পাঠ সংক্ষেপ

আল্লাহ তাআলা আল কুরআনের অনেক জায়গায় নিজের হকের সাথে সংযুক্ত করে উল্লেখ করেছেন। এমন হক, যা সবার জন্য অবশ্য পালনীয়, যা পালন না করলে সফলতা আসে না। হ্যাঁ, এর নাম বিররুল ওয়ালিদাইন বা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার।পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার ও তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। এমনকি যদি তারা অমুসলিম হন তবুও। তাদের মুসলিম হওয়ার সাথে সদ্ব্যবহারের প্রশ্ন জড়িত নয়।

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَتُوْبُ إِلَيْهِ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ، أَمَّا بَعْدُ :

সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব ইনশা’আল্লাহ। আর তা হলো পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার। পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার এমন এক হক যা আল্লাহ তাআলা আল কুরআনের অনেক জায়গায় নিজের হকের সাথে সংযুক্ত করে উল্লেখ করেছেন। এমন হক, যা সবার জন্য অবশ্য পালনীয়, যা পালন না করলে সফলতা আসে না। হ্যাঁ, এর নাম বিররুল ওয়ালিদাইন বা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার।

আর নিঃসন্দেহে বান্দা ও তার রবের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্ধন হলো তাকওয়া এবং তাঁর বান্দাদের হক আদায়ে সচেষ্ট হওয়া। আল্লাহ তা’আলা বলেন :

{وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا }

‘তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর,তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে (সূরা আন-নিসা:৩৬)

পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার একটি আবশ্যিক বিষয়, যদিও তারা অমুসলিম হন

সুপ্রিয় হাযেরীন! পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার ও তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। এমনকি যদি তারা অমুসলিম হন তবুও। তাদের মুসলিম হওয়ার সাথে সদ্ব্যবহারের প্রশ্ন জড়িত নয়। আসমা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

(قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ إِذْ عَاهَدَهُمْ، فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ رَاغِبَةٌ أَفَأَصِلُ أُمِّي؟، قَالَ: نَعَمْ صِلِي أُمَّكِ)

‘ একবার আমার মা আমার কাছে বেড়াতে এলেন। তিনি ছিলেন মুশরিক। আর তখন কুরাইশদের সাথে মুসলমানদের চুক্তি ছিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মা আমার কাছে এসেছেন। তিনি আমার আতিথেয়তা পেতে আগ্রহী। তবে কি আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখব? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে তুমি সম্পর্ক রাখবে’ (মুসলিম)।

মাতা-পিতার সদ্ব্যবহারের নির্দেশ এখানেই শেষ নয়। বরং, তারা যদি আল্লাহর সাথে কুফরী করার নির্দেশও দেন এবং শিরক করতে বাধ্য করেন, তবু তাদের সাথে ভালো ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-:

{وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْناً عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ . وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ}

‘ আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই। আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শির্ক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। আর অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়। তারপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, যা তোমরা করতে’ (সূরা লুকমান:১৪-১৫)

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসে এটাই স্পষ্ট যে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় ওয়াজিব, আর তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা গোনাহে কবিরাহ।

শিরক করার প্রতি পিতা-মাতার নির্দেশের পরও যখন একজন অমুসলিম পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, তাহলে সৎ ও মুসলিম পিতা-মাতার অধিকার কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। নিশ্চয় তাদের অধিকার সবচেয়ে বেশি। আর তা যথাযথভাবে আদায় করাও কঠিন। যে তা আদায় করতে পেরেছে, সে আল্লাহর তাওফীক প্রাপ্ত। আর যে পারেনি, সে পুরোপুরি বঞ্চিত হলো।

জিহাদের চেয়েও পিতার-মাতার সেবার গুরুত্ব বেশি

মুহতারাম হাযেরীন! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পিতা-মাতার অধিকারকে জিহাদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন

(سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.)

‘ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন, ‘সময়মতো নামায আদায় করা’। আমি বললাম, এরপর? তিনি বললেন, ‘পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার’। আমি বললাম, এরপর? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা’ (বুখারী)।

অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি. হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন:

(جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ فَاسْتَأْذَنَهُ فِي الْجِهَادِ، فَقَالَ: أَحَيٌّ وَالِدَاكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ)

‘ এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত? লোকটি বলল, ‘জ্বি’। তিনি বললেন, তাহলে তাদের মাঝেই জিহাদ করো’-অর্থাৎ,তাদের সেবায় শ্রম দাও’ (বুখারী)।

আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি. হতে অপর এক বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

( رِضَى الرَّبِّ فِيْ رِضَى الْوَالِدِ، وَسَخَطِ الرَّبِّ فِيْ سَخَطِ الْوَالِد)

‘ পিতার সন্তুষ্টিতে রবের সন্তুষ্টি। আর পিতার অসন্তুষ্টিতে রবের অসন্তুষ্টি’ (তিরমিযী, সহীহ)।

মুয়াবিয়া বিন জাহিমা রাযি বলেন:

(أَنَّ جَاهِمَةَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَدْتُ أَنْ أَغْزُوَ وَقَدْ جِئْتُ أَسْتَشِيرُكَ، فَقَالَ: هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَالْزَمْهَا، فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا )

এক লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি যুদ্ধে যেতে চাই। আপনার কাছে পরামর্শের জন্য এসেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মা আছে? লোকটি বলল, জ্বি আছে। তিনি বললেন, ‘তাহলে তাকে সঙ্গ দাও। কেননা জান্নাত তার পদতলে’ (নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)।

অন্যদিকে যে ব্যক্তি পিতা-মাতাকে জীবিত পেয়েও জান্নাত অর্জন করতে পারল না, তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

(رَغِمَ أَنْفُ، ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُ، ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُ، قِيلَ: مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟، قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ أَحَدَهُمَا أَوْ كِلَيْهِمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ)

‘ তার ধ্বংস হোক,তার ধ্বংস হোক, তার ধ্বংস হোক। বলা হলো, কার কথা বলছেন ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার কোনো একজনকে বা উভয়কে বার্ধক্যে পেয়েছে, অথচ জান্নাতে যেতে পারল না’ (মুসলিম)।

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার বিপদাপদ থেকে মুক্তি দেয়

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার সবচেয়ে বড় সওয়াবের কাজ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাদের সাথে সদ্ব্যবহারে রহমত পাওয়া যায়, বিপদাপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ঐ তিন ব্যক্তির কথা শুনে থাকবেন, যারা গুহায় আটকে পড়েছিলেন, বের হতে পারছিলেন না। তাদের একজন অপর দুজনকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের ভালো আমলগুলো স্মরণ করো, এবং গেুলোর অসিলায় দু‘আ করো। আল্লাহ হয়ত এর মাধ্যমে বিপদ কাটিয়ে দেবেন।

তাদের একজন তখন এভাবে দু‘আ করেছিলেন ‘হে আল্লাহ! আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিল। আবার ছোট ছোট শিশুও ছিল। আমি তাদের জন্য মেষ চরাতাম। যখন ফিরে আসতাম, তাদের দুধ খাওয়াতাম। প্রথমে আমার পিতা-মাতাকে খাওয়াতাম। এরপর সন্তানদের। একদিন আমার পশুগুলোর চারণভূমি একটু দূরে পড়ে গেল। ফিরতে দেরি হলো। সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমি এসে দেখি তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন। অন্যান্য দিনের মতো আমি তাদের জন্য দুধ নিয়ে হাজির হলাম। কিন্তু মাথার কাছে এসে জাগাতে অপছন্দ করলাম। আবার তাদের আগে আমার বাচ্চাদের খাওয়াতেও অপছন্দ করলাম। ওদিকে আমার বাচ্চারা আমার পায়ে পড়ে কাঁদছিল। এভাবে রাত শেষ হয়ে ফজর হলো। আপনি যদি জেনে থাকেন যে এ কাজটি আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্যই করেছি, তাহলে আজ আমাদের বিপদ কাটিয়ে দিন। অপর দুই ব্যক্তিও অনুরূপ ভালো কাজের উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। অতঃপর আল্লাহ তাদের বিপদ কাটিয়ে দিলেন। গুহার পাথর সরে গেল এবং তারা আকাশ দেখতে পেলেন।

পিতা-মাতার নির্দেশ মানা, তাদের ব্যয়ভার গ্রহণ করা, মৃত্যুর পর তাদের জন্য দোয়া করা সবই তাদের অধিকার

সুপ্রিয় হাযেরীন! পিতা-মাতার অন্যতম অধিকার হলো, তাদের নির্দেশ মেনে চলা, যতক্ষণ না তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশের বিরোধী হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন

{وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا}

‘এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে’ (সূরা লুকমান:১৫)

অনুরূপভাবে তারা গরীব হলে তাদের ব্যয়ভার গ্রহণ করা, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ জোগাড় করে দেয়া, তাদের জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর তাদের জন্য দু‘আ করা,তারা জীবিতাবস্থায় যাদের সাথে ওঠাবসা করতেন,তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা। আল্লাহ তা’আলা বলেন

{وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا . وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا.}

‘ আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে ইপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মাননজনক কথা বল’ (সূরা আল ইসরা:২৩)

ইবনে ওমর রাযি একবার মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তার একটি গাধা ছিল, যাতে তিনি ঘুরে বেড়াতেন। তার একটি পাগড়ি ছিল যা মাথায় বাঁধতেন। একবার তিনি ওই গাধায় ওপর সাওয়ার ছিলেন। পথিমধ্যে এক গ্রাম্য লোকের সাথে দেখা হলো। লোকটি বলল, তুমি কি অমুকের ছেলে অমুক না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি লোকটি তাঁর গাধা ও পাগড়ি দিয়ে দিলেন। তাকে গাধার পিঠে চড়তে বললেন। পাগড়িটা মাথায় বেঁধে নিতে বললেন। কেউ প্রশ্ন করল, আপনি এই গ্রাম্য লোককে আপনার গাধা দিয়ে দিলেন? যাতে আপনি ঘুরে বেড়াতেন? আবার আপনার মাথার পাগড়িও দিয়ে দিলেন? তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, মানুষের জন্য অন্যতম ভালো কাজ হলো পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক রাখা। আর ঐ লোকের পিতা ওমর রাযি. এর বন্ধু ছিলেন।

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের ফযীলত

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! আমরা এতক্ষণ যা আলোচনা করলাম তা থেকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের গুরুত্ব উঠে এসেছে। আমরা বুঝতে পেরেছি যে এটা জান্নাতে প্রবেশের কারণ এবং জিহাদ থেকেও এর গুরুত্ব বেশি।

আউইস ইবনে আমের আল ক্বারনীর ঘটনা কি শুনেছেন? তিনি ঐ লোক যার সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গিয়েছেন। আল্লাহর কাছে তাঁর উচ্চ মর্যাদার কথাও বলে গেছেন। তার সাথে দেখা করে দু‘আ চাইতে বলেছেন, এবং দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে চাইতে বলেছেন। অথচ মায়ের সেবা ছাড়া তার আর কোনো বিশেষত্ব ছিল না।

মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে, উমর রাযি. ইয়েমেন থেকে কোনো দল আসলে জিজ্ঞাসা করতেন, আপনাদের মধ্যে কি আউইস বিন আমের আছেন? এমনি একদিন তিনি আউইস বিন আমেরের কাছে গেলেন। বললেন, আপনিই আউইস বিন আমের? তিনি বললেন,হ্যাঁ। উমর রাযি. বললেন, মুরাদ এলাকার লোক আপনি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমর রাযি. বললেন, আপনার কুষ্ঠরোগ ছিল, অতঃপর সুস্থতা লাভ করেছেন, অবশ্য এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা বাকি, তাই না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমর রাযি. বললেন, আপনার মা আছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমর রাযি. বললেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের কাছে ইয়েমেনের মুরাদ (যা ক্বারন এলাকায় অবস্থিত) থেকে আগত দলের সাথে আউইস বিন আমের আসবে। তার কুষ্ঠরোগ ছিল, সুস্থ হয়েছে, কেবল এক দিরহাম পরিমাণ বাকি আছে। তার মা আছে, সে তার সেবা করে। সে আল্লাহর নামে কোনো কসম করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। তুমি যদি চাও যে সে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুক, তবে তা করো। অতএব আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আউইস ক্বারনী ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। উমর রাযি. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যাবেন? তিনি বললেন, কুফায়। উমর রাযি. বললেন, আপনার ব্যাপারে কি কুফার গভর্নর লিখে পাঠাব? তিনি বললেন, আমি সাধারণ মানুষের মাঝে থাকতেই পছন্দ করি।

আসবাগ বিন যায়েদের বর্ণনায় আছে, আউইস তার মায়ের সেবার জন্য রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন নি।

পূর্বসূরীদের জীবনীতে পিতা-মাতার সদ্ব্যবহার

প্রিয় ভাইয়েরা! আমাদের সালাফগণ যখন পিতা-মাতার হক ও তাদের সাথে সদাচারের বিষয়টি বুঝেছেন, তখন তাঁরা পূর্ণভাবে পিতা-মাতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। মুহাম্মদ বিন সিরীন র. এর নামতো আপনারা শুনেছেন। তিনি যখন তাঁর মাতার সঙ্গে কথা বলতেন, তখন মনে হত তিনি অনুনয় করছেন। ইবনে আওফ বলেন, একবার এক লোক মুহাম্মদ বিন সিরীন এর বাড়িতে এলেন। তখন তিনি তার মায়ের সাথে কথা বলছিলেন। লোকটি বলল, তিনি কি কোনো সমস্যায় পড়েছেন? তখন অন্যরা বললেন, না, এভাবেই তিনি তার মায়ের সাথে কথা বলেন।

হাইওয়াহ বিন শুরাইহ রহ.। তিনি একজন বড় মাপের প্রসিদ্ধ আলেম ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ইলম শেখার জন্য সব অঞ্চল থেকে মানুষ আসত। তিনি তাদেরকে শেখাতেন। এরই মধ্যে কখনো তার মা বলতেন, হাইয়াহ, ওঠো, মুরগীকে খাবার দাও। সাথে সাথে তিনি ক্লাস থেকে ওঠে যেতেন।

এই হচ্ছে আমাদের পূর্বসূরীদের কিছু অবস্থা। অথচ আজ আমাদের অবস্থান কোথায়? আমাদের তরুণ-তরুণীরা পিতা-মাতার সাথে কেমন আচরণ করছে? দেখা যায়, সামান্য এক বন্ধুকে খুশি করার জন্য পিতা-মাতাকে কাঁদাচ্ছে, তাদের কষ্ট দিচ্ছে ছোট-খাটো কারণে। তাদের সাথে রাগারাগি করছে।

তরুণ ও যুবক ভাইয়েরা, আসুন আমরা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করি। তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সব সময় চেষ্টা করি। দেখুন, আমাদের পিতা-মাতা আমাদের কাছে কী চান? তারা শুধু চান যে প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে থাকি, তাদের খুঁটি হই। বরং, আমাদের মায়েরা তো শুধু একটু মিষ্টি কথা চান, একটু আদর আর মায়া চান। এর বেশি কিছু চান না। এটুকুও কি আমরা দিতে পারি না?

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِيْنَ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ مُخْلِصًا لَهُ الدِّيْنَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ الصَّادِقُ الْأَمِيَنُ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيِنَ، وَسَلَّمَ تَسْلِيْمًا كَثِيْرًا، أمَّا بَعْدُ:

পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া অনেক বড় গোনাহ

সুপ্রিয় মুসল্লী ভাইয়েরা! পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া অনেক বড় গোনাহ। আল্লাহর সাথে শিরকের পরই এর অবস্থান। আবু বাকরা রাযি. বলেন

(أَلَا أُنَبِئُكُمْ بِأكْبَرِ الْكَبَائِرِ؟ قَالَهَا ثَلَاثاً، قُلْنَا : بَلَى يَا رَسُوْلُ اللهِ، قَالَ : الإِشْرَاكُ باللهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ)

‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় গোনাহ কোনটি তা বলব না? তিনি তিন বার বললেন। আমরা বললাম, হাঁ,অবশ্যই ইয়া রাসুলুল্লাহ,আমাদের বলুন। তিনি বললেন,আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া’ (বুখারী ও মুসলিম)।

ইবনে উমর রাযি. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

(ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ وَمُدْمِنُ الْخَمْرِ وَالْمَنَّانُ)

‘ তিন ব্যক্তির দিকে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তাকাবেন না। (১) পিতা-মাতার অবাধ্য (২) মদ পানকারী (৩) দান করে খোঁটাদাতা’ (নাসায়ী)।

আর মাতা-পিতাকে কষ্ট দেয়ার শাস্তি পৃথিবীতেই ত্বরান্বিত হয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘দুইটি গোনাহ ছাড়া আল্লাহ তা’আলা অন্য কোনো গোনাহের শাস্তি আখিরাতে দেয়ার পাশাপাশি পৃথিবীতে দেন না। (১) দুরাচার (২) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকরণ’(মুসনাদ আহমা)।

পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়ার আকার-প্রকৃতি

প্রি ভাইয়েরা! পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়ার নানা প্রকৃতির হতে পারে। যেমন-

-তাদের কথায় ভ্রু কুঁচকানো বা বিরক্তি প্রকাশ। আশ্চর্য হবেন যে, অন্যদের সাথে যে হেসে কথা বলে, সেও পিতা-মাতার সাথে কথা বলার সময় অনেক কষ্টে হাসি প্রকাশ করে।

-তাদের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা।

-তাদের ধমক দিয়ে কথা বন্ধ করে দেয়া

-তাদের ওপর কোনো মতামত চাপিয়ে দেয়া।

আর এসব আচরণ তো সাধারণ জ্ঞানী-গুণীরাই অপছন্দ করেন। পিতা-মাতার সাথে তো আরো অধিক অপছন্দনীয় বিষয় হবে।

-তাদের দিকে ক্ষিপ্তদৃষ্টিতে তাকানো, যেন তার এক সন্তানের দিকে শাসন করার উদ্দেশ্যে তাকাচ্ছে, বা শত্রুর দিকে তাকাচ্ছে।

মুজাহিদ র.বলেন, যে ব্যক্তি পিতা-মাতার দিকে তীক্ষè দৃষ্টিতে তাকায়, সে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করল না।

-তাদের প্রয়োজন মেটাতে বিলম্ব করা।

-এত বিলম্ব করা যে পিতা-মাতা তা জানতে বিরক্তি বোধ করেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন:

{فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا}

‘ তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না’ (সূরা আল ইসরা:২৩)

অতএব বন্ধুরা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকুন। আল্লাহকে ভয় করুন।

অন্যকে পিতা-মাতার ওপর প্রাধান্য দেয়া তাদের কষ্ট দেয়ারই নামান্তর।

সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! অন্যকে পিতা-মাতার ওপর প্রাধান্য দেয়া থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তির ন্যায় দ্রুত আর কোনো শাস্তি আল্লাহ তা’আলা দেন না।

একটি ঘটনা শুনুন। এক ব্যক্তি তার বৃদ্ধ বাবাকে উটের ওপর চড়িয়ে মরুভূমির মাঝে নিয়ে গেল। বাবা বললেন, আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?

ছেলে : আমি আপনাকে নিয়ে বিরক্ত হয়ে গেছি।

পিতা : তুমি কি করতে চাচ্ছ?

ছেলে : আমি আপনাকে যবেহ করতে চাচ্ছি। আপনাকে নিয়ে আমি বিরক্ত।

পিতা : যদি করতেই হয়, তাহলে ঐ পাথরের সামনে নিয়ে আমাকে যবেহ করো।

ছেলে : কেন বাবা?

পিতা : কারণ আমিও আমার পিতাকে ঐ পাথরের সামনে যবেহ করেছিলাম। তুমি ওখানে আমাকে যবেহ করো। কয় দিন পর তোমার সন্তানও তোমোকে ঐ জায়গায় যবেহ করবে।

সুপ্রিয় মুসল্লীবৃন্দ! পিতা-মাতা সন্তানের জন্য বড় নেয়ামত। তাদের জীবিত পাওয়া সন্তানের জান্নাত লাভের হাতিয়ার। কাজেই এই হাতিয়ারকে কাজে লাগিয়ে তাদের সাথে ভালো আচরণ করে জান্নাত অর্জন করাই হবে নেয়ামতের যথার্থ ব্যবহার। পক্ষান্তরে তাদের কষ্ট দেয়া আখিরাতের পাশাপাশি পার্থিব বিপদাপদেরও কারণ। তাই আসুন আমরা আল্লাহর কাছে দু‘আ করি যেন তিনি আমাদেরকে সব সময় পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহারের তাওফীক দান করেন। আমীন।

اللَّهُمَّ صَلَّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْم إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنَ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে যথার্থরূপে বিররুল ওয়ালিদাইনের দাবি পূরণের তাওফীক দান করুন। পিতা-মাতার সেবা করে আপনার রেযামন্দী অর্জনের তাওফীক দিন। হে আল্লাহ! আমদের অনেকেরই পিতা-মাতা আজ কবরবাসী। জানিনা আজ তারা কি হালতে আছেন। হে আল্লাহ আপনি তাদেরকে জান্নাতুল ফেরদাওস নসীব করুন। তাদের সকর ভুলত্রুটি মাফ করে দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.