন তাওহীদ চর্চায় রত হবার। এক কালেমা মজবুত করে আঁকড়ে ধরার। সবাই এক ও অভিন্ন পথে চলতে এটা নিঃসন্দেহে এক বিশাল নিয়ামত। আহলে ঈমান প্রতিষ্ঠিত হলো। আহলে কুফর নিপাত গেল এবং পরাহত হলো।

প্রিয় ভাইয়েরা! যিলহজ্বের প্রথম দশকের আরেকটি ফযীলত হলো, এই দশকে সকল ইবাদত একত্রিত হয়, যা অন্যকোনো সময় হয় না। এ দিবসগুলো পরিপূর্ণতার দিবস। এ দিবসগুলোয় রয়েছে নামাজ, রয়েছে যাকাত ওই ব্যক্তির জন্য যার সম্পদের নেসাবপূর্তির একবছর পেরিয়েছে। এতে রয়েছে নফল রোজা-পালনকারীর জন্য রোজা। অথবা যে হজ্বে কুরবানী করার হাদী পেল না তার জন্য রোজা। এতে রয়েছে বায়তুল¬াহর হজ্ব, যা অন্যকোনো সময় থাকে না। এতে রয়েছে যিকর, তালবিয়া, দু‘আ- আর এসবই হলো দলিল। উলি¬খিত সকল ইবাদাতের একত্রিত হওয়া নিশ্চয়ই যিলহজ্বের প্রথম দশকের সীমাহীন মর্যাদাকেই নির্দেশ করে।

মুহতারাম ভাইয়েরা! যিলহজ্বের প্রথম দশকের ফযীলতের আরেকটি দিক হলো, যিলহজ্বের এ দশ দিন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দশ দিন। এ প্রসঙ্গে বহু হাদীস রয়েছে। যেমন:

( مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ، فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ )

‘যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করার মত প্রিয় আল্লাহর নিকট আর কোনো আমল নেই। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদ করা কি তার চেয়ে প্রিয় নয়’? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না, আল্লাহর পথে জিহাদও না। তবে ঐ ব্যক্তির কথা আলাদা যে তার প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয়ে গেল অতঃপর তার প্রাণ ও সম্পদের কিছুই ফিরে এল না’ (তিরমিযী, সহীহ)।

অন্য এক হাদীসে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

( مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنْ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ ‘ )

এ দশ দিনে (নেক) আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) তাকবীর (আল্লাহু আকবার) তাহমীদ (আল হামদু লিল্লাহ) বেশি করে পাঠ কর (আহমদ, সহীহ)

যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকে রয়েছে আরাফা ও কুরবানীর দিন। আর এ দ’ুটো দিনের রয়েছে অনেক বড় মর্যাদা। যেমন হাদীসে এসেছে :

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَهُ عَنْهَا قَالَتْ : إِنَّ رَسُوْلَ اللَّهِ- صَلَّىَ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرُ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيْهِ عَبْداً مِنْ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُوْ ثُمَّ يُبَاهِيْ بِهِمُ الْمَلَائِكَةَ، فَيَقُوْلُ : مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ ؟

‘আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আরাফার দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এত অধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্যকোনো দিনে দেন না। তিনি এ দিনে বান্দাদের নিকটবর্তী হন এবং তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন,‘তোমরা কি বলতে পার আমার এ বান্দারা আমার কাছে কী চায় ?’ (মুসলিম)।

আরাফা দিবস (যিলহজমাসের নয় তারিখ) ক্ষমা ও মুক্তির দিবস। এ দিবসে সওম পালন দু’বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হিসেবে গণ্য হয়। হাদীসে এসেছে :

( صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ اَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفَّرَ السنَّةِ الَّتِيْ قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِيْ بَعْدَهُ)

‘ আরাফার দিনের সওম এর দ্বারা আমি মনে করি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিগত ও আগত বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করবেন’ (মুসলিম)

তবে আরাফার এ দিনে আরফার ময়দানে অবস্থানকারী হাজীগণ সওম পালন করবেন না।

আর কুরবানীর দিনের ফযীলত সম্পর্কে হাদীসে এসেছে: আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে উত্তম দিন হল কুরবানীর দিন, তারপর কুরবানী পরবর্তী মিনায় অবস্থানের দিনগুলো’ (আবু দাউদ)।

أَقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِيْ وَلَكُمْ وَلِسَائِرِ الْمُسْلِمِيْنَ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ، فَاسْتَغْفِرُوْهُ وَتُوْبُوْا إِلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الْرَّحِيْمُ.

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ اهْتَدَىَ بِهَدْيِهِ الْمُهْتَدُوْنَ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُوْنَ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ الصَّادِقُ الْأَمِيْنُ، صَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ وَبَارَكَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ :

মুসল্লীয়ানে কেরাম! যিলহজ্বের প্রথম দশক মর্যাদাপূর্ণ দশক। এ দশকে বেশি বেশি নেক আমল করা আমাদের কর্তব্য। তা হলে আসুন, শুনে নেই এ দশকে কি কি নেক আমল করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।

এক. আল্লাহ তাআলার যিকর করা

এ দিনসমূহে অন্যান্য আমলের মধ্যে যিকরের এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন:

( فَأَكْثِرُوْا فِيْهِنَّ مِنَ التَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ وَالتَّحْمِيْدِ )

‘অতঃপর তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) তাকবীর (আল্লাহু আকবার) তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি করে আদায় কর’ (আহমদ)।

মহাগ্রন্থ আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

{ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ }

‘ যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিযক হিসেবে দান করেছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে’ (সূরা আল হাজ্জ্ব: ২৮)।

অধিকাংশ আলিম বলেন, এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিনসমূহ বলতে যিলহজ্বের প্রথম দশ দিনকে বুঝানো হয়েছে।

যিকর হিসেবে এই দিনগুলোতে বেশি-বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কেননা কুরআন তিলাওয়াত হলো সর্বোত্তম যিকর। আর কুরআনে রয়েছে রহমত, বরকত, আজমত, প্রভাব ও শিফা। আমাদের এটাও স্মরণ রাখতে হবে যে, যিকর হলো আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় বিষয়। যিকর হলো দুনিয়া-আখেরাতে নাজাতের কারণ সফলতার কারণ, কুফর ও শয়তান থেকে, জাহান্নামের আগুন থেকে, সুরক্ষার কারণ। যিকরের কারণে বান্দা আল্লাহর কাছে আলোচিত হয়। ফেরেশতারা যিকরকারীর জন্য দু‘আ করেন। যিকর হলো সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সর্বোত্তম আমল। পবিত্রতম আমল। মর্যাদার বিবেচনায় শীর্ষতম আমল। যিকর পাল্লাকে ভারি করে। যিকরের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়, দরজা বুলন্দ হয়, প্রতিদান বহুগুণে বেড়ে যায়। যিকরের মজলিস ফেরেশতাদের মজলিস। ক্ষমা ও মাগফিরাতের মজলিস। জান্নাত-ঈমান-সৌভাগ্য-রহমত সাকীনাত ও প্রশান্তির মজলিস। যিকরকে আল্লাহ তাআলা নামাজের সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন :

{فَإِذَا قَضَيْتُمْ الصَّلاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ }

‘অতঃপর যখন তোমরা সালাত পূর্ণ করবে তখন আল্লাহর স্মরণ করবে’ (সূরা আন নিসা : ১০৩)।

যিকরকে তিনি জুমার সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন:

{ فَإِذَا قُضِيَتْ الصَّلاةُ فَانتَشِرُوا فِي الأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ }

‘ অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর’ (সূরা আল জুমুআ : ১০)।

যিকরকে তিনি রোজার সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন:

{ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ }

‘আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়েত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর (সূরা আল বাকারা : ১৮৫)।

যিকরকে তিনি হজ্বের সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন:

{ فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا }

‘ তারপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কাজসমূহ শেষ করবে, তখন আল¬হকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে, এমনকি তার চেয়ে অধিক স্মরণ’ (সূরা আল বাকারা: ২০০)।

যিকরকে তিনি জিহাদের সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেছেন:

{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ }

‘হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোনো দলের মুখোমুখি হও, তখন অবিচল থাক। আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর’ (সূরা আল আনফাল : ৪৫)।

শুধু তাই নয় বরং যিকরকে তিনি সর্বাবস্থার আমল হিসেবে আপন করে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন:

{ فَإِذَا قَضَيْتُمْ الصَّلاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ }

‘ অতঃপর যখন তোমরা সালাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে’ (সূরা আন নিসা: ১০৩)।

দুই. উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করা

এ দিনগুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মহত্ত্ব ঘোষণার উদ্দেশ্যে তাকবীর পাঠ করা সুন্নত। এ তাকবীর প্রকাশ্যে ও উচ্চস্বরে মসজিদ, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, বাজারসহ সর্বত্র উচ্চ আওয়াজে পাঠ করতে হবে। তবে মেয়েরা নিু-স্বরে পাঠ করবে। তাকবীর হল:

اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ

সুপ্রিয় হাযেরীন! আজকে আমাদের সমাজে তাকবীর পাঠের এ সুন্নতটি পরিত্যাজ্য হয়ে গেছে। এর আমল দেখা যায় না। তাই আমাদের উচিত হবে এ সুন্নতটির প্রচলন করা। এতে তাকবীর বলার ছাওয়াব অর্জন হবে এবং সাথে সাথে একটি বিলুপ্ত হওয়া সুন্নত জীবিত করার ছাওয়াবও পাওয়া যাবে।

তিন. বায়তুল্লাহর হজ্ব করা

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! যিলহজ্বের প্রথম দশকের সর্বোত্তম আমল হলো বায়তুল¬াহর হজ্ব করা এবং হজ্বের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। আর যারা হাজী নয় তাদের জন্য রয়েছে আরাফা দিবসের রোজা। কেননা আরাফা দিবসের রোজায় বিগত একবছর ও আগত একবছরের পাপ-গুনাহ মাফ হয়ে যায় (দ্র:মুসলিম)।

চার. নিয়মিত ফরয ও ওয়াজিবসমূহ আদায়ে যত্নবান হওয়া

অর্থাৎ ফরয ও ওয়াজিবসমূহ সময়মত, সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। যেভাবে আদায় করেছেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পাশাপাশি ফরয নামাজের আগে-পরের সুন্নত নফলগুলো আদায়েও যতœবান হওয়া।

পাঁচ. বেশি বেশি দান-খয়রাত করা

দান-খয়রাত আল্লাহকে রাযিখুশী করার অন্যতম মাধ্যম। আর এ দশ দিনে দান-খয়রাত করা মাহে রমজানে দান-খয়রাত করার চেয়েও উত্তম।

ছয়. রোজা রাখা

হাফসা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীস থেকে এ দিনগুলোতে রোজা রাখার বিধান পাওয়া যায় (দ্র: সহীহ সুনানে আবু দাউদ-২১০৬)।

তবে যিলহজ্বের দশ তারিখে রোজা রাখা যাবে না। কেননা সেদিন ঈদুল আযহা। আর ঈদের দিন রোজা রাখা বৈধ নয়।

মুহতারাম হাযেরীন! যার ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব অথবা যে ব্যক্তি কুরবানী করতে ইচ্ছুক তার উচিত-চুল, চর্ম ও নখ ইত্যাদি কর্তন থেকে বিরত থাকা। তবে এ বিষয়টি কুরবানীদাতার জন্যই নির্দিষ্ট। পরিবারের সদস্য, যাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে, তাদের জন্য এসব করার বৈধতা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কুরবানী করতেন। একটি নিজের ও নিজ পরিবারের জন্য। অপরটি গোটা উম্মতের পক্ষ থেকে। তবে তিনি পরিবারের সদস্যদেরকে এসব থেকে বিরত থাকতে বলেছেন বলে কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উম্মতের পক্ষ থেকে উত্তম জাযা দান করুন। আমাদের জাহের বাতেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের পায়রবীতে ভরে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজে কাউসার থেকে আমাদেরকে পান করার তাওফীক দান করুন। নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে আমাদেরকে প্রিয় নবীর সাথে একত্রিত করুন। আল্লাহ সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান, পরম দয়াশীল।

প্রিয় ভাইয়েরা! আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ুন। যিলহজের প্রথম দশকে এবং তার বাইরেও সব সময় বেশি বেশি দুরুদ পড়ুন। কেননা আপনার আমার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হক সব থেকে বেশি।

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطِّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.