পাঠ সংক্ষেপ

তাওহীদ হচ্ছে এমন একটি মহান ভিত্তি,যার উপর আসমান-যমীন প্রতিষ্ঠিত এবং যার উদ্দেশ্যে মানুষ ও জ্বীন কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নবী-রাসূলদেরকে প্রেরন করা হয়েছে। বান্দাহ যে পরিমাণ তাওহীদ ও আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা বাস্তবায়ন করবে এবং প্রকাশ্য ও গোপন শিরক হতে দূরে থাকবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সে পরিমাণ নিরাপত্তা ও হিদায়াতের উপর থাকবে।

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ ذِيْ الْفَضْلِ وَالْإِحْسَانِ، يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ بِهِدَايَتِهِ لِلتَّوْحِيْدِ وَالْإِيْمَانِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَرْسَلَهُ إِلَى كَافَّةِ الثَّقَلَيْنِ الْإِنْسَ وَالْجَانَّ. صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْرَاً. أَمَّا بَعْدُ:

মুসল্লিয়ানে কিরাম! ইবরাহীম আলাইহিস-সালামের ঘটনা সকলেই জানেন। তাওহীদের জন্যই স্বজাতির লোকেরা তাঁকে নিক্ষেপ করেছিল জ্বলন্ত আগুনে। কিন্তু তাওহীদের লৌহকঠিন বিশ্বাস এবং তাওহীদ প্রচারের অদম্য স্পৃহার কারণে মহান আল্লাহর নির্দেশে জ্বলন্ত আগুন শীতল ও আরামদায়ক হয়ে গিয়াছিল।

প্রিয় ভাইয়েরা! তাওহীদ অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই। তাওহীদ ছাড়া দুনিয়া-আখেরাত অসার-অন্ধকার। তাওহীদ ছাড়া মানুষের জীবন মূল্যহীন, বরং কীট-পতঙ্গ তুল্য। তাওহীদ হলো আকাশ ও পৃথিবীর পালনীয় ধর্ম। গোটা মহাবিশ্বই কায়েম হয়েছে তাওহীদকে কেন্দ্র করে। তাওহীদের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে মানুষ, জিন, জান্নাত, জাহান্নাম। তাওহীদের জন্যই বিধিবদ্ধ হয়েছে আল্লাহর পথে জান-মাল বিলিয়ে দেয়ার বিধান।

আকাশ ও পৃথিবী তথা গোটা মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও পালনকর্তা একমাত্র আল্লাহ তাআলা। সকল নিয়ামত ও বরকতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর সে হিসেবে একমাত্র তিনিই ইবাদত-বন্দেগী, দুআ প্রার্থনা পাবার উপযোগী। একমাত্র তিনিই সত্য ইলাহ-মাবুদ। ইরশাদ হয়েছে:

{لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ }

যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকত তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত, সুতরাং তারা যা বলে, আরশের রব আল্লাহ তা থেকে পবিত্র (সূরা আল আম্বিয়া: ২২)

মুহতারাম মুসল্লীবৃন্দ! আকাশ ও পৃথিবীতে একাধিক ইলাহ বিরাজমান থাকলে কে কার উপর নেতৃত্ব দেবে, তা নিয়ে লড়াই বেঁধে যেত। বিধান ও আদেশ নিষেধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাকে রেখে কাকে প্রাধান্য দেয়া হবে তা নিয়ে যুদ্ধ বেঁধে যেত। ইলাহদের পরস্পরের লড়াইয়ে ধ্বংস হয়ে যেত আকাশ ও পৃথিবী। সে হিসেবে বলা যায় এ মহাবিশ্বের স্থিতি, দিবস-রজনীর চিরায়ত আবর্তন, লতাগুল্মের-বৃক্ষরাজীর-পশুপক্ষীর চলমান অস্তিত্ব তাওহীদ তথা একত্ববাদের এক চাক্ষুষ প্রমাণ।

একমাত্র আল্লাহ তাআলাই যেহেতু অদ্বিতীয় ইলাহ, তাই ইবাদত বন্দেগীর সকল ধরন-ধারণ নিবেদিত হবে কেবলমাত্র তাঁরই উদ্দেশ্যে। ইবাদতের সকল অনুভূতি, ভাব, বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান নিবেদিত হবে একমাত্র তাঁরই জন্য। এ উদ্দেশ্যেই তিনি সৃষ্টি করেছেন জিন ও ইনসান। ইরশাদ হয়েছে :

{وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ}

আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা শুধু আমার ইবাদত করবে (সূরা আয যারিয়াত:৫৬)

যারা হৃদয়ের গভীরে তাওহীদী ভাবধারার ঝর্নধারা প্রবাহিত করতে নারাজ, যারা তাওহীদের শীতল ছায়ায় নিজেদের দাঁড় করাতে অনিচ্ছুক, যারা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কাউকে মাবুদ বলে মানে, তাদের জন্য অপেক্ষায় আছে জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুন। শুধু তাই নয় বরং বিবেক-বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি থাকা সত্ত্বেও আকাশ ও পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় সত্য তাওহীদকে অমান্য ও অস্বীকার করার কারণে তারা পরিণত হয় নিকৃষ্টতম জীবে। ইরশাদ হয়েছে :

{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ}

নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে ও মুশরিকরা, জাহান্নামের আগুনে থাকবে স্থায়ীভাবে। ওরাই হল নিকৃষ্ট সৃষ্টি (সূরা আল বায়্যিনাহ:৬)

তাওহীদ সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু, যা একজন মানুষ এ পৃথিবীতে অর্জন করে। হাদীসে এসেছে:

(مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ)

আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এই জ্ঞান নিয়ে যে মারা গেল সে জান্নাতে প্র্রবেশ করবে(মুসলিম)।

সম্মানিত মুসল্লীবৃন্দ! তাওহীদ এমন একটি বিষয়, যার রয়েছে বহু কল্যাণ ও ফযীলত। যে ব্যক্তি তাওহীদকে অন্তরে ধারণ করে, তাওহীদ তার সকল পাপ-গুনাহ মুছে দেয়। তাওহীদ তাকে চিরস্থায়ী আগুনে বসবাস থেকে বাঁচিয়ে দেয় এবং তাকে উদ্ধার করে। হাদীসে এসেছে:

(مَنْ شَهِدَ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، وَأَنَّ عِيْسَى عَبْدُ اللَهِ وَرَسُوْلُهُ، وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَي مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنْ الْعَمَلِ)

যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম)আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আর ঈসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং তার পক্ষ হতে-আসা একটি নির্দেশ যা তিনি মারয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যাই থাক না কেন(বুখারী)।

তাওহীদই হলো বড় মাধ্যম, যা অবলম্বন করে একজন মানুষ তার সৃষ্টিকর্তার নিকটবর্তী হয়। তাওহীদের মাধ্যমেই অর্জিত হয় পূর্ণাঙ্গ শান্তি, নিরাপত্তা ও হিদায়াত। ইরশাদ হয়েছে :

{الَّذِينَ آَمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ}

যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্র্রণ করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত (সূরা আল আনআম: ৮২)

অন্য এক আয়াতে এসেছে :

{لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ}

মহাভীতি তাদেরকে পেরেশান করবে না। আর ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে, *এটাই তোমাদের সেই দিন, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল (সূরা আল আম্বিয়া:১০৩)।

তাওহীদের বহু ফযীলতের মধ্যে আরেকটি হল,তাওহীদ অবলম্বনের জন্য, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শিরক থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যতটকু অগ্রসর হয়, সে ততটুকুই নিরাপত্তা পায় এবং ততটুকু হিদায়াত লাভে সক্ষম হয়। আর আখেরাতে রয়েছে তাদের মুক্তি ও সমধিক নিরাপত্তার ওয়াদা।

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা ! দুনিয়া ও আখেরাতের বিপদ-মুসীবত-শঙ্কা থেকে সুরক্ষা পাওয়া তাওহীদের একটি বড় ফযীলত। পরকালীন বিপদ থেকে সুরক্ষার ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে:

{إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ، لَوْ كَانَ هَؤُلَاءِ آَلِهَةً مَا وَرَدُوهَا وَكُلٌّ فِيهَا خَالِدُونَ، لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ، إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ}

নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের পূজা কর, সেগুলো তো জাহান্নামের জ্বালানী। তোমরা সেখানে প্রবেশ করবে। যদি তারা ইলাহ হত তবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করত না। আর তারা সবাই তাতে স্থায়ী হয়ে থাকবে। সেখানে থাকবে তাদের আর্তনাদ, আর সেখানে তারা শুনতে পাবে না। আমার পক্ষ থেকে যাদের জন্য পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে তাদেরকে তা থেকে দূরে রাখা হবে (সূরা আল আম্বিয়া:৯৮-১০১)

আর দুনিয়ার বিপদ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইবরাহীম আলাইহিস-সালামের ঘটনা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ইরশাদ হয়েছে:

{قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ.}

আমি বললাম,*হে আগুন তুমি শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহীমের জন্য। আর তারা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু আমি তাদেরকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম। আর আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে সে দেশে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি (সূরা আল আম্বিয়া:৬৯-৭১)

মুসল্লিয়ানে কিরাম: তাওহীদ মূলতঃ তিন প্রকার।

এক. তাওহীদে রুবূবিয়াত, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার কর্মসমূহের ক্ষেত্রে তাঁকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা। যেমন, সৃষ্টি একমাত্র আল্লাহই করেন, রিযক একমাত্র আল্লাহই দান করেন, জীবন ও মৃত্যু একমাত্র আল্লাহই দেন। মহাবিশ্বের পরিচালনা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই করেন ইত্যাদি ইত্যাদি। ইরশাদ হয়েছে :

{قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}

বল,তিনিই আল্লাহ,এক-অদ্বিতীয় (সূরা ইখলাস:১)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে:

{اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ وَسَخَّرَ لَكُمُ الْفُلْكَ لِتَجْرِيَ فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ وَسَخَّرَ لَكُمُ الْأَنْهَارَ وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَائِبَيْنِ وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ، وَآَتَاكُمْ مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ .}

আল্লাহ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন ফলে তা দ্বারা ফল-ফলাদি থেকে তামাদের জন্য রিযিক উৎপাদন করেন এবং তিনি নৌযানকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে তা চলাচল করে এবং নদীসমূহকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন। আর তিনি সূর্য ও চাঁদকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন বিরামহীনভাবে এবং তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে। আর তোমরা যা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকে তিনি তোমাদের দিয়েছেন এবং যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, তবে তার সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অধিক অত্যাচারী ও অকৃতজ্ঞ (সূরা ইব্রাহীম: ৩২-৩৪)

দুই. তাওহীদুল উলূহিয়াহ অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগী, দুআ-প্রর্থনা, নজর-মান্নত, বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া, সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা। এসবের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক সাব্যস্ত না করা। ইরশাদ হয়েছে:

{إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ}

আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য চাই (সূরা আল ফাতিহা:৫)

আরো ইরশাদ হয়েছে:

{رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا.}

তিনি আসমানসূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যে যা আছে তার রব। সুতরাং তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁরই ইবাদতে ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জান (সূরা মারয়াম:৬৫)

আরো ইরশাদ হয়েছে:

{وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ}

আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয় আর এটিই হল সঠিক দিন (সূরা আল বায়্যিনা: ৫)

তিন: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত: অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ক একত্ববাদ। অর্থাৎ আল্লাহ যেসব নামে নিজেকে ভূষিত করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল যেসব নামে তাঁকে ডেকেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনো নাম আল্লাহর প্রতি আরোপ না করা। আর আল্লাহ যেসব গুনে নিজকে গুণান্বিত করেছেন, অথবা তার রাসূল তাঁকে যেসব বিশেষণে বিশেষিত করেছেন সে সবের বাইরে অন্য কোনো বিশেষণ আল্লাহর উপর আরোপ না করা, এবং এ ব্যাপারে মাখলুকের সাথে কোনো সাদৃশ্য নিরূপণ, উদাহরণ পেশ, শব্দ ও অর্থের বিকৃতি ও পরিবর্তনের আশ্রয়ে না গিয়ে সরাসরি যেভাবে কুরআন-হাদীসে উল্লেখ হয়েছে ঠিক সেভাবেই বিশ্বাস করা।

ইরশাদ হয়েছে:

{وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}

আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে (সূরা আল আরাফ:১৮০)

আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমাকে যথার্থরূপে তাওহীদ বাস্তবায়নের তাওফীক দান করুন। তাওহীদের মর্ম ও হাকীকত সঠিক অর্থে বোঝার তাওফীক দান করুন। সকল প্রকার শিরক থেকে আমাদেরকে বেঁচে থাকার তাওফীক দিন।

أعوذ بالله من الشيطان الرجيم : {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (سورة الشورى)

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن ِالْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر ِالحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو َالْغَفُور ُالرَّحِيْمْ .

اَلْحَمْدُ لِلِّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، خَلَقَ الْخَلْقَ لِعِبَادَتِهِ، وَأَمَرَ بِتَوْحِيْدِهِ وَطَاعَتِهِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا الهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَمَّا بَعْدُ :

সম্মানিত উপস্থিতি! তাওহীদ এমন একটি বিষয়, যা সদা যত্নের দাবি রাখে। তাওহীদকে সদা আলোকোজ্জ্বল ও স্বচ্ছ-শুভ্র রাখার জন্য প্রয়োজন হয় সার্বক্ষণিক পরিচর্যার। কেননা এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা এর সাথে মিশ্রিত হলে, যার স্পর্শে গেলে তাওহীদ ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য। এসব বিষয় হলো তাওহীদ পরিপন্থী বিষয়, যেমন- সকল গ্রকার বড় শিরক বা শিরকে আকবার। শিরকে আকবার পুরোপুরি তাওহীদের বিপরীত, তাওহীদকে সমূলে বিনাশকারী। উদাহরণত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে এমন বিষয়ের জন্য দুআ-প্রার্থনা করা, যা দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। যেমন নেককার ব্যক্তিদের কবরে গিয়ে কোনো কিছু চাওয়া, ভেলকিবাজ ফকীর, জ্যোতিষী ও গণকের কাছে যাওয়া এবং গায়েবের খবর রাখে বলে তারা যে দাবি করে তা বিশ্বাস করা। ইরশাদ হয়েছে:

{وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ}

আর যদি আল্লাহ দুর্দশা দ্বারা তোমাকে স্পর্শ করেন তবে তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দূর করার নেই, আর যদি তিনি তোমাকে ভাল দ্বারা স্পর্শ করেন তবে তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান (আল আনআম:১৭)

বড় শিরকের আরেকটি প্রকার হল: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দুআ মুনাজাত করা, প্রার্থনা করা। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআকে ইবাদত বলে আখ্যায়িত করেছেন, বলেছে

{الدُّعاءُ هُوَ العِبَادةُ}

দুআই হল ইবাদাত (তিরমিযী)।

বড় শিরকের আরেকটি প্রকার হল, আনুগত্যের ক্ষেত্রে শিরক। অর্থাৎ আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারামকারী অথবা যা হারাম করেছেন তা হালালকারী কোনো মানুষের অনুগত্য করা।

এ ব্যাপারে হাদীসে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। ঘটনাটি এ রকম: আদী ইবনে হাতেম রাযি. তখন খৃষ্টধর্মের অনুসারী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়তে শুনলেন:

(اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ)

আদী ইবনে হাতেম বললেন: আমরা তো তাদের ইবাদত করি না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, পাপের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করাই তাদের ইবাদত। তিনি বলেছেন, *আল্লাহ যা হালাল করেছেন তারা কি তা হারাম করে না, অতঃপর তোমরাও তা হারাম বল? তারা কি হালাল করে না আল্লাহ যা হারাম করেছেন, অতঃপর তোমরাও তা হালাল বল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, *এটাই তাদের ইবাদাত*(তিরমিযী)।

শিরকের আরেকটি ধরন হল মহব্বতবিষয়ক শিরক, যার দাবি হল তাযীম-ভক্তি,বিনয় ও অধীনস্থতার যেসব ধরন-ধারণ কেবল একমাত্র আল্লাহর ব্যাপারেই প্রযোজ্য, তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি পোষণ করা। ইরশাদ হয়েছে:

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ}

আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে আল্লাহকে ভালবাসার মত ভালবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর জন্য ভালবাসায় দৃঢ়তর (সূরা আল বাকারা:১৬৫)

শিরকের অন্য-একটি রূপ হচ্ছে নিয়ত ও ইচ্ছার ক্ষেত্রে শিরক, অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহকে রাযিখুশী করার উদ্দেশ্য না নিয়ে দুনিয়া অর্জন, সুনাম কুড়ানো ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগী করা। ইরশাদ হয়েছে:

{مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآَخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ .}

যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার জৌলুস কামনা করে, আমি সেখানে তাদেরকে তাদের আমলের ফল পুরোপুরি দিয়ে দেই এবং সেখানে তাদেরকে কম দেয়া হবে না (সূরা হুদ:১৫-১৬)

মুহতারাম মুসল্লীবৃন্দ! শিরকের পাপ সবচেয়ে বড় পাপ। শিরকের অন্যায় সবচেয়ে বড় অন্যায়। এ অন্যায়কে আল্লাহ তাআলা কখনো ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া যাকে চান তিনি ক্ষমা করেন। ইরশাদ হয়েছে :

{إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا }(سورة النساء : 48)

নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরীক করাকে এবং এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে তো ঘোর পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হল (সূরা আন-নিসা: ৪৮)

অন্যত্র এসেছে:

{وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيق}

আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ল। অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে দূরের কোনো জায়গায় নিক্ষেপ করল (সূরা আল হাজ্জ:৩১)

আরো ইরশাদ হয়েছে:

{إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ}

নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই (সূরা আল মায়িদাহ:৭২)

মুহতারাম হাযিরীন! আমাদের মধ্যে কে না চায় দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা? কে না চায় জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করতে? কে না চায় দুনিয়াতে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন এবং পরকালের মুক্তি ও কল্যাণ? কে না চায় শাশ্বত সুখ ও বেহেশতের সওগাত?

তাহলে আসুন, তাওহীদকে আমরা করে নেই একান্ত আপন। তাওহীদের জন্য হয়ে যাই নিবেদিত, মুখলিস। তাওহীদ সম্পর্কে যথার্থরূপে শিক্ষালাভ করি এবং তা আয়ত্ত করি। হকপন্থী উলামা-ই কিরাম তাওহীদ ও শিরক, শিরকের কারণ ও মাধ্যমসমূহ, তাওহীদ ও শিরকের হুকুম-আহকাম, দলীল-প্রমাণ সম্পর্কে যা কিছু লিখেছেন তা অধ্যয়ন করি। এগুলোর অধ্যয়ন আমাদেরকে নিয়ে যাবে অন্ধকার থেকে আলোতে। সুগম হবে হিদায়াতের পথ ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই।

দুনিয়ার জৌলুস ও চাকচিক্য যেন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ মহান বিষয় থেকে আমাদেরকে দূরে সরাতে না পারে। কেননা এ বিষয়টির দাওয়াত নিয়েই প্রেরিত হয়েছেন নবী-রাসূলগন। এর ভিত্তিতেই প্রদান করা হবে জান্নাত ও জাহান্নাম। তাই বিষয়টির প্রতি আরোপ করুন সর্বোচ্চ গুরুত্ব। এই মুহূর্ত থেকেই এ ব্যাপারে যথার্থ উদ্যোগ নিন। খালেস নিয়তে অধ্যয়ন শুরু করুন তাওহীদ ও শিরকের সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত সকল আলোচনা। যাতে, না জানার কারণে অনেকেই যেসব ভুল করে বসেন, আপনি সে সবে জড়িয়ে না যান, তাওহীদ থেকে দূরে চলে না যান। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের নিয়ত সংশোধন করে দেন। আমাদের দীন চর্চাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আমাদের দুনিয়াকে তিনি ইসলাহ করেন। তিনি অতি দয়ালু ও মেহেরবান।

মুসলিম ভাইয়েরা! আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর উপর আমাদেরকে সালাত ও সালাম পাঠ করতে বলেছেন। কুরআনুল কারীমে এ ব্যাপারে তিনি সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:

{إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا}

নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা (ঊর্ধ্ব জগতে ফেরেশতাদের মধ্যে) নবীর প্রশংসা করেন, এবং তার ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দুআ করেন। হে মুমিনগণ তোমরাও নবীর উপর দরুদ পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও (আল আহযাব:৫৬)

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْم إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنَ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে যথার্থরূপে তাওহীদ শেখার তাওফীক দান করুন। আপনি আমাদেরকে যথার্থরূপে তাওহীদ বাস্তবায়ন করার তাওফীক দিন। আমরা যেন কখনো কোনো শিরকে লিপ্ত না হই সে তাওফীক আমাদের দান করুন। সকল প্রকার বাতিল আকীদা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। সকল প্রকার গোমরাহী থেকে আমাদের হিফাযত করুন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ: (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.