পাঠ সংক্ষেপ

খুতবার উদ্দেশ্য: মুসলমানদের হৃদয় আল্লাহর সাথে জুড়ে দেয়া। যাদু, ভাগ্য গণনা, ভেলকিবাজি বিষয়ে ইসলামের অবস্থান তুলে ধরা। গণক, জ্যোতিষী, যাদুকর ও ভেলকিবাজ ফকিরের শরণাপন্ন হওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ার করা।উম্মতের উপর এ সবের বিধ্বংসী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা

اَلْحَمْدُ لِلّه الَّذِيْ لَمْ يَتَّخِذْ وَلَداً وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيْكٌ فِيْ الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيْراً، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، خَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيْراً، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَرْسَلَهَ شَاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيْراً وَدَاعِياً إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجاً مُّنِيْراً، صَلََّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِه، وَمَن تَبِعَهَ عَلَى دِيْنِهِ، وَتَمَسَّكَ بِسُنَّتِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْرَاً.. أَمَّا بَعْدُ:

সম্মানিত মুসল্লীবৃন্দ ! ভেলকিবাজ ফকীর, গণক ও জ্যোতিষীদের শরণাপন্ন হওয়া বর্তমানে একটা ব্যাপক ব্যাধির আকার ধারণ করেছে। এদের কাছে ছোট-বড়-নারী-পুরুষ সবাই যাচ্ছে। কেউ যাচ্ছে বিপদমুক্তির জন্য, কেউ যাচ্ছে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে, কেউ যাচ্ছে হারানো বিষয়ের সন্ধান পেতে। আর এসব ভেলকিবাজ ফকীর-গণক-জ্যোতিষীরা মিথ্যার ঝুলি খুলে বিভ্রান্ত করছে তাদের দর্শানার্থীদের। হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এ ধরনের লোকদের আশ্রয়ে যেতে, এদের সাথে রীতিমত সম্পর্ক রাখতে, এমনকি মুসলিম বিশ্বের অনেক সরকার প্রধানকেও দেখা যায়, যা সত্যি দুঃখজনক। তাদের ধারণা, এসব ব্যক্তিই তাদেরকে ক্ষমতার আসনে বসিয়েছে এবং যে কোনো সময় ইচ্ছে করলেই তা ছিনিয়ে নিতেও তারা সক্ষম। নাউযু বিল্লাহ ! তারা বেমালুম ভুলে যান যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ}

বল, হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন। আর যাকে চান অপমানিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান (সূরা আলে ইমরান:২৬)

ব্যবসায়ী তার ফকীর বাবা অথবা জ্যোতিষীর পরামর্শেই বেচা-কেনা করছে। তার ইশারাতেই উঠাবসা করছে। তার সকল কথাই কায়মনোবাক্যে মেনে নিচ্ছে। মহিলারা তাদের স্বামীদের বশে আনার উদ্দেশ্যে, স্বামীরা যেন অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট না হয়, অন্য কারো কথা না শোনে, এই উদ্দেশ্যে তারা ওই ভেলকিবাজদের কাছে যাচ্ছে। ইচ্ছাপূরণের আর্জি পেশ করছে। সাহায্য চাচ্ছে। তারা আকাশ ও পৃথিবীর মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলাকে ভুলে গিয়ে এরূপ করছে, যিনি করুণাময় পরম দয়ালু, যিনি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মিল-মহব্বত সৃষ্টিকারী, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মায়া-মমতা, আকর্ষণ ও রহমত-দয়ার যিনি একমাত্র স্রষ্টা, তাঁকে ভুলে গিয়ে মহিলারা শরণাপন্ন হচ্ছে ভেলকিবাজ ফকীরদের, গণক ও জ্যোতিষীদের। আমাদের বর্তমান সমাজচিত্র অনেকটা এরকমই।

আল্লাহ তাআলা যাদু, ভেলকিবাজি পছন্দ করেন না। যাদু, কুফরী কর্মের অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি সরাসরি আল কুরআনে ব্যক্ত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে :

{وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ}

আর তারা শেখাত না যে পর্যন্ত না বলত যে, আমরা তো পরীক্ষা, সুতরাং তোমরা কুফরী করো না (সূরা আল বাকারা:১০২)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সাতটি বড় পাপ থেকে বাঁচো। সাহাবীগণ বললেন: সেগুলো কী, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা, যাদু, হকপন্থা ছাড়া আল্লাহ তাআলার হারাম করে-দেয়া মানব হত্যা। সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের সম্পদ খাওয়া, অভিযানের দিন পিছু হটা, সচ্চরিত্র সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করা (বুখারী ও মুসলিম)

আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু লোক গণকদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন,ওরা কিছুই না। লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওরা তো অনেক সময় এমন বিষয় সম্পর্কে আমাদেরকে বলে, যা সত্য হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওইটুকু সত্য কথা যা জিনেরা ছো মেরে নেয় এবং তাদের বন্ধুদের কানে ঢেলে দেয়। অতঃপর তারা এর সাথে একশটা মিথ্যে মিশ্রিত করে (বুখারী )।

অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কুলক্ষণ মানল অথবা যার জন্য কুলক্ষণ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হল, অথবা যে ব্যক্তি ভবিষ্যৎ গণনা করল অথবা যার জন্য ভবিষ্যৎ গণনা করা হল, যে যাদু, করল অথবা যার কথায় যাদু করা হল, যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গেল অতঃপর তার কথা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার সাথে কুফরী করল (হাদীসটি হাদীসবেত্তা বাযার সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন)।

যাদুকর ও ভেলকিবাজের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সাহাবায়ে কিরামের ঐতিহ্য থেকে এটাই প্রমাণিত।

প্রিয় উপস্থিতি! সমাজে এসব ভেলকিবাজ ফকীরদের, গণক ও জ্যোতিষীদের কুপ্রভাব খুবই মারাত্মক। আর এসব কুপ্রভাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

এক. যারা এদের কাছে যায়, এদের কথা বিশ্বাস করে, তাদের ঈমান চলে যায়, তাদের ঈমানের মৃত্যু ঘটে। উল্লিখিত হাদীসটি এর প্রমাণ।

দুই.মানুষের মধ্যে যিনা-ব্যভিচার ও পাপাচার বেড়ে যায়। অনেক ভণ্ডফকীর বা জ্যোতিষীদেরকে দেখা গেছে মনোবাঞ্ছা পূরণের প্রলাভন দেখিয়ে তাদের কাছে যাওয়া নারীদের সাথে যিনা করতে। আর এভাবেই তারা স্বামীদের জন্য স্ত্রীদেরকে নষ্ট করে দিচ্ছে এবং তাদের জন্য পাপ ও ফাসাদের বিশাল দরজা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।

তিন.বাতিলপন্থায় মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা। কেননা জ্যোতিষী ও ভণ্ডফকীর তাদের যাদুটোনার মাধ্যমে যা কিছু অর্জন করছে তা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর বিক্রির মূল্য, পতিতাবৃত্তির বিনিময় ও জ্যোতিষীর উপার্জিত অর্থের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন (বুখারী )।

চার.মানুষদেরকে গোমরাহ করা ও পাপকাজে লিপ্ত করা। অর্থাৎ যারা এদের কাছে যায় তাদের কাউকে এরা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নামাজ থেকে বারণ করে। আবার কাউকে এরা ফরয গোসল থেকে বারণ করে। কাউকে আবার ভাল কাজ থেকে বারণ করে এবং সকল প্রকার খারাপ কাজ করার নির্দেশ দেয়।

পাঁচ. এসব কাজ উম্মতের উপর আল্লাহর গজবের কারণ হয়। যায়নাব বিনতে জাহাশ রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে: তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! সৎলোকেরা আমাদের মাঝে থাকার পরেও কি আমারা ধ্বংস হয়ে যেতে পারি ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, যদি খারাবি বেড়ে যায় (বুখারী ও মুসলিম )।

ছয়. দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের ক্ষতি। ইরশাদ হয়েছে:

{وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى }

আর যাদুকর যেখানেই আসুক, সে সফল হবে না (সূরা তাহা:৬৯)

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن ِالْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر ِالحْكِيْمِ, أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو َالْغَفُور ُالرَّحِيْمْ .

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَمَرَنَا أَنْ نَعْبُدَهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الْدِّيْنَ، وَنَهَانَا عَنْ طَاعَةِ الْكُفَّارِ وَالْمُشْرِكِيْنَ، وَالانْخِدَاعِ بِأَعْمَالِ الْسَّحَرَةِ وَالْمُشَعْوِذِينَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلََّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَسَلََّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْراً، أَمَّا بَعْدُ:

রিযকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। রিযকের ভাণ্ডার একমাত্র তাঁরই হাতে। তাই রিযকের প্রয়োজনে আল্লাহর কাছেই দরাজ করতে হবে প্রার্থনার হাত, অন্য কারও কাছে নয়। ইরশাদ হয়েছে :

{فَابْتَغُوا عِنْدَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ}

তাই আল্লাহর কাছে রিযক তালাশ কর, তাঁরই ইবাদাত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁর কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে (সূরা আনকাবুত:১৭)

আপনার কি সন্তান প্রয়োজন? তাহলে আর অপেক্ষা কিসের ? আসুন, দুআ করুন আল্লাহর কাছে, আসমান-যমীন ও সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টার কাছে। আপনার জন্য কল্যাণকর হলে আল্লাহ অবশ্যই আপনার জন্য সন্তানের ফয়সালা করে দিবেন। আপনি কি নবী যাকারিয়া আলাইহিসসালামের দুআর কথা ভুলে গেছেন ? যাকারিয়া আলাইহিস-সালাম সন্তানের প্রয়োজন অনুভব করলে আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে তিনি বলেছেন:

{رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ}

হে আমার রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে নেককার সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী (সূরা আলে ইমরান:৩৮)

আপনার যদি প্রভাব-প্রতিপত্তি ও রাজত্বের প্রয়োজন হয় তাহলেও শরণাপন্ন হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তাআলার, যিনি ছাড়া আর কেউ নেই আপনার প্রয়োজন পূর্ণ করার। ইরশাদ হয়েছে:

{وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ }

আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, তখন আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে (সূরা আল-বাকারা:১৮৬)

সম্মানিত উপস্থিতি! আমাদের সমাজ যাদুটোনা, ফকীরাগিরী, ভবিষ্যৎ গণনা, হারানো জিনিসের সন্ধানে তান্ত্রিকদের কাছে যাওয়ার কালচারে ভরপুর। বিপদ আসলেই আল্লাহর আশ্রয়ে না গিয়ে মানুষ এ সব কুসংস্কারের আশ্রয় নেয়, ফলে তারা ফেল করে বসে ঈমানের পরীক্ষায়। তাই আমাদের সমাজপতিদের ও দেশের কর্ণধারদের উচিত, উল্লিখিত কুসংস্কার থেকে মুসলমানদেরকে হিফাযত করা। মুসলমানদের ঈমান রক্ষায় এগিয়ে আসা। ইরশাদ হয়েছে:

{وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ}

সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। আর মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর (সূরা আল মায়িদা:২)

এ সকল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেয়া উচিত। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। যারা এসব কুসংস্কার জিইয়ে রেখে সমাজকে কলুষিত করছে, তাদের উচ্ছেদের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক। যারা বাড়ি ভাড়া দেই তাদের উপর অবশ্য কর্তব্য হবে এসব লোককে বাড়ি ভাড়া না দেয়া। যারা সমাজপতি তাদের উচিত হবে, তাদের আওতাধীন কোনো এলাকায় এদেরকে আস্তানা গাড়তে না দেয়া। সাধারণ মানুষকে এদের কাছে যেতে নিষেধ করা। যদি এরূপ না করা হয় তবে আল্লাহর কাছে আমাদের জওয়াব দেয়ার কোনো ভাষা থাকবে না। আমরা বনী ঈসরাইলের মতো হয়ে যাব যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:

{كَانُوا لاَ يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ}

তারা পরস্পরকে মন্দ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা করত (আল মায়িদা:৭৯)

অন্য এক আয়াতে বলেছেন:

{لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَنْ قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ}

কেন তাদেরকে রব্বানী ও ধর্মবিদগণ তাদের পাপের কথা ও হারাম ভক্ষণ থেকে নিষেধ করে না? তারা যা করছে, নিশ্চয় তা কতইনা মন্দ ! (সূরা আল মায়িদা:৬৩)

মুনকার অর্থাৎ ইসলামী শরীয়তে যা কিছু অন্যায় ও পাপ তা পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সকলের উপর আল্লাহর গজব নাযিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাদীসে এসেছে:

{إنَّ النَّاسَ إذَا رَأَوْا الْمُنْكَرَ وَلَمْ يُغَيِّرُوهُ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمْ اللَّهُ بِعِقَابِ مِنْهُ}

মানুষ যখন কোনো মন্দকাজ দেখে অথচ তা পরিবর্তন করে না, খুবই আশঙ্কা রয়েছে যে আল্লাহ তার শাস্তি সকলের উপর ব্যাপক করে দেবেন (মাজমুউল ফাতাওয়া:৩৫/১৯৫)

আর এসব দুষ্টলোকদের দুষ্কম্যের মাধ্যমে মানুষ লিপ্ত হচ্ছে অমার্জনীয় শিরকে, হারিয়ে ফেলছে তাদের ঈমান আকীদা। এর থেকে বড় দুষ্কর্ম আর কি হতে পারে ? এরা তাওহীদের দুশমন, নবী-রাসূলদের দুশমন, এরা নক্ষত্রের পূজক। এরা মানুষের সম্পদ অবৈধভাবে ভক্ষণ করছে, এরা রুদ্ধ করছে দীন চর্চার স্বচ্ছ-সুন্দর পথ। তাই এদেরকে বয়কট করতে হবে সকল ক্ষেত্রে এবং সামগ্রিকভাবে।

মুহতারাম মুসল্লীবৃন্দ! আসুন আমরা একমাত্র আল্লাহকে ভয় করি। আল্লাহর কাছে তাওবা এস্তেগফার করি। সকল বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করি। সাথে সাথে শরীয়তে বৈধ আসবাব ও উপকরণ অবলম্বন করি। আসুন আমরা সকলে মিলে উল্লিখিত সকল কুসংস্কার বর্জন করে ঈমান ও আকীদার স্বচ্ছতা বজায় রাখি। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কেননা কার মৃত্যু কখন আসবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষে তা বলার সাধ্য নেই। আর মৃত্যুর পর ভুলসংশোধন ও সৎকাজ করার আদৌ কোনো সুযোগ থাকবে না। কেননা আজ হল কর্ম আর কাল হল হিসাব। তাই আসুন আমরা নিজদেরকে পরিশুদ্ধ করি। হিসাব প্রদানের জন্য যথার্থরূপে প্রস্তুতি নিই।

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلََّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الْرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطََّيِّبِيْنَ الْطََّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنْ الْصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الْرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল পাপ ও গুনাহ থেকে হিফাযত করুন। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শিরক থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। যাদুকর, ভেলকিবাজ, গণক ও জ্যোতিষীদের থেকে আমাদের ঈমান ও আকীদার হিফাযত করুন। এসব কুসংস্কার সামগ্রিকভাবে বয়কট করার তাওফীক দান করুন।

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলমানদের ইজ্জত ও কদর বাড়িয়ে দিন। সমগ্র পৃথিবীতে আপনার কালেমা বুলুন্দ করুন। অমুসলিমদেরকে ইসলাম বোঝা ও গ্রহণ করার তাওফীক দিন। আপনার মনোনীত দীন অনুযায়ী সকলকে আমল করার তাওফীক দিন। দীনের দাঈদেরকে হিফাযত করুন। তাদের প্রতি আপনার খাস নুসরত ও সাহায্য নাযিল করুন। আমাদের সকলের নেক-মাকসুদগুলো পুর্ণ করুন। আমাদের ছেলে-সন্তান, পরিবার-পরিজনকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করুন। আমীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ: ( إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.