পাঠ সংক্ষেপ

জান্নাত হচ্ছে,অনন্ত সুখময় স্থান, যাতে থাকবে অশেষ সৌন্দর্য আর অফুরন্ত নেয়ামতরাজি।আর জাহান্নামে রয়েছে কঠিন শাস্তি,লাঞ্চনাকর আযাব।কেহ জান্নাতের নেয়ামত সম্পর্কে জানলে উহার আশায় নেককাজে সচেষ্ট হবে, আর জাহান্নামের শাস্তি সম্পর্কে জানলে উহা হতে দূরে থাকার জন্য খারাপ কাজ হতে বিরত থাকবে।তাই এই খুতবায় জান্নাতের সুখ ও জাহান্নামের শাস্তি সম্পর্কে আকর্ষনীয় ও মর্মস্পর্শী আলোচনা করা হয়েছে।

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَعَدَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِيْ جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ ، أَمَّا بَعْدُ :

মুহতারাম মুসল্লীবৃন্দ! আজকে এমন একটি বিষয়কে আলোচ্য বিষয় হিসাবে নির্ধারণ করেছি, যা মানব ও জিনএ দুসম্প্রদায় সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যের সাথে জড়িত। আর তা হচ্ছে মৃত্যু পরবর্তী অনন্ত কালের শাশ্বত জীবনের দুটি পরম ও চরম অধ্যায়। অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের কিছু চিরসত্য চিত্র। যা সৃষ্টির এক মহাবিস্ময়। একদিকে রয়েছে জান্নাতের অফুরন্ত সুখ ও অনাবিল শান্তির ফল্গুধারা। অন্যদিকে রয়েছে জাহান্নামের বিভীষিকাময় দুর্ভোগ ও শাস্তির লেলিহান অগ্নিশিখা। আল্লাহ তাআলা যেটিকে কাফেরদের জন্য পরিপূর্ণ করেছেন পুঁতিগন্ধময় সর্বপ্রকার ভয়াবহতা ও চরম ভোগান্তির সরঞ্জাম দিয়ে।জান্নাত ও জাহান্নাম আল্লাহর অন্যতম এক সৃষ্টি। প্রথমটি হচ্ছে ঈমানদার পরহেজগার বান্দাদের জন্য। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের জন্য। জান্নাত ও জাহান্নামের অগণিত চিত্র ও বিবরণ পবিত্র কুরআন ও হাদীসের ছত্রে ছত্রে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা জান্নাতের প্রসঙ্গ বর্ণনা করে বলেন :

{وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ}

তোমরা ধাবিত হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার বিস্তৃতি আস্মান ও যমীনের ন্যায়, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য (আলে ইমরান: ১৩৩)

অনুরূপভাবে জাহান্নামের প্রকৃতি প্রকাশ করে ইরশাদ করেন :

{فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ }

যদি তোমরা তা না কর এবং কখনই করতে পারবে না, তবে সে আগুনকে ভয় কর, মানুষ ও পাথর হবে যার ইন্ধন, কাফেরদের জন্য যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে (বাকারা: ২৪)

প্রিয় ভাইয়েরা! জান্নাত একটি কল্পনাতীত বিষয়। জান্নাতের রূপসৌন্দর্য কুরআন ও হাদীসে যতটুকু বর্ণনা করা হয়েছে তার বাইরে চিন্তা করা মানুষের সাধ্য ও শক্তির ঊর্ধ্বে। মানুষ তার চোখ, কান, অন্তর দিয়ে তা কখনো অনুভব করতে পারবে না। জান্নাত অনাবিল শান্তির আধার। অতৃপ্তি, অভাব, অনটন বলতে সেখানে কিছু নেই। জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত এবং পুরষ্কার হলো আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ, যার চেয়ে মহামূল্যবান নিয়ামত জান্নাতীগণ কখনো কল্পনা করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদেরকে এই মহা পুরষ্কারে ভূষিত করবেন। এ ছাড়াও অগণিত নিয়ামত ও পুরষ্কার রয়েছে যা কখনো গণনা করা সম্ভব নয়। আসুন আমরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জান্নাতের নিয়ামতসামগ্রীর কিছু বিবরণ শুনে নেই- আল্লাহ তাআলা বলেন :

{وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ}

সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমাদের মন চায় এবং তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা ফরমায়েশ কর (হা-মীম আস্ সাজদা: ৩১)

জান্নাতে পাওয়া যাবে অমরত্ব, স্রষ্টার পরম সন্তুষ্টি, থাকবে স্বচ্ছ স্রোতস্বিনীর প্রবাহ, মনোরম বাসভূমি। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ}

আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা। (সূরা আত-তাওবা: ৭২)

জান্নাতে মানুষকে পার্থিব সকল সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে দেয়া হবে। মলমূত্র ত্যাগ, নাকের ময়লা শ্লেষ্মা, থুথু ইত্যাদির ঝামেলা থাকবে না। এ সম্পর্কে সহীহ মুসলিমে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, জান্নাবাসীগণ জান্নাতে আহার করবে, পান করবে, কিন্তু তারা থুথু ফেলবে না, মলমূত্র ত্যাগ করবে না এবং নাক থেকে শ্লেষ্মা ঝরবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তারা যা খাবে সেগুলো কী হবে? তিনি ইরশাদ করলেন, ঢেকুর এবং মেশকের ন্যায় সুগন্ধিময় ঘাম দ্বারা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আল্লাহর তাস্বীহ ও প্রশংসা তাদের অন্তরে এমনভাবে ঢেলে দেয়া হবে, যেমনিভাবে তোমাদেরকে শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো তাদের তাসবীহ ও আল্লাহ্র প্রশংসা জারী থাকবে।জান্নাতে কোনো ভয়ের লেশমাত্রও থাকবে না, সর্বদা নিরাপত্তা বিরাজ করবে, ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকবে, সেখানে বইবে ঝর্নাধারা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :

{إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ، ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آَمِنِينَ، وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ. لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ}

মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও প্রস্রবণসমূহের মধ্যে। তাদেরকে বলা হবে: তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে প্রবেশ কর। আমি তাদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করব, তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। সেখানে তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না এবং সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না (সূরা হিজর: ৪৫-৪৮)

জান্নাতে আসন হবে স্বর্ণের, থাকবে সেবক। জান্নাতবাসীরা সুরা পান করবে কিন্তু মাতাল হবে না আরো থাকবে পাখীর গোশ্ত ইচ্ছেমত থাকবে সুন্দরী হূর, সেখানে নেই কোনো গালিগালাজ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন :

{عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ، مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ، يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ، بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ، لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ، وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ، وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ، وَحُورٌ عِينٌ، كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ، جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ، لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا، إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا.}

স্বর্ণ-খচিত আসনে তারা হেলান দিয়ে বসবে,পরস্পর মুখোমুখি হয়ে। তাদের সেবায় ঘোরাফিরা করবে চির-কিশোরেরা, পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে, সেই সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না তারা জ্ঞানহারাও হবে না, এবং পছন্দমত ফলমূল, আর তাদের ইপ্সিত পাখীর গোশ্ত নিয়ে, আর তাদের জন্য থাকবে আয়তলোচনা হূর, সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ,তাদের কর্মের পুরষ্কারস্বরূপ। সেথায় তারা শুনবে না কোন অসার অথবা পাপবাক্য, সালাম আর সালাম ব্যতীত (ওয়াকিয়া-১৫-২৬)

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, আবু হুরায়রা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লমের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ বলেন: আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরী করেছি, যা না দেখেছে কোন চোখ, না শুনেছে কোন কান, আর না তা উদিত হয়েছে কোনো মানুষের অন্তরে। এ হাদীসের প্রসঙ্গটিই আয়াতে এভাবে বর্ণিত হয়েছে : আল্লাহ তাআলা বলেন :

{فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}

কেউ জানে না তাদের নয়ন প্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরষ্কারস্বরূপ (সূরা সাজদা: ১৭)

আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন যে দলটি সর্বপ্রথম জন্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল আর দ্বিতীয় দলের চেহারা হবে আসমানে মুক্তার ন্যায় ঝলমলে নক্ষত্রের ন্যায় উজ্জ্বল। তারা মলমূত্র ত্যাগ করবে না, নাকের শ্লেষ্মা ফেলবে না, থুথু ফেলবে না, তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের, তাদের ঘাম মেশকের ন্যায়, তাদের জ্বালানীর আধার হবে ধূপ কাঠের, তাদের স্ত্রীরা আয়তলোচনা হূর হবে, তাদের চরিত্র এক ব্যক্তির ন্যায় হবে, তাদের গঠন হবে তাদের পিতা আদম আলাইহিস সালামের মতো ষাট হাত উঁচু (বুখারী ও মুসলিম)।

জান্নাতে বার্ধক্য ও জড়তা থাকবে না। যৌবন থাকবে অটুট। বার্ধক্য স্পর্শ করবে না। আবু হুরায়রা রাযি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সুখী হবে, দুঃখী হবে না, তার পোশাক পুরাতন হবে না, তার যৌবন নষ্ট হবে না (মুসলিম)।

আবু হুরায়রা রাযি. এবং আবু সাঈদ খুদরী রাযি থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতে এক ঘোষক এসে এ ঘোষণা দিবে, তোমাদের জন্য চির সুস্থতা- তোমরা কখনো অসুস্থ হবে না। তোমাদের জন্য অমরত্ব-তোমরা কখনো মরবে না। তোমাদের জন্য যৌবন- তোমরা কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমাদের জন্য সুখ- তোমরা কখনো দুঃখী হবে না। আর এ বিষয়টি কুরআনে আল্লাহ আল্লাহ তাআলা এভাবে বলেছেন :

{وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ}

তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে, এই সেই জান্নাত যা তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে উত্তরাধিকারস্বরূপ প্রাপ্ত হয়েছ [সূরা আল আরাফ:৪৩](মুসলিম)

আবদুল্লাহ ইবনে কাইস তার পিতা থেকে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নিশ্চয় মুমিনের জন্য জান্নাতে এক ফাঁপা মুক্তার তাঁবু থাকবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল, মুমিনের জন্য তার পরিজন থাকবে, সে তাদের কাছে যাবে (বুখারী ও মুসলিম)

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সাইহান, জাইহান, ফুরাত ও নীল প্রত্যেকটি জান্নাতের নদী(মুসলিম)।

সম্মানিত শ্রোতামণ্ডলী! অপরদিকে জাহান্নাম তথা দোজখ হলো আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচে জঘণ্য, সবচে ভয়ংকর, নিকৃষ্ট এক সৃষ্টি। যেখানে ঠাঁই হবে ঐ সমস্ত লোকের যারা সীমালঙ্ঘনকারী, অবাধ্য, তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতে অবিশ্বাসী, পাপাচারী, কপট, যারা শিরক করে, যারা সৃষ্টির প্রতি এবং নিজের প্রতি জুলুম করে। অবিশ্বাসীরা চিরকাল জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন :

{وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ}

এবং যারা কুফরী করত তাদের জন্য রয়েছে অত্যুষ্ণ পানীয় ও মর্মন্তুদ শাস্তি (সূরা ইউনুস: ৪)

যারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে, জাহান্নাম হলো তাদের জন্য সবচে জঘন্য ও নিকৃষ্ট জায়গা, ভয়ানক স্থান। আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে ইরশাদ করেন :

{هَذَا وَإِنَّ لِلطَّاغِينَ لَشَرَّ مَآَبٍ، جَهَنَّمَ يَصْلَوْنَهَا فَبِئْسَ الْمِهَادُ}

আর সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম নিবাস- জাহান্নাম, সেখানে তারা প্রবেশ করবে, কত নিকৃষ্ট তাদের বিশ্রামস্থল (সূরা ছাদ: ৫৫-৫৬)

জাহান্নামীদের মুখমণ্ডল আগুনে বেষ্টিত থাকবে, তাদের জামা হবে আলকাতরার। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন :

{سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ }

তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে (ইবরাহীম: ৫০)

সহীহ মুসসিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে, যেখানে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, সেখান থেকে এমন অবস্থায় টেনে আনা হবে যে, তার সত্তরটি লাগাম থাকবে এবং প্রতিটি লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে। তারা তাকে টেনে আনবে (মুসলিম)।

আবু হুরায়রা রাযি হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: এই যে তোমাদের আগুন, আদম সন্তানরা যা জ্বালায়, তা হলো জাহান্নামের উত্তাপের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র।

সাহাবীগণ বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ এ আগুনই তো যথেষ্ট। তিনি বললেন: একে আরো সত্তর গুণ বাড়ানো হবে। আর প্রতিটি গুণের উত্তাপ এর উত্তাপের সমান হবে (মুসলিম)

ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অবিশ্বাসীরা তাদের জিহ্বাকে এক ফারসাখ দুই ফারসাখ স্থান বিছিয়ে রাখবে, আর লোকেরা তা পদদলিত করবে (তিরমীযি)।

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: কাফিরের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ গজ পুরু, তার মাড়ির দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মত, জাহান্নামে তার বসার স্থান হবে মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান (তিরমিযী)

আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সাঊদ হল জাহান্নামের একটি পাহাড়। অবিরাম কাফিররা এতে সত্তর বছরে আরোহণ করবে এবং ঐ পরিমাণ সময়ে নীচে গড়িয়ে পড়বে (তিরমিযী)

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দুই শ্রেণীর জাহান্নামী আমি দেখিনি (অর্থাৎ আমার পরে তাদের আবির্ভাব ঘটবে): এক শ্রেণীর লোক হবে, যাদের হাতে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, তা দিয়ে মানুষকে অন্যায়ভাবে প্রহার করবে আর এক শ্রেণীর নারী হবে, যারা পোশাক পরেও হবে নগ্ন, হেলে-দুলে চলবে। এরা মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং মানুষকে নিজদের প্রতি আকৃষ্ট করবে। তাদের মাথার চুল লম্বা ঘারবিশিষ্ট উঁটের হেলে-থাকা কুঁজের মত। এরা জান্নাতে যেতে পারবে না, জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ অনেক অনেক দূর থেকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়া যাবে (মুসলিম)

আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাত নসীব করুন ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান।

أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الْشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ: وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقًا قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (سورة البقرة: 25) بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ حَمْداً كَثِيْراً طَيِّباً مُبَارَكاً فِيْهِ، وَاَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَاشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْراً، أَمَّا بَعْدُ :

প্রিয় ভাইয়েরা! এই নিয়ামতরাজি বেষ্টিত জান্নাতে যেতে হলে আল্লাহর প্রতি ঈমান, নবীর প্রতি ঈমান, আখেরাতের প্রতি ঈমানসহ যাবতীয় সৎ কাজ আঞ্জাম দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। নিষ্ঠার সাথে ইবাদত-বন্দেগী এবং আল্লাহর শরীয়ার সীমারেখা বাস্তবায়নের দ্বারাই জান্নাতে যাওয়া যাবে।ঈমান, আমল, রোজা, হজ, যাকাত, আল্লাহর পথে জিহাদ, দান-সদকা, মা বাবার সাথে সদাচারণ, প্রতিবেশীর হক আদায়, দরিদ্র, নিঃস্ব, অসহায় মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা ইত্যাদি নেক আমলের দ্বারা জান্নাতের অসীম সুখ ও শান্তির আশা করা যায়।মুতারাম হাযেরীন! আল্লাহ তাআলা বলেন :

{إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآَنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ}

নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের নিকট হতে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে এর বিনিময়ে। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, নিধন করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে এ সম্পর্কে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্র&ldquoতি রয়েছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে ? তোমরা যে সওদা করেছ সে সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং সেটাই তো মহাসাফল্য (সূরা আত তওবা: ১১১)

জারির ইবনে আবদুল্লাহ বাজালী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসা ছিলাম। তিনি সেই রাতের পূর্ণিমার দিকে তাকালেন। বললেন: তোমাদেরকে শীঘ্রই তোমাদের রবের সামনে হাজির করা হবে। আজকের এই চাঁদটি যেমন তোমরা দেখছ এবং তা দেখায় যেমন তোমাদের ভীড় করতে হয়নি, তেমনি তোমরা তোমাদের রবকে নির্বিঘ্নে দেখতে পারবে। সূর্যোদয়ের পূর্বের (ফজরের) সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের (আসরের) সালাত তোমরা আদায় করে নিবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন: তোমার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে (তিরমিযী)

।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে বার রাকআত নামাজ পড়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করেন। দুরাকআত ফজর তথা সুবহে সাদিক উদিত হবার পর, চার রাকআত নামাজ জুহরের পূর্বে, দুরাকআত জুহরের পরে, দুরাকআত মাগরিবের পর, আর দুরাকআত ইশার পর (মুসলিম)

।রাত জেগে ইবাদত করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা বলেন-

{تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ. فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}

তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকায় এবং আমি তাদেরকে যে রিয্ক দান করি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউ জানে না তাদের নয়ন প্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরষ্কারস্বরূপ (সূরা আস সাজদা: ১৭)

রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: হে মানুষ! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো, রাতে নামাজ পড় যখন লোকেরা ঘুমন্ত থাকে, তাহলে শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে(তিরমিযী)

আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ বলে, তার জন্য জান্নাতে একটি বৃক্ষ রোপণ করা হয় (তিরমীযি, হাসান)।রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না: একটি চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে। আরেকটি চোখ, যা আল্লাহর পথে পাহারা দিতে গিয়ে রাত জেগেছে। (তিরমিযী, হাসান )

প্রিয় ভাইয়েরা!

আমরা যদি জান্নাত পেতে চাই তাহলে সকল প্রকার কুফর ও শিরক থেকে বেঁচে থাকতে হবে। অন্যথায় জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ}

কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। তারাই সৃষ্টির অধম (সূরা: আল বায়্যিনা: ৬)

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন রয়েছে যারা মুমিনদেরকে ঈমান চর্চার পথে বাধা দেয়। মুমিনদেরকে বিপদাপন্ন করে। যারা এরূপ করে তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের প্রজ্জ্বলিত আগুন তৈরি করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ}

যারা বিশ্বাসী নরনারীকে বিপদাপন্ন করেছে এবং পরে তওবা করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি, আছে দহন যন্ত্রণা (সূরা আল বুরুজ: ১০)

জান্নাত পেতে হলে সকল প্রকার নিফাক থেকে নিজদেরকে পবিত্র করতে হবে। ভেতরে কুফর আর বাইরে ইসলাম এ ধরনের আচরণ থেকে অনতিবিলম্বে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে বসবাস করা নিশ্চিত হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ}

মুনাফিকগণ তো জাহান্নামের নিুতম স্তরে থাকবে (নিসা:১৪৫)

জান্নাত পেতে হলে মুমিনদের রক্তপাত থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যতায় আল্লাহর গযব, আল্লাহর লানত, ও জাহান্নামে কঠিন শাস্তির জন্য তৈরি থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا}

কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লানত করবেন, এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন (সূরা আন নিসা: ৯৩)

اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে জান্নাত নসীব করুন। জাহান্নম থেকে বাঁচান। যেসব আমল নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতের উপযোগী বানাবে সেসব আমল আমাদেরকে করার তাওফীক দান করুন। যেসব আমল জাহান্নামে নিয়ে যাবে সেসব আমল থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলমানদেরকে রক্ষা করুন। কাফির মুশরিক অমুসলিমদেরকে হিদায়াত দান করুন। মুসলিম বিশ্বে শান্তি দিন। অশান্তি দূর করে দিন। মুসলমানদেরকে সঠিক পথ দেখান। তাদেরকে বিপথ থেকে, বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করুন। হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য বুঝার তাওফীক দিন। আমীন।

عِبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.