পাঠ সংক্ষেপ

খুতবায় যা থাকবে : ১ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বতের হাকীকত বয়ান, ২ - ইবাদত কখনো কবুল হবে না যদি না তা সুন্নত মুতাবিক হয়, ৩ – ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ কথায় ঈমান আনার অর্থ একনিষ্ঠভাবে তাঁর অনুসরণ করা

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ فَتَحَ لَنَا أَبْوَابَ الْهُدَىَ بِمَنْ جَعَلَهُ خَيْرَ الْأَنَامِ، وَجَعَلَ أُمَّتَهُ خَيْرَ الْأُمَمِ وَجَعَلَ الذِّلَّةَ وَالصَّغَارَ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرَهُ مِنْ ذَوِيْ الْإِجْرَامِ، نَحْمَدُهُ عَلَى مَا أَسْبَغَ الْأَنَامَ مِنْ جَزِيْلِ الْإِنْعَامِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

মুহতারাম হাযেরীন! আমাদের মাঝে এমন কে আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না? এমন কে আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পছন্দের জিনিসকে পছন্দ করেন না? এমন কে আছেন যিনি আখেরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথী হওয়ার আশা রাখেন না?

এমন কে আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফায়াতের প্রত্যাশা করেন না?

হ্যাঁ, সবাই তা চায়। সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শাফায়াতের প্রত্যাশা করে। সবাই তাঁকে ও তাঁর মুহাব্বতের জিনিসকে মুহাব্বত করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর পথ ও পদ্ধতি কি? কিভাবে তা লাভ করা যায়?

হ্যাঁ, এর পথ একটিই। পদ্ধতি একটিই। আর সেটা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করা। তাঁর সুন্নতকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। এ কারণেই মহান আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসাকে অত্যাবশ্যক করে দিয়েছেন। অতএব, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা ছাড়া ঈমানই পূর্ণতা লাভ করবে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহব্বতের আলামত হলো, তাঁর অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং তাঁর সুন্নতের ইত্তিবা করা। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে অসংখ্য আয়াত রয়েছে। হাদীসেও রয়েছে অসংখ্য প্রমাণ। নিম্নে কুরআন ও হাদীস থেকে কয়েকটি প্রমাণ উলে¬খ করা হল:

কোরআনের প্রমাণ:

আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ قُلْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْكَافِرِينَ }

‘বল, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না’ (সূরা আলে-ইমরান: ৩২)।

অন্য এক আয়াতে এসেছে :

{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً }

‘ হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারিদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাওÑ যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর’ (সূরা নিসা: ৫৯)।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন :

{ منْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللّهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً }

‘যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি’ (সূরা নিসা: ৮০)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :

{ قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ }

‘বল, যদি তোমরা আল¬হকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল¬¬াহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল¬¬াহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আলে ইমরান:৩২)।

তিনি আরো বলেন :

{ وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا }

‘আল্লাহ ও তার রাসূল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে এ অধিকার নেই যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়’ (সূরা আহযাব: ৩৬)।

হাদীসের প্রমাণ :

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

( وَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَىْ اخْتِلَافاً كَثِيْراً فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ عَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ )

‘আর তোমাদের কেউ বেঁচে থাকলে সে বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য হবেÑ আমার সুন্নত এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত অনুসরণ করা। তোমরা এ সুন্নতকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকো এবং সমস্ত বিদআত থেকে বিরত থাকো। কেননা প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা’ (আবু দাউদ, তিরমিযী)।

অন্য এক হাদীসে এসেছে :

(كُلِّ أُمَّتِيْ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَىْ قَالُوْا وَمَنْ يَأْبَىْ قَالَ مِنَ أَطَاعَنِيْ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ أَبَىْ )

আবু হুরাইরা রাযি. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার প্রতিটি উম্মত জান্নাতে যাবে। তবে যে অস্বীকার করে সে নয়। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অস্বীকারকারী কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে আমার অনুকরণ করল সে জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে-ই অস্বীকারকারী’ (বুখারী)।

সুন্নতের বাইরে বিদআত নির্ভর অক্লান্ত মেহনত-মুজাহাদ করে কোনো লাভ নেই। হাদীসে এসেছে :

( الْقَصْدُ فِي السُّنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الاجْتِهَادِ فِي الْبِدْعَةِ )

‘ সুন্নত অবলম্বন করে মধ্যমপন্থায় চলা, বিদআত অবলম্বন করে অক্লান্ত মেহনত করার চেয়েও উত্তম’ (ইবনে হাজর)।

(وَعَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ :كُنَّا مَعَ ابْنِ عُمَرَ رَحِمَهُ اللَّهُ فِيْ سَفَرٍ فَمَرَّ بِمَكَانٍ فَحَادَ عَنْهُ، فَسُئِلَ لِمَ فَعَلْتَ ذلِكَ؟ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هَذَا فَفَعَلْتُ )

‘ মুজাহিদ রহ. বলেন, ‘আমরা একদা এক সফরে ইবনে উমর রাযি.-এর সঙ্গে ছিলাম। চলতে চলতে একস্থানে গিয়ে তিনি রাস্তা ছেড়ে অন্য দিকে গেলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কেন আপনি এমনটি করলেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। তাই আমিও তার অনুকরণে এমনটি করেছি’ (আহমদ)।

মুহতারাম ভায়েরা! ইত্তেবায়ে সুন্নতের বহু ইতিবাচক ফলাফল রয়েছে। আসুন আমরা এসব ফলাফলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করি।

এক. ক্ষতিকর ও গর্হিত মতানৈক্য থেকে সুরক্ষা : পরস্পরে নিন্দিত মতবিরোধ ও ক্ষতিকর মতানৈক্য অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আর এ থেকে কেবল আল্লাহ তাআলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যের মাধ্যমেই বেঁচে থাকা সম্ভব। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَلاَ تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوَاْ إِنَّ اللهَ مَعَ الصّابِرِين }

‘ তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর। এবং তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না। তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’ (সূরা আনফাল: ৪৬)।

উপরের আয়াত থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সুন্নতের ইত্তেবা করা এবং তাকে আঁকড়ে ধরাই হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। আর নিন্দনীয় এখতেলাফ বা মতানৈক্য থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র পথ হল আনুগত্য।

দুই: রাসূলুল্লাহ সাল¬াল¬হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিন্দিত ফেরকা থেকে বেঁচে থাকা এবং নাজাতপ্রাপ্ত ফেরকার সাথে জুড়ে থাকার সুযোগ পাওয়া যায় ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে। হাদীসে এসেছে :

( لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِيْ مَا أَتَى عَلَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيْلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِيْ عَلَى ثَلَاثِ وَّسَبْعِيْنَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِيْ النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً، قَالُوْا مَنْ هِيَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِيْ ‘ )

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন বনী ইসরাঈলের ওপর যেমন এসেছিল আমার উম্মতের ওপর হুবহু ঐরকম আসবে একেবারে জুতায় জুতায় মিলে যাওয়ার মতো। বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মত বিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। তন্মধ্যে একটি ছাড়া সবক’টি দলই জাহান্নামে যাবে। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, সে জান্নাতী দল কোনটি ইয়া রাসূুলাল¬াহ? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবাগণ যার ওপর আছি’ (তিরমিযী,সহীহ)।

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ও তাঁর সাহাবীগণ যে আকীদা-বিশ্বাসের ওপর ছিলেন, যে আমল ও কর্মপন্থার ওপর ছিলেন, তা আঁকড়ে ধরাই জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির পথ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিন: ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে হিদায়েত হাসিল হয়। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

( إِنِّيَ قَدْ تَرَكْتُ فِيْكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا بَعْدَهُمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّتِي وَلَنْ يَتَفَرَّقَا حَتَّى يَرِدَ عَلَيَّ الْحَوْضَ )

‘ আমি তোমাদের মাঝে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। এ দু’টির পর তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো, আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নত। জিনিস দু’টো তোমাদের থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত পৃথক হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি হাউজে কাউসারের কাছে উপনীত হবো’ (হাকেম, হাসান)।

চার. ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬ামের জামাআতভুক্ত হওয়া যায়, আর সুন্নতের ইত্তেবা ছেড়ে দেয়ার অর্থ হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল¬ামের জামাআত থেকে বের হয়ে যাওয়া।

আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার তিন ব্যক্তি নবী করীম সাল-াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিবিগণের ঘরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইবাদতের পরিমাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে আসলেন। যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলো তখন যেন তাদের নিকট তা খুব কম মনে হলো। এমতাবস্থায় তাদের একজন বলল, আরে! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে আমাদের কী তুলনা! তাঁর তো পূর্বাপর সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তাদের একজন বলল, আজ থেকে আমি সর্বদা সারারাত জেগে নামাজ পড়ব। আরেকজন বলল, আমি দিনের বেলা সর্বদা রোযা রাখব। কখনো রোযা ভাঙ্গব না। তৃতীয়জন বললেন, আমি সর্বদা মহিলাদের সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকব, কখনো বিবাহ করব না। এসময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, ‘তোমরাই সেই লোক, যারা এমন এমন বলেছে? শোন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি আল্লাহ তাআলাকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি। তথাপি আমি রোযা রাখি এবং রোযা ভঙ্গ করি। নামাজ পড়ি আবার ঘুমাই। আমি মহিলাদের বিয়েও করি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়’ (বুখারী)।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত থেকে বিমুখ থাকার দু’টি পর্যায় রয়েছে। একটি হলো গুনাহের পর্যায় আর অন্যটি হলো কুফরীর পর্যায়।

যদি কেউ অলসতা ও অবহেলাবশত সুন্নত তরক করে তবে তা হবে গুনাহের পর্যায়। অর্থাৎ এরূপ করার কারণে সে শুধু গুনাহগার হবে ঈমানহারা হবে না।

পক্ষান্তরে যদি কেউ সুন্নতকে অবজ্ঞা করে, অস্বীকার করে, দোষারোপ করে তাহলে তা হবে কুফরীর পর্যায়। কেননা সুন্নতের ওপর দোষারোপ করা, তার সমালোচনা করা ও ত্র“টি-বিচ্যুতি বের করাÑ এক প্রকার কুফরীই বটে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে যথার্থরূপে সুন্নতের অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .

الْحَمْد لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَحْمَدُه سُبْحَانَه وَأَشْكُرُه، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَه إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنَ، أَمَّا بَعْدُ:

মুহতারাম হাযিরীন! আমরা ইত্তেবায়ে সুন্নতের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছিলাম।

পাঁচ. ইত্তেবায়ে সুন্নতের আরেকটি ফল হলো ইত্তেবায়ে সুন্নতের মাধ্যমে শয়তানের পথ অনুসরণ থেকে পরিত্রাণ মিলে।

ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে একটি রেখা টেনে বললেন- এটা আল্লাহর পথ। এরপর তিনি তার ডানে ও বামে কয়েকটি রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি সে দাগটির ডানে ও বামে আরো কয়েকটি ছোট রেখা টানলেন। তারপর তিনি বললেন, এটা আমার রাস্তা, এই বলে তিনি লম্বা রেখাটির দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন, এটা আমার রাস্তা আর এগুলো অনেক রাস্তা। যার প্রতিটিতে একজন করে শয়তান বসে সেদিকে তোমাদেরকে আহবান করছে। সবশেষে তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:

{ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتّبِعُوهُ وَلاَ تَتّبِعُوا السّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ }

‘ আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ (সূরা আনআম: ১৫৩)।

অতএব যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নতের ইত্তেবা করল সে সিরাতে মুস্তাকীমের ইত্তেবা করল এবং শয়তানের যাবতীয় পথ থেকে নিরাপদ রইল।

কোনো এক বড় আলেম বলেন, বেশিরভাগ, গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা কুরআন ও হাদীসকে শক্তভাবে আঁকড়ে না ধরার কারণেই হয়ে থাকে। যেমন ইমাম যুহ্রী রহ. বলেন- ‘আমাদের উলামাগণ বলতেন, সুন্নতকে আঁকড়ে ধরাই হচ্ছে নাজাতের পথ’।

ইমাম মালেক রহ. বলেন, ‘সুন্নত হচ্ছে নূহ আ.-এর কিশতির ন্যায়। যে তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে। আর যে আরোহণ না করে পিছনে থেকে যাবে সে ডুবে মরবে। এটা এজন্য যে, সুন্নত ও শরীয়তই হচ্ছে ঐ সিরাতে মুস্তাকীম বা সরল-সহজ পথ, যা বান্দাদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর রাসূল হলেন এ সিরাতে মুস্তাকীমের অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক’।

ছয়. ইত্তেবায়ে সুন্নতের আরেকটি ফল হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহর দীনের পুরোটাই হাসিল করা সম্ভব হয়। আর তা এজন্য যে, দীনের অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা হবে না। আর কোন্টা ইবাদত কোন্টা ইবাদত না, তা নির্ণয়ের জন্য আল কুরআন ও সুন্নতে রাসূলের আশ্রয় নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। এ কারণে ইবাদত হলো কুরআন ও হাদীসনির্ভর, যুক্তিনির্ভর নয়। আয়েশা রাযি.-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র হলোÑ কুরআন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত গোটা দীনকে শামিল করে আছে।

সাত: ইত্তেবায়ে সুন্নতের সপ্তম ফল হল উম্মতের ওপর থেকে সকল প্রকার লাঞ্ছনা ও অপমান দূর হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ যখন উম্মতে মুহাম্মদী সুন্নতের অনুসরণ করতে থাকবে তখন তাদের যাবতীয় লাঞ্ছনা ও অপমান দূর হয়ে যাবে। কেননা সুন্নতই হলো দীন। আর দীন পরিত্যাগ করার কারণে উম্মতের ওপর নেমে আসে লাঞ্ছনা ও অপমান।

আট: ইত্তেবায়ে সুন্নতের অষ্টম ফল হলো, মুসলিম জাতি যেসব রোগে আক্রান্ত সেসব রোগ ও তার চিকিৎসার বর্ণনাও সুন্নতের মধ্যে রয়েছে। যেমন:

‘সাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনÑ অচিরেই অমুসলিম সম্প্রদায়গুলো পরস্পর পরস্পরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাবে যেভাবে খাবারের বরতনের দিকে আহারকারীদেরকে আহবান করা হয়। তখন কেউ বলল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেদিন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো’? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না, তোমরা তখন সংখ্যায় বেশিই হবে। কিন্তু সেদিন তোমরা হবে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া খরকুটোর মতো। তোমাদের শত্র“দের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় উঠিয়ে নেয়া হবে এবং তোমাদের অন্তরে ঢেলে দেয়া হবেÑ ‘ওয়াহান’। একজন জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওয়াহান কী জিনিস? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেনÑ ‘ওয়াহান হলো, দুনিয়াকে মহব্বত করা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা’ (আহমদ, আবু দাউদ)।

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের রোগ ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনÑ অচিরেই অমুসলিম সম্প্রদায়গুলো পরস্পর পরস্পরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাবে, যেভাবে খাবারের বরতনের দিকে আহারকারিদেরকে আহবান করা হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথা অক্ষরে অক্ষরে বর্তমানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর তা এভাবে যে, আজ গোটা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বিভিন্ন নিয়ামত ও কল্যাণে ভরপুর মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় সুন্নতের যথার্থ অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজদের ইজ্জত বাড়িয়ে নেয়া ছাড়া আমাদের কোন গত্যান্তর নেই। দুনিয়ার মহব্বত হৃদয় থেকে তিরোহিত করে মৃত্যুকে সন্তুষ্টচিত্তে আলিঙ্গন করার জন্য বলিষ্ঠ ঈমান ও আমলের দ্বারা নিজদেরকে প্রস্তুত রাখা ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো উপায় নেই।

নয়: ইত্তেবায়ে সুন্নতের নবম ফল হলো, এর মাধ্যমে সকল প্রকার ফিতনা ও আল্লাহর আযাব থেকে নিজদেরকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ }

‘ তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো রাসূলকে সেভাবে ডেকো না তোমাদের মধ্যে যারা চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে জানেন। অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে’ (সূরা নূর: ৬৩)।

এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, যারা সুন্নতের বিরোধিতা করবে তারা বিভিন্ন রকম ফিতনা ও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে কুফরী, মুনাফেকী ও বিদআতের মতো ভয়াবহ বিষয়সমূহের উদ্ভব ঘটবে, যার ফলশ্রুতিতে তারা কঠিন ও মর্মন্তুদ শাস্তির সম্মুখীন হবে।

পক্ষান্তরে যারা সুন্নতে রাসূলের অনুসরণ করবে তারা এসব ফিতনা ও শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকবে।

একবার এক লোক ইমাম মালেক রহ. এর খেদমতে হাজির হয়ে বলল, হে ইমাম! আমি ওমরা করার ইরাদা করেছি। ইমাম মালেক রহ. বললেনÑ তাহলে তুমি ইহরাম বাঁধো। লোকটি বলল, আমি ইহরাম বাঁধব ঠিক, তবে তা মদীনার মসজিদ থেকে। ইমাম মালেক রহ. বললেনÑ বৎস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো যুল হুলাইফা থেকে ইহরাম বেঁধেছেন। অতএব তুমি যদি তাঁর বিরোধিতা করে মদীনার মসজিদ থেকে ইহরাম বাঁধো তবে তো আমি তোমার ওপর ফিতনা নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা করছি। এরপর তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:

{ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ }

‘ অতএব যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচারণ করে তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে’ (সূরা নূর: ৬৩)।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! তাই আমাদের উচিত, প্রথমত ব্যক্তিগত জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠা করা। কেননা ব্যক্তিগত জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। সমাজ জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে শহর জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। শহর জীবনে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে গোটা দেশে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলে গোটা জাতির মধ্যে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর গোটা জাতির মধ্যে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দ্বারা গোটা ভূপৃষ্ঠে আল্লাহ চাহেন তো সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবকিছু সংশোধন হয়ে যাওয়ার কারণে সর্বত্র শান্তির সুবাতাস বইতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নত অনুযায়ী জীবন গঠন করার তাওফীক নসীব করুন। আমীন।

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الْرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الْطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنْ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আপনার নবীর সুন্নতের অনুসরণের তাওফীক দান করুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন সুন্নতকে সমুন্নত রাখতে পারি সেই তাওফীক আমাদেরকে দান করুন। সকল প্রকার বিদআত থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন। সুন্নত পরিপন্থি কাজকর্ম থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত ও বিপদ-আপদ থেকে হেফাযত করুন। আমাদের অভাব দূর করে দিন। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকর্মে বরকত দিন। আমাদেরকে হালাল কামাই করার তাওফীক দান করুন।

ইয়া রাব্বাল আলামীন! আমাদের যাবতীয় পেরেশানী দূর করে দিন। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে দীনদার, মুত্তাকী ও পরহেযগার বানিয়ে দিন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : ( إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.