পাঠ সংক্ষেপ

ঈদুল ফিতর আল্লাহর এক নিয়ামত। ঈদুল ফিতর আনন্দোৎসব ও ইবাদত। ঈদুল ফিতর মাহে রমজানের আমলের পরিসমাপ্তি। এতে রয়েছে সাদকায়ে ফিতর- রোযাদারের ভুলত্রুটি পরিশুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। ঈদুল ফিতরে শামিল রয়েছে ইসলামের বহু সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ। ঈদে একত্রিত হয় বহু বিচ্ছিন্ন হৃদয়। আপ্লুত হয় একে অন্যকে কাছে পেয়ে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর। ঈদ স্মরণ করিয়ে দেয় মুসলিম সমাজের অভাবী ব্যক্তিদের; যাতে আনন্দ বয়ে যেতে পারে প্রতিটি বাড়িতে,পাড়ায় পাড়ায়।

ঈদুল ফিতর

খুতবায় যা থাকবে : ১.আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন ঈদের এক অন্যতম উদ্দেশ্য, ২.অভাবগ্রস্তদের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ, ৩.ঈদের দিন আল্লাহর নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করা, ৪.যথার্থরূপে দীন চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ

প্রথম খুতবা

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ شَرَعَ لِعِبَادِهِ عِيْداً يَذْكُرُوْنَهُ فِيْهِ، وَيَشْكُرُوْنَهُ عَلَى فَضْلِهِ وَإِحْسَانِهِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ يَسْتَوِيْ عِنْدَهُ مَا فِيْ سِرِّ الْعَبْدِ وَإِعْلانِهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ أَرْسَلَهُ اللهُ لِتَبْلِيْغِ الْحَقِّ وَتِبْيَانِهِ، وَصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الَّذِيْنَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوْا وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْراً، أَمَّا بَعْدُ: اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! আজ ঈদুল ফিতর। মুবারক উপলক্ষ। শত আনন্দের ফোয়ারায় কল্লোলিত এক উপলক্ষ। আল্লাহ তা‘আলা র পক্ষ থেকে হাদিয়া হিসেবে-আসা মুবারক ও সম্মানিত উপলক্ষ। সাহাবী আনাস রাযি. বর্ণানা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করে এলেন, তিনি মদীনাবসীকে দু’টি দিবসে খেল-তামাশা করতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন:

( مَا هَذَانِ اليَومَانِ؟ قَالُوا: كُنَّا نَلعَبُ فِيهِمَا في الجَاهِلِيَّةِ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ -صَلَّى اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ قَدَ أَبدَلَكُم بِهِمَا خَيرًا مِنهُمَا: يَومَ الأَضحَى وَيَومَ الفِطْرِ )

এ দিবস দু’টি কী? তারা বললেন,‘আমরা জাহিলীযুগে এ দিবস দু’টিতে খেলতাম’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে এ দু’টির পরিবর্তে উত্তম দিবস দিয়েছেন। ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর’ (আবূ দাউদ, সহীহ)।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! ঈদুল ফিতরের এ মহান দিবসে, আনন্দের শত আবহ বিজড়িত এ সকালে আমরা যেভাবে নামায আদায়ের মাধ্যমে উৎসব পালন করছি, তা আল্লাহ তা‘আলার একটি বিশেষ করুণা ও দান। আমরা দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম সাধনা করে, রাতের বেলায় তারাবীহ্-এর নামায পড়ে, কুরআন শুনে ও তিলাওয়াত করে, গরীব-মিসকীনকে দান-সাদকা করে, রোযাদারকে ইফতার করিয়ে, কল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করে আমাদের আনন্দকে পরিপূর্ণ করার জন্য আজ উপস্থিত হয়েছি ঈদের নামাযে। এভাবে আনন্দ ও পবিত্রতার অকল্পনীয় সংমিশ্রণে কেবল মুসলিম উম্মাহই ঈদ উদযাপন করে। এটা নিশ্চয় এক নিয়ামত যা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সম্মানিত করেছে। ইরশাদ হয়েছে :

{ قُلْ بِفَضلِ اللهِ وَبِرَحمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفرَحُوا هُوَ خَيرٌ مِمَّا يَجمَعُونَ }

‘বল, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে। সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা খুশি হয়’। এটি যা তারা জমা করে তা থেকে উত্তম’ (সূরা ইউনুস:৫৮)।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

প্রিয় ভাইয়েরা! ইবাদতের মৌসুমের পর ঈদ পালনের বিধান দেয়ার মধ্যে আমরা এ ইঙ্গিত খুঁজে পাই যে একজন মুমিনের জীবনে প্রকৃত আনন্দ কেবল তখনই আসে যখন সে আল্লাহর আনুগত্যের প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সক্ষম হয়। মুমিন যখন তার আমলকে রাব্বুল আলামীনের দরবারে সুন্দর করে পেশ করতে সক্ষম হয়, আনুগত্যের কোনো একটি বিষয় বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তখন সে স্ফূর্তি অনুভব করে। আনন্দ অনুভব করে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

( إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ وَسَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ فَأَنتَ مُؤمِنٌ )

‘তোমার নেক কাজ যদি তোমাকে আনন্দ দেয়, আর বদ আমল তোমার মনপীড়ার কারণ হয় তবে তুমি মুমিন’ (আহমদ, সহীহ)।

তাই আজকের দিন আনন্দ অনুভব করার দিন। শুকরিয়া আদায়ের দিন। আল্লাহর আযমত ও বড়ত্ব বর্ণনা করার দিন। খাওয়া পান করা ও রোযা ভঙ্গের দিন। আজ আল্লাহর মেহমানদারী গ্রহণ করার দিন। উমর রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে :

( هَذَانِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ عَنْ صِيَامِهِمَا: يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ، وَالْيَوْمُ الْآخَرُ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ)

‘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দু’দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। একটি হলো তোমাদের রোযা ছাড়ার দিন (ঈদুল ফিতরের দিন) অপরটি হলো যেদিন তোমরা তোমরাদের কুরবানী থেকে খাও (ঈদুল আযহার দিন)’ (বুখারী)।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

সুপ্রিয় হাযেরীন! ঈদের উৎসব মহা উৎসব। কল্যাণের উৎসব। এ উৎসবের বরকত ও কল্যাণ কুড়িয়ে নিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেতেন। উম্মে আতিয়্যা রাযি. বলেন :

( كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ نَخْرُجَ يَوْمَ الْعِيدِ حَتَّى نُخْرِجَ الْبِكْرَ مِنْ خِدْرِهَا حَتَّى نُخْرِجَ الْحُيَّضَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ، فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيرِهِمْ وَيَدْعُونَ بِدُعَائِهِمْ يَرْجُونَ بَرَكَةَ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَطُهْرَتَهُ )

‘ আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হত, আমরা যেন ঈদের দিন উপস্থিত হই। একারণে অবিবাহিতা এবং ঋতুবতী মেয়েরাও (ঈদগাহে) উপস্থিত হত। তারা পুরুষদের পেছনে থাকত তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত এবং তাদের দু‘আর সাথে দু‘আ করত। বস্তুত ঈদের দিনের বরকত পবিত্রতা হাসিলের উদ্দেশ্যেই তারা এরূপ করত’ (বুখারী)।

জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :

(كَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّىَ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جِبَّةٌ يَلْبِسُهَا لِلْعِيْدَيْنِ وَيَوْمِ الْجُمُعَةِ)

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি জুব্বা ছিল, যা তিনি দুই ঈদ ও জুমআর দিন পরিধান করতেন’ ( সহীহ ইবনে খুযাইমা)।

ঈদের দিন খাবার গ্রহণের দিন। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেয়ে বের হতেন। উদ্দেশ্য ছিল এ কথার জানান দেয়া যে, আজ রোযা রাখা নয় বরং রোযা ভঙ্গের দিন। আজ রোযা না রাখার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করার দিন। সাহাবী আনাস ইবনে মালেক রাযি. বলেন :

( كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ. )

‘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন সকালে অন্তত কয়েকটি খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না’ (বুখারী)।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

সুপ্রিয় উপস্থিতি! ঈদুল ফিতরের দিন দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা ও ইবাদত বন্দেগী করতে পারার আনন্দ সকলে মিলে ভাগাভাগি করে নেয়ার দিন। নিঃস্ব, গরীব, ফকীর-মিসকীন সবাই যাতে সমানভাবে ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে সে জন্যই ওয়াজিব করা হয়েছে সাদকায়ে ফিতর। হাদীসে এসেছে, ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন :

( فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ، وَالرَّفَثِ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ، فَمَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ، وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ )

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব করেছেন রোযাদার রোযা অবস্থায় যেসব বেহুদা কথাবার্তা ও গর্হিত কাজকর্ম করেছে তা থেকে রোযাকে পবিত্র করা এবং গরীব-মিসকীনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে। অতঃপর যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পূর্বে সাদকায়ে ফিতর আদায় করবে তা হবে গ্রহণযোগ্য সদকা। আর যে ব্যক্তি তা ঈদের নামাযের পর আদায় করবে তা সাধারণ সাদকা হিসেবে বিবেচিত হবে’ (আলবানী: সহীহ ইবনে মাজা)।

ঈদুল ফিতর আল্লাহর আযমত ও বড়ত্ব বয়ানের দিন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

{ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ }

‘ আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়েত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর’ (সূরা বাকারা: ১৮৫)।

ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্র্ণিত। তিনি বলেন :

{ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا غَدَا يَوْمَ الَفِطْرِ وَيَوْمَ الْأَضْحَىْ يَجْتَهِدُ بِالتَّكْبِيْرِ حَتَّىَ يَأْتِيَ الْمُصَلَّى، ثُمَّ يُكَبِّرُ حَتَّىَ يَخْرُجَ الْإِمَامُ }

‘ইবনে উমর রাযি. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সকালে ঈদগাহে আসা পর্যন্ত তাকবীর দিতেন। ঈদগাহে এসেও তাকবীর দিতেন যতক্ষণ না ইমাম বের হয়ে আসতো’ (দারা কুতনী)।

ইমাম যুহ্রী রহ. বলেন :

كَانَ النَّاسُ يُكَبِّرُونَ مُنْذُ يَخْرُجُوْنَ مِنْ بُيُوْتِهِمْ حَتَّىَ يَدْخُلَ الْإِمَامُ

‘মানুষ তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই ইমাম প্রবেশ করা পর্যন্ত তাকবীর দিত’।

তাকবীর হলো :

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

أَقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا، وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْمَ الْجَلِيْلَ لِيْ وَلَكُمْ وَلِسَائِرِ الْمُسْلِمِيْنَ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ، فَاسْتَغْفِرُوْهُ وَتُوْبُوْا إِلَيْهِ، إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الْرَّحِيْمُ.

ঈদুল ফিতর

দ্বিতীয় খুতবা

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنَ طِيْنٍ، ثُمَّ جَعَلَهُ فِيْ قَرَارٍ مَكِينٍ، ثُمَّ سَوَّاهُ حَتَّى تَكَامَلَ جِسْمُهُ وَحَوَاسُّهُ وَسَمْعُهُ وَبَصَرُهُ، فَتَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، الْمَبْعُوْثُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِيْنَ: صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ، وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْراً، أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! ঈদ একটি দীনী উৎসব। অবৈধ খেল-তামাশায় এ উৎসবের পবিত্রতা নষ্ট করা উচিত নয়। আমাদের ঈদ বিজাতিদের উৎসব দিবসের মতো নয়, যেখানে চলে অবৈধ খেল-তামাশা, আনন্দ-বিনোদন। মুসলমানের ঈদ আল্লাহর যিকর প্রতিষ্ঠার ঈদ। আল্লাহর আনুগত্য প্রতিষ্ঠার ঈদ। রোযা, তারাবীহ, কিয়ামুল্লাইল, সাদকা, দান-খয়রাত ইত্যাদি করতে পারায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের ঈদ।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

আর মনে রাখবেন, ভাগ্যবান সে নয় যে ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ পরতে পারার সুযোগ পেল, ভালো খাবার-দাবার গ্রহণ করার সুযোগ পেল, হাসি-তামাশায় ও অধিক কথাবার্তায় মত্ত হলো বরং ভাগ্যবান তো সে যার সিয়াম-তারাবীহ আল্লাহ তা‘আলা কবুল করলেন। যার গুনাহ ও অন্যায় তিনি মাফ করে দিলেন। ভাগ্যবান তো সে যে বিগত রমযানে নিজকে পরিশুদ্ধ করতে পারল। অতঃপর পরিশুদ্ধ অবস্থায় ঈদের নামায পড়তে এল এবং ঈদগাহ থেকে রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে দেয়া পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারল।

ঈদে আপনাদের মাঝে নেই। বরং দুনিয়ার সব চাকচিক্য ছেড়ে, ধন-সম্পদ পিছনে রেখে চলে গিয়েছেন পরপারে অনন্তকালের জন্য, যেখানে ঈমান ও নেক আমল ছাড়া অন্য কিছুই তাদের সাথে নেই। আমরা যারা এবারের ঈদে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছি তারা সবাই যে আগামী বছর সুযোগ পাব তার আদৌ কোনো গ্যারান্টি নেই। কার মৃত্যু কখন চলে আসে আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। তাই আসুন আমরা ঈদের এই মুবারক মুহূর্তে দৃঢ়চিত্তে শপথ নিই পরকালমুখী জীবনযাপনের। আল্লাহর আদেশ-নিষেধের আওতায় জীবনযাপনের।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

প্রিয় ভাইয়েরা! দুনিয়ার চাকচিক্য যেন আমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে। আমরা যে আজ রঙ বেরঙের পোশাক পরেছি তাও যেন আমাদেরকে তাকওয়া পরহেযগারী থেকে সরিয়ে না দেয়। কেননা আসল সৌন্দর্য ও চাকচিক্য হলো তাকওয়ার সৌন্দর্য ও চাকচিক্য। পবিত্র কুরআনের ইরশাদ হয়েছে :

( يَا بَنِي آَدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ )

‘হে বনী আদম, আমি তো তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবে এবং যা সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার পোশাক, তা উত্তম। এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা আল আরাফ:২৬)।

প্রিয় ভাইয়েরা আমার! মুসলমান মাতা-পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায় না। ইসলামের হুকুম আহকাম, আদেশ নিষেধ পালন না করে কেবল মুসলমানের নাম বহন করে বেড়ালেই প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায় না। রবং ইসলামের রয়েছে সুস্পষ্ট কিছু বিধানমালা, হুকুম-আহকাম, মুসলমান হতে হলে যা পালন করা অবশ্য কর্তব্য।

ইসলাম আমাদেরকে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের নির্দেশ দেয়। দু‘আ-প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেয়। মানুষসহ সকল সৃষ্টির প্রতি ইহসান করার নির্দেশ দেয়। মুসলমান তো সেই যে তার দায়িত্বগুলো যথার্থরূপে পালন করে। যে হারাম ও অবৈধ বিষয় থেকে বেঁচে থাকে। যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। মুসলমান তো সেই যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে। রোযা রাখে। যাকাত ফরয হলে যাকাত দেয়। হজ্ব ফরয হলে হজ্ব করে। মুসলমান তো সেই যে সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজে বাধা দেয়। মুসলমান তো সে যে কারো প্রতি নির্যাতনের হাত বাড়ায় না। যে জিহ্বার ব্যবহারে কাউকে কষ্ট দেয় না।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমরা আমাদের দৃষ্টি সংযত রাখি। কেননা দৃষ্টি হলো শয়তানের হাতিয়ার যার মাধ্যমে পশুপ্রবৃত্তিকে সে উস্কে দেয়। গর্হিত কাজে লিপ্ত হতে উৎসাহ জোগায়। আর আমরা আমাদের স্ত্রী-কন্যাদের নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনার সয়লাবে ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করি। তাদেরকে শরীয়তের নির্দেশ মোতাবেক পর্দার বিধান মেনে চলতে বাধ্য করি। পরপুরুষের সাথে ওঠাবসা থেকে রক্ষা করি।

ভাইয়েরা আমার! ব্যবসা বানিজ্যে আমরা সততা অবলম্বন করে চলি। মাপে কম না দিই। কাউকে না ঠকাই। ইরশাদ হয়েছে :

{ فَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ }

‘ সুতরাং তোমরা মাপ ও ওজন ঠিকভাবে দাও এবং মানুষকে তাদের পণ্য কম দেবে না আর তোমরা যমীনে ফাসাদ করবে না তা সংশোধনের পর। এগুলো তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা মুমিন হও’ (সূরা আল আরাফ: ৮৫)।

প্রিয় ভাইয়েরা! সুদ, ঘুষ, ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ, ভাই কর্তৃক বোনের প্রাপ্য মীরাস অবৈধভাবে ভক্ষণ, অবৈধ আয় উপার্জন ইত্যাদি থেকে বাঁচুন।

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাকওয়া-পরহেযগারীর সর্বোচ্চ মানদণ্ড সামনে রাখুন। কুরআন সুন্নাহর আদর্শ অনুযায়ী জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, সর্বোত্তম কথামালা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। আর সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে বিদআত।

মুহতারাম হাযেরীন! রমজান চলে গেছে। তার অর্থ এটা নয় যে আমরা সারা বছর আর কোনো রোযা রাখব না। বরং রমযানের বাইরেও আমরা নফল রোযাসমূহ পালন করার চেষ্টা করব। কেননা রোযার সাওয়াব অফুরন্ত, যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ হাতে দিবেন বলে হাদীসে ঘোষণা এসেছে। আর রমযানের পরপরই আমাদের সামনে যে নফল রোযাটি আসে তা হলো শাওয়াল মাসের ছয় রোজা। আবূ আইয়ূব আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

( مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتاً مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ )

‘যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসে ৬টি রোযা রাখলো সে যেন সারা বছর রোযা রাখল’ (মুসলিম)।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

মুহতারাম হাযেরীন! আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে রমযানের রোযা, রমযান পরবর্তী ঈদসহ যে অগণিত নিয়ামত আমাদেরকে দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

{ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ }

‘আর আমার শোকর আদায় করো। আমার সাথে কুফরী করো না’ (সূরা আল বাকারা: ১৫২)।

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন :

{ وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ }

‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব। (সূরা ইবরাহীম: ৭)।

আর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে যে নিয়ামতসামগ্রী দান করেছেন তার প্রভাবও যেন আমাদের জীবনে প্রকাশ পায়। ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

( مَنْ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِ نِعْمَةً فَإِنَّ اللهُ يُحِبُّ أَنْ يَرَىَ أَثَرَ نِعْمَتِهِ عَلَى خَلْقِهِ)

‘ আল্লাহ তা‘আলা যাকে নিয়ামত দিয়েছেন বান্দার ওপর তিনি তার প্রদত্ত নিয়ামতের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন’ (আহমদ)।

اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে ঈদের নামায ও তার আগে-পরের কাজগুলো শরীয়তসম্মত পন্থায় আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا. اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنْ آلِ نَبِيِّكَ الطَّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ وَعَنْ أَزْوَاجِهِ أُمُّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

হে পরমপ্রিয় মাওলা! দয়া করে আপনি গোটা পৃথিবীতে সুখ, শান্তির ফয়সালা করুন। প্রতিটি দেশে আপনার পছন্দনীয় শাসক নিযুক্ত করুন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের শত্র“দের বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়ানোর তাওফীক দিন।

হে দয়াময় পরম দয়ালু! যারা দীনে মুহাম্মদীর সাহায্যকারী, আপনি তাদেরকে সাহায্য করুন এবং আমাদেরকে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যারা দীনে মুহাম্মদীকে অপমান ও অপদস্থ করতে চায়, তাদেরকে আপনি লাঞ্ছিত ও অপমানিত করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত ও বিপদাপদ থেকে হিফাযত করুন। আমাদের অভাব দূর করে দিন। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজকর্মে বরকত দিন। আমাদেরকে হালাল রুযী তালাশ করার তাওফীক দিন।

হে দয়ালু প্রভু! আমাদের যাবতীয় পেরেশানী দূর করে দিন। আমাদের কামাই-রুযিতে বরকত দিন। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে দীনদার, মুত্তাকী ও পরহেযগার বানিয়ে দিন।

হে মেহেরবান মাওলা! যদিও আমাদের গুনাহের কোনো সীমা নেই কিন্তু আপনার দয়া তো আমাদের গুনাহ অপেক্ষা অতি বিশাল ও বিস্তৃত। সুতরাং আপনার অফুরন্ত রহমতের উসীলায় আমাদের সকল পাপরাশি ক্ষমা করে দিন।

হে আল্লাহ! আপনি মহাক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা পছন্দ করেন। অতএব আমাদের যাবতীয় ত্র“টি-বিচ্যুতি নিজ গুণে ক্ষমা করে দিন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আপনার পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজ করার তাওফীক দিন এবং পরকালকে ইহকাল থেকে উত্তম করুন।

হে মহান প্রভু! আপনি আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্বে যেসব ভাই-বোন ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন তাদের সবাইকে মাফ করে দিন।

হে পরওয়ারদিগার! আপনি ঈমানদার ভাই-বোনদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো প্রকার বিদ্বেষ সৃষ্টি করবেন না। নিঃসন্দেহে আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও মেহেরবান।

হে দয়ালু মাবুদ! আপনি আমাদেরকে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের দলে শামিল করে নিন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ওপর দয়া ও অনুগ্রহ করুন এবং ঈমানের সাথে আমাদের খাতেমা বিল খাইর নসীব করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله ِ: (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.