আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করার গুরুত্ব

পাঠ সংক্ষেপ

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা ইসলামের অন্যতম মহান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ইহা বান্দাহদের প্রতি সর্বাবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ।তাওয়াক্কুল হচ্ছে,যাবতীয় কল্যানমূলক এবং ক্ষতি প্রতিহতমূলক কাজে আল্লাহর উপর অন্তরের সত্যিকার নির্ভরতা।বান্দাহ যদি আল্লাহর উপর সত্যিকার তাওয়াক্কুল করতে পারে তবে আল্লাহ তায়ালা তার রিযিকের দায়িত্ব নিয়ে নেন,যেমনিভাবে তিনি স্বীয় দায়িত্বে রিযিক প্রদান করেন পশু-পাখিদেরকে।

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَمَرَ عِبَادَهُ الْمُؤْمِنِيْنَ بِالتَّوَكُّلِ عَلَيْهِ فَقَالَ تَعَالَى: (وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوْا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِيْنَ)، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الَّذِيْ وَعَدَ مَنْ يَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ بِأَنَّهُ حَسْبُهُ وَكَافِيْهِ، قَالَ تَعَالَىْ: (وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ)، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُ اللََّهِ وَرَسُوْلُهُ الَّذِيْ أَمَرَهُ خَالِقُهُ بأَنْ يَتَوَكَّلَ عَلَيْهِ فَقَالَ (فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ إِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِيْنِ) صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْرا، أَمَّا بَعْدُ :

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! তাওয়াক্কুল আরবী শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ নির্ভর করা, ভরসা করা, আস্থা রাখা ইত্যাদি। পরিভাষায়,যে কোনো প্রয়োজন কিংবা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাআলার উপর পূর্ণরূপে নির্ভর করাকেই তাওয়াক্কুল বলে।

একজন ঈমানদারের জন্য তাওয়াক্কুল একটি অপরিহার্য গুণ। এ গুণটি অর্জন করা ছাড়া ঈমান কামেল বা পূর্ণাঙ্গ হয় না।

তাওয়াক্কুলের গুণ অর্জন করার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য স্থানে নির্দেশ দিয়েছেন। উপরন্তু তাওয়াক্কুলের পরিমাণ যার মধ্যে যত বেশি হবে জীবন চলার পথ তার জন্য তত সহজ হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে :

{وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ}

আর যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট (সূরা তালাক:৩)

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ঈমানের একটি শর্ত। ইরশাদ হয়েছে :

{فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ}

আর তোমরা (আল্লাহর উপর) তাওয়াক্কুল করো যদি তোমারা মুমিন হও (সূরা আল মায়িদা:২৩)।

প্রিয় মুসল্লিয়ান!নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসেও তাওয়াক্কুলের অনেক ফযীলত ও উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :

(لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُوْنَ عَلَى اللهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَغْدُوْ خِمَاصاً وَتَرُوْحُ بِطَانا)

তোমরা যদি আল্লাহ তাআলার উপর তওয়াক্কুল তথা ভরসা করার মত ভরসা করতে তাহলে তিনি তোমাদের ঐরূপ রিযক দিতেন, যেমনিভাবে পাখিদেরকে দিয়ে থাকেন। পাখিগুলো সকাল বেলা বাসা থেকে খালি পেটে বের হয় এবং বিকেলে পেট পূর্ণ করে ফিরে আসে? (তিরমিযী, সহীহ)।

মুসলিম ভাইয়েরা! রিযক অন্বেষণ করা প্রতিটি প্রাণীর সহজাত বাসনা। তাই কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি ও অন্যান্য পেশার লোকজন ভোর হতেই নিজ নিজ কাজে যোগদানের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। এরপর তারা সারাদিন পরিশ্রম করে। যাতে নিজের ও পরিবারের লোকদের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যায়।

প্রতিটি মুসলমান নরনারীর অন্তরে সর্বদা এ বিশ্বাস থাকা চাই যে,আমার সুখ-দুঃখ, ইজ্জত-সম্মানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। দুনিয়ার ধন দৌলত সহায়-সম্পত্তি যেমন প্রকৃত সুখ ও শান্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখে না, তেমনি তা মানুষের রিযকের সমস্যার সমাধান করতে পারে না। মানুষের রিযকের সম্পর্ক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলার সাথে। আল্লাহ তাআলা এমন রায্যাক, যদি আকাশ থেকে এক ফোঁটা বৃষ্টি বর্ষিত না হয় এবং জমিন থেকে একটি ফসলও উৎপন্ন না হয় তথাপি তিনি সমস্ত মাখলুককে সন্দেহাতীতভাবে লালন-পালন করতে পারবেন। এতে তার বিন্দুমাত্রও বেগ পেতে হবে না। তাই প্রকৃত মুমিনগণ মাল ও দৌলত পেয়ে যেমন খুশি হন না তেমনি তা হাত ছাড়া হলেও বিন্দুমাত্র কষ্ট ভোগ করেন না। কারণ তারা জানেন, রিযকের যিম্মাদারী তাদের হতে নয় বরং এ যিম্মাদারী তো মহান রায্যাক আল্লাহ তাআলার হাতে। যেমন এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন:

{وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ}

তোমরা তোমাদের সন্তানদেকে দরিদ্রতার ভয়ে হত্যা করো না। কারণ তোমাদের এবং তাদেরকে তো আমিই রিযক দিয়ে থাকি (সূরা আল ইসরা:৩১)

অর্থাৎ খাওয়ানো এবং যাবতীয় প্রয়োজন পুরা করার দায়িত্ব তো আমি নিজেই গ্রহণ করেছি। সুতরাং তোমাদের ভয় পাবার কিছুই নেই।

সহীহ বুখারীতে আবু হুরাইরা রাযি.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে কুদসীতে আছে,আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার সাথে বান্দা যেরূপ ধারণা করে, আমি তার সাথে সেরূপ ব্যবহারই করে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, বান্দা যদি কোনো সমস্যায় পতিত হয়ে এ কথা স্মরণ করে যে, আল্লাহ তাআলাই আমার এ সমস্যা দূর করে দিবেন অথবা খাদ্যাভাবে পতিত হয়ে যদি মনে মনে এ ধারণা পোষণ করে যে, আল্লাহ তাআলা এখনই আমার এ অভাব দূর করে দিবেন। তাহলে আল্লাহ তাআলা তার বিশ্বাস ও ধারণা মোতাবেক তার সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা এবং খাদ্যাভাব দূর করে দিবেন। মোট কথা-আল্লাহ তাআলার উপর বান্দা যে পরিমাণ তাওয়াক্কুল করতে সক্ষম হবে আল্লাহ তাআলা তার সাথে সেরূপ ব্যবহারই করবেন।

সম্মানিত ভাইয়েরা!তাওয়াক্কুল একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বান্দাকে সর্বাবস্থায় তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিম্নে এ বিষয়ক কয়েকটি আয়াত তুলে ধরছি- আল্লাহ তাআলা বলেন :

{وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ}

আর আসমানসমূহ ও জমীনের গায়েব আল্লাহরই। এবং তারই কাছে সব বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে। সুতরাং তুমি তার ইবাদত করো। এবং তার উপর তাওয়াক্কুল করো। আর তোমরা যা কিছু কর সে ব্যাপারে তোমার রব গাফেল নন (সূরা হূদ: ১২৩)

তিনি আরো বলেন :

{وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ}

আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালুর উপর তাওয়াক্কুল করো (সূরা শুআরা: ২১৭)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে :

{وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا}

আর তুমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো। এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট (সূরা আহযাব: ৩)

আরো ইরশাদ হয়েছে :

{قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ}

বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ? আল্লাহ আমার কোনো ক্ষতি চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাক তারা কি সে ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমাকে রহমত করতে চাইলে তারা সে রহমত প্রতিরোধ করতে পারবে? বলো, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তাওয়াক্কুলকারিগণ তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল করেন (সূরা যুমার:৩৮)

হাদীসে এসেছে :

(يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَقْوَامٌ أَفْئِدَتُهُمْ مِثْلُ أَفْئِدَةِ الطَّيْرِ)

এমনসব সম্প্রদায় জান্নাতে প্রবেশ করবে যাদের অন্তরগুলো হবে পাখিদের অন্তরের ন্যায় (মুসলিম)।

বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো, তারা হবে তাওয়াক্কুলকারী। আবার কেউ বলেছেন, তারা ঐসব লোক যাদের অন্তর হবে কোমল।

ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, তাওয়াক্কুল হলো ঈমানের অর্ধেক। আর দ্বিতীয় অর্ধেক হলো ইনাবাত তথা আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া।

কোনো কিছু পাওয়ার জন্য শরীয়ত সমর্থিত জায়েয কোনো পন্থা বা উপায়-উপকরণ অবলম্বন না করা তাওয়াক্কুল নয়। যেমন কেউ বলল, আমি রিযকের জন্য কোনো চেষ্টা করব না। কারণ যদি আমার তাকদীরে ধনী হওয়া লিখা থাকে তবে তো আমি কোনো প্রকার চেষ্টা-ফিকির ছাড়াই ধনী হয়ে যাব। আর যদি আমার তাকদীরে ধনী হওয়া না লিখা থাকে তবে আমি যত চেষ্টাই করি না কেন তা বিফলে যাবে।

আসলে এ ধরনের চিন্তাভাবনা ও এ জাতীয় কথা স্পষ্ট গোমরাহী ছাড়া কিছুই নয়। কেননা ইসলামী শরীয়ত তাকদীরের উপর বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি স্বীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবারও হুকুম দিয়েছে। তাই আমাদেরকে তাকদীরের উপর বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি আপন চেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে। চেষ্টার পর যদি সংশ্লিষ্ট জিনিসটি পাওয়া যায় তবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আর পাওয়া না গেলে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। মনে করতে হবে, আমার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন ফয়সালাই ছিল। তাই আমি এ জিনিস পাইনি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

প্রিয় মুসলমান ভাইগণ! যে ব্যক্তি নিজকে সর্বদা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী মনে করে সে কিভাবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল না করে পারে?

যে ব্যক্তি নিজকে অক্ষম ও অপারগ মনে করে সে কি আল্লাহর কাছে সাহায্য না চেয়ে পারে?

যার এই এক্বীন রয়েছে যে,আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার প্রতি ঐরূপ দয়াশীল যেমন কোনো মা তার সন্তানের প্রতি দয়াশীল। তাই এমন ব্যক্তি কী করে আল্লাহর ফয়সালায় শান্তি না পেয়ে থাকতে পারে?

যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস রাখে যে,আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি ফয়সালায় হাকীম ও প্রজ্ঞাবান তাহলে সে কী করে তার তাকদীরের উপর খুশি না হয়ে পারে?

أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ: {وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ} (سورة آل عمران:122)

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ, أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .

اَلْحَمْدُ لِلِّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ وَأَشْكُرُهُ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوُلُهُ صَلَّىَ اللهُ وَسَلَّمَ وَبَارَكَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، أَمَّا بَعْدُ:

সম্মানিত ভাইয়েরা! জেনে রাখুন, বান্দার উপর ওয়াজিব হলো, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রেখে স্বীয় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওয়াক্কুলকারীদের ইমাম হওয়া সত্বেও রিযক অন্বেষণের ক্ষেত্রে চেষ্টা চালিয়ে যাবার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এমনিভাবে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থাও ছিল তাই।

হাসান বসরী রহ. বলেন, রিযক অন্বেষণের ক্ষেত্রে কোনো উপায়-উপকরণ অবলম্বন করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থি নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ}

হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করো (সূরা নিসা: ৭১)

তিনি আরো বলেন :

{وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ}

আর তাদের মোকাবেলার জন্য তোমার সামর্থ অনুযায়ী (শক্তি ও অশ্ববাহিনী) প্রস্তুত করো (সূরা আনফাল: ৬০)

হে মুসলিম জাতি! এক আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা, যাবতীয় বিষয় তার কাছে ন্যস্ত করা এবং উপকার ও ক্ষতির একমাত্র মালিক তিনিই, অন্য কেউ নয় এগুলো এমন বিষয় যা, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَلا ضَرّاً إِلا مَا شَاءَ اللَّهُ}

বলো, আমি আমার নিজের উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না। তবে আল্লাহ যা চান (সূরা আরাফ: ১৮৮)

অন্য আয়াতে তিনি বলেন :

{وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ}

আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো ক্ষতি পৌঁছান তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান তবে তার অনুগ্রহের কোনো প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু (সূরা ইউনুস: ১০৭)

তিনি আরো বলেন :

{قُلْ لا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلا اللَّهُ}

বলো, আল্লাহ ছাড়া আসমান ও যমীনের কেউই গায়েবের খবর জানে না (সূরা নমল: ৬৫)

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ!আপনি আমাদেরকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত ও বিপদ-আপদ থেকে হিফাযত করুন। আমাদের অভাব দূর করে দিন। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকর্মে বরকত দিন। আমাদেরকে হালাল কামাই করার তাওফীক দিন।

হে দয়ালু প্রভু! আমাদের যাবতীয় পেরেশানী দূর করে দিন। আমাদের কামাই-রুজিতে বরকত দিন। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে দীনদার, মুত্তাকী ও পরহেযগার বানিয়ে দিন।

ইয়া রাব্বাল আলামীন! আপনি আমাদেরকে সঠিক অর্থে তাওয়াক্কুল করার তাওফীক দান করুন। আপনি আমাদের মুতাওয়াক্কিলীন এর কাতারে শামিল করে নিন।

হে দয়াময় প্রভু! আমরা যখন আপনার সম্মুখে উপস্থিত হব তখন আমাদের থেকে আপনার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়ার আযাব থেকে আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হে দয়ালু মাবুদ! আপনি আমাদেরকে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের দলে শামিল করে নিন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ করুন এবং ঈমানের সাথে আমাদের খাতেমা বিল খাইর নসীব করুন।

আপনি আমাদেরকে আখেরাতের যাবতীয় আযাব থেকে বাঁচিয়ে দিন। আমলনামা ডান হাতে দিন এবং দুনিয়াতে আমাদেরকে হায়াতে তাইয়িবা তথা পবিত্র জীবন নসীব করুন।

আপনি আমাদের সময়ে বরকত দিন। অল্প সময়ে অর্ধিক কাজ করার তাওফীক দিন এবং যাবতীয় কাজে ইখলাস নসীব করুন।

আপনি আমাদের নামাজ, রোজাসহ ছোট বড় প্রতিটি আমল আপনার শান মোতাবেক কবুল করে নিন।

عبَادَ اللهِ رَحِمَكُمُ اللهُ : (إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.