পাঠ সংক্ষেপ

জাহেলীযুগে নারী ছিল ঘৃণা-অবজ্ঞার পাত্র।পক্ষান্তরে ইসলাম নারীকে অমর্যাদা-অসম্মান থেকে উদ্ধার করে সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করতে,জাহেলীযুগের যুলম নির্যাতন থেক নারীকে পরিত্রাণ দিতে। বহু ধর্মীয় দায়দায়িত্বে ইসলাম নারীকে করেছে পুরুষের সমান। পাপ-পূণ্যের ক্ষেত্রেও নারীপুরুষে নেই কোনো ভেদাভেদ। এককথায় বলতে গেলে একমাত্র ইসলামেই রয়েছে নারীরসম্প্রদায়ের প্রকৃত ও যথাযোগ্য মর্যাদা।

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى إِحْسَانِهِ، وَالشُّكْرُ لَهُ عَلَى تَوْفِيْقِهِ وَامْتِنَانِهِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ الدَّاعِيْ إِلَى رِضْوَانِهِ، اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمْ تَسْلِيْماً كِثِيْراً إِلَى يَوْمِ الدِّيِنِ. أَمَّا بَعْدُ:

প্রিয় হাযেরীন! আজকে আমার আলোচ্য বিষয় ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার। এ বিষয়ে আলোচনার শুরুতেই আমি বলব, ইসলাম নারীকে যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, আর কোনো ধর্ম-দর্শন তা দিতে পারেনি। পৃথিবীর সকল জাতি-ধর্ম, বিদ্যা-দর্শন নারীকে ছোট করেছে, নারীর মানহানী ঘটিয়েছে। পক্ষান্তরে ইসলামই একমাত্র জীবনাদর্শ, যা নারীকে মর্যাদার সুউচ্চ আসনে সমাসীন করেছে।

মুসল্লিয়ানে কেরাম! একজন নারী, জীবনে তিনটি স্তর অতিক্রম করে। প্রথম স্তর হলো, শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত। দ্বিতীয় স্তর হলো, যৌবনকাল। আর তৃতীয় স্তর হলো, বার্ধক্য। আমরা লক্ষ্য করলে দেখব, এই তিনটি স্তরের প্রতিটিতেই নারী পুরুষের আদর-যত্নে থাকে পরিপুষ্ট ও সমৃদ্ধ।

প্রথমত তার বাল্যকাল কাটে মা-বাবার স্নেহ-ভালোবাসা ও ভরাট যত্নে। মা-বাবার এই মমতাময় ছায়ার নীচে তার জীবন কাটে স্বর্গীয় নিরাপত্তায়। অতঃপর যৌবনে পদার্পন করার পর ‘স্বামী’ নামক এক কর্তব্যনিষ্ঠ পুরুষ এসে কাঁধে তুলে নেয় তার সকল চাওয়া পাওয়ার দায়িত্ব। অতঃপর বার্ধক্যের দুয়ারে কদম ফেলতেই শত শ্রদ্ধা, মমতা ও হৃদ্যতার ডালি নিয়ে পদতলে উপস্থিত হয় আদরের ছেলে-মেয়েরা। ইসলাম নারীকে এভাবেই দেখেছে আদ্যোপান্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন :

{وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ}

‘ আর নারীদের রয়েছে বিধি মোতাবেক অধিকার। যেমন আছে তাদের (পুরুষদের) অধিকার। আর পুরুষদের রয়েছে তাদের ওপর মর্যাদা’ (সূরা আল বাকারা : ২২৮)

দীনী দায়দায়িত্ব পালনের বহুক্ষেত্রে, হারাম বিষয় পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রে, পুন্য অর্জন ও শাস্তি ভোগের ক্ষেত্রে নারীকে করা হয়েছে পুরুষের সমান। ইরশাদ হয়েছে :

{مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}

‘ যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব’ (সূরা আন-নাহল : ৯৭)

অন্য এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে:

{إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ‘}

নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়ামপালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন’ (সূরা আল আহযাব : ৩৫)

হ্যাঁ। ইসলাম পুরুষকে নারীর ওপর সীমিত কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েছে প্রকৃতিগত কারণেই। যেমন উত্তরাধিকারসূত্রেপ্রাপ্ত সম্পদের হিসসা, সাক্ষ্য প্রদান, দিয়ত, পরিবারের অভিভাকত্ব, তালাক ইত্যাদি, যা সৃষ্টিগত কারণে ও পুরুষের কাঁধে অর্পিত দায়দায়িত্বের নিরিখে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

ইরশাদ হয়েছে :

{الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ}

‘পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে’ (সূরা আন নিসা : ৩৪)

ইসলাম নারীকে স্বামী বেছে নেয়ার স্বাধীন অধিকার দিয়েছে। নারীর সম্মতি ব্যতীত কেউ তাকে বিয়ে করার বা বিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। নারীর নারীত্বের ওপর আঘাত করার অধিকার কেউ রাখে না। নারীর ইজ্জত নিয়ে খেলা করার অধিকারও কারো নেই ।

ইসলামে নারীর মর্যাদার এও একটি দিক যে নারী যখন জীবনের প্রথম স্তরে অবস্থান করে এবং কন্যাসন্তান হিসেবে পিতার কাছে থাকে তখন তাদের যতœ ও লালন পালনকে বেহেশতে প্রবেশের মাধ্যম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। হাদীসে এসেছে :

(مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ، وَأَطْعَمَهُنَّ، وَسَقَاهُنَّ، وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ، كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘)

তোমাদের কারও যদি তিনটি কন্যাসন্তান থাকে এবং তাদের ব্যাপারে সে ধৈর্য ধরে, তাদেরকে খাওয়ায়, পান করায় এবং তাদের আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করে তবে এ কন্যাসন্তানরা তার জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে’ (নাসায়ী)।

অন্য এক হাদীসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

(مَنْ كَانَتْ لَهُ ثَلاثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَى لأْوَائِهِنَّ، وَعَلَى ضَرَّائِهِنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ، زَادَ فِي رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ: فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَاثْنَتَيْنِ ؟ قَالَ: وَاثْنَتَيْنِ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَوَاحِدَةً؟ قَالَ: وَوَاحِدَةً ‘)

যার তিনটি কন্যাসন্তান থাকবে এবং সে তাদের কষ্ট-যাতনায় ধৈর্য ধরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুসের বর্ণনায় এ হাদীসে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে এসেছে) একব্যক্তি প্রশ্ন করে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! যদি দু’জন হয়? উত্তরে তিনি বললেন, ‘দু’জন হলেও’। লোকটি আবার প্রশ্ন করে বলল, ‘যদি একজন হয় হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ‘একজন হলেও (বাইহাকী: শুআবুল ঈমান, সহীহ)।

মূলত এভাবেই ইসলাম কন্যাদের প্রতি মা-বাবার দৃষ্টি, দরদ, আন্তরিকতা ও মমতা আকর্ষণ করেছে। উৎসাহিত করেছে তাদের মাধ্যমে নিজদের পরকালকে ধনবান করে তুলতে।

এমনিভাবে নারী যখন জীবনের দ্বিতীয় স্তরে উপনীত হয় এবং বধূ হয়ে স্বামীর ঘরে যায় তখন তার সম্পর্কে ইসলাম বলেছে

(خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي)

‘তোমাদের মধ্যে সে সর্বোত্তম যে (সদাচারে) তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীর কাছে উত্তম’ (তিরমিযী, সহীহ)।

অর্থাৎ যে তার স্ত্রীর সাথে প্রাণপূর্ণ, প্রেমভরা কোমল আচরণে অভ্যস্ত, স্ত্রীর কোনো ভুল-ত্রুটি হলে রেগে আগুন হয়ে যায় না, বরং মমতার শীতল পরশ তাকে ধৈর্যধারণ করতে বাধ্য করে এবং যে স্ত্রীর প্রতি সদয় আচরণ করে ও স্ত্রীর দীনদারীতে সহায়তা দেয় তাকে উত্তম স্বামী বলে অভিহিত করা হয়েছে।

তারপর নারী যখন জননী হন, তখন তার প্রতি সন্তানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে অত্যন্ত কঠিনরূপে। প্রিয়নবী সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

(فَالْزَمْهَا، فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا)

‘মায়ের যতœ নাও কেননা জান্নাত তাঁর পায়ের কাছে’ ( নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ, সহীহ)।

তাই সন্তান মায়ের আনুগত্যে যতটা সচেষ্ট হবে, ততটাই বেহেশতের নিকটবর্তী হবে। আর যতখানি অবাধ্য হবে, ঠিক ততখানিই বেহেশতের সুবাসিত প্রাঙ্গণ থেকে দূরে সরে পড়বে।

ইসলাম নারীকে এভাবেই করেছে মর্যাদার পাত্র। পক্ষান্তরে আধুনিক সভ্যতার দাবিদার বিশ্ব নারীর নারীত্বের ওপর চালিয়েছে ভয়াবহ আগ্রাসন। ছিনিয়ে নিয়েছে নারীর ইজ্জত-আব্রু-সম্মান। নারীকে করেছে সস্তা পণ্যদ্রব্যে পরিণত। নারীর প্রতি আধুনিক সভ্যতার আগ্রাসন জাহিলীযুগের বর্বরতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে বহু বহু গুণে। শত শত পুরুষের লোলুপ দৃষ্টির সামনে নারীকে ছেড়ে দিয়েছে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে, যা দেখে আবু জেহেল আবু লাহাবের মাথাও লজ্জায় নুয়ে পড়বে। নারীর সৌন্দর্যকে পণ্য করে ব্যবসা করছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্র্রিজ, সিনেমা-নাটক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। নারীর সৌন্দর্যকে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে উৎপাদিত পণ্যের মোড়কে। নানা ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপনে, টিভি অথবা পত্রিকার পাতায়। নারীর সৌন্দর্যকে বিক্রি করা হচ্ছে রিসপশনিস্টের ডেসকে। উড়ো জাহাজে বিমানবালা রূপে, অথবা হোটেল রেস্টুরেন্টে সেবিকা হিসেবে। পণ্য ও নারী বর্তমানে একাকার। তথাকথিত আধুনিক সভ্যতার ধারক বাহকরা নারীর প্রতি এভাবেই চালিয়েছে সর্বাত্মক আক্রমণ। ছিনিয়ে নিয়েছে নারীর পবিত্র ও মর্যাদাময় সত্তা। পুরুষের অভিভাকত্বের শীতল ছায়া থেকে নারীকে বের করে ছেড়ে দিয়েছে খরতাপ রোদে ঘর্মাক্ত হতে। ঘরের সম্মানজনক দায়িত্ব, সন্তান লালন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার দায়িত্ব, পরিবার গড়ার দায়িত্ব ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করে নারীকে ঠেলে দিয়েছে উন্মুক্ত মাঠে, পুরুষের মতোই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জীবিকা অর্জনের বিক্ষুব্ধ ময়দানে, যেখানে নারীকে মিশতে হচ্ছে সৎ-অসৎ ও ফাসেক-ফুজ্জারদের সাথে। কখনো বা বিক্রি করতে হচ্ছে তার সম্ভ্রম চাকরি রক্ষার প্রয়োজনে। পুরুষ কর্মীদের হাতে শিকার হতে হচ্ছে নানা প্রকার হয়রানির।

আল্লাহ যা হালাল করেছেন আধুনিক সভ্যতার পতকাবাহীরা তা করে দিচ্ছে হারাম। একাধিক বিবাহ আল্লাহ তাআলা হালাল করেছেন যার মাধ্যমে, প্রায় সকল দেশেই পুরুষের তুলনায় অধিক সংখ্যায় থাকা, নারীরা পুরুষের অভিভাকত্ব পেয়ে যাপন করতে পারে সম্মানজনক ও নিরাপদ জীবন। আধুনিক সভ্যতা পুরুষের জন্য একাধিক বিবাহ হারাম করে বর্ধিত সংখ্যার নারীদের ছেড়ে দিচ্ছে ফেতনা-ফাসাদের পঙ্কিল গহ্বরে অথবা অসহনীয় একাকিত্বের নরকসম যন্ত্রনায়। অন্নবস্ত্রের প্রয়োজনে কাজের সন্ধানে পুরুষের আশ্রয়হীন নারী কখনো কখনো বাধ্য হচ্ছে একাকি পাড়ি জমাতে ভিনদেশে। বাধ্য হচ্ছে মাহরামবিহীন সফর করতে, পরপুরুষদের মাঝে বসবাস করতে, নিজ ইজ্জত-আব্রুকে সদা হুমকির মুখে রেখে অন্নবস্ত্রের জোগান দিতে। আল্ল¬াহর শত্রুরা, মানবতার শত্রুরা এভাবেই নারীকে করেছে বিপর্যস্ত। নারীত্বকে করেছে সর্বার্থে ধ্বংস।

এ চরম অন্যায়-আগ্রাসন সত্ত্বেও ওরা যখন নারীর অধিকার রক্ষক বলে নিজদের প্রচার করে তখন সত্যিই হাসি পায়। এর চেয়েও বেশি আশ্চর্যের উদ্রেক হয় যখন মুসলমানদের অনেককেই দেখা যায় পত্র-পত্রিকা অথবা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অভিন্ন বোল প্রচার করতে। এ প্রকৃতির লোকদের প্রতিই ইঙ্গিত করে ইরশাদ হয়েছে :

{كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ}

‘এভাবেই, যারা তাদের পূর্বে ছিল তারা তাদের কথার মত কথা বলেছে। তাদের অন্তরসমূহ একই রকম হয়ে গিয়েছে’ (সূরা আল বাকারা : ১১৮)

প্রিয় হাযেরীন! আজকাল অনেকেই বলে থাকেন, মেয়েরা বাড়ির ভেতর আবদ্ধ পরিবেশে অবস্থান করলে তাদের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে। বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। এ বিষয়ে মৌলিক কথা হলো, প্রথমেই প্রতিটি মুসলমানকে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে সমগ্র জাহানের মালিক, সুস্থতা-অসুস্থতারও তিনিই মালিক। সুতরাং আল্লাহর বিধানের অনুসরণ করতে গিয়ে কেউ রোগ-ব্যাধির কবলে পড়বে এটা কেবল অবাস্তবই নয় অযৌক্তিকও বটে।

মুহতারাম শ্রোতামণ্ডলী! ‘পর্দার বিধান নারী-স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর* এ ধরনের উক্তি সত্যের অপলাপ ও একশ ভাগ মিথ্যা বৈ কিছু নয়। কারণ আজ চৌদ্দশ বছর যাবত মুসলিম মা-বোনেরা পর্দার বিধান মেনে আসছেন। পর্দা যদি সত্যিই নারীদের জন্য স্বাস্থ্যহানীর কারণ হতো, তাহলে তো পর্দানশীন প্রতিটি নারীই থাকতো রুগ্ন, অসুস্থ, ব্যাধিগ্রস্ত। তারা হতো দুর্বল, শক্তিহীন ও অক্ষম। কিন্তু বাস্তবতা কি তার উল্টো নয়? জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, পর্দানশীন মেয়েদের তুলনায় বেপর্দা নারীর স্বাস্থ্য অধিক দুর্বল। পর্দা যদি নারী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতো, তবে তো পুরুষের তুলনায় নারী মৃত্যুর হার বেশি হতো। অথচ স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট কিন্তু সে কথা বলে না।

পর্দা যদি নারী স্বাস্থ্যের পরিপন্থি হতো, তাহলে পর্দানশীন মেয়েদের বাচ্চারা বেপর্দা নারীদের বাচ্চাদের চেয়ে বেশি সবল ও সুস্থ হতো না। অথচ স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বেপর্দা নারীর সন্তানের তুলনায় পর্দানশীন নারীর সন্তানই অধিক সুস্থ ও সবল থাকে।

আসল কথা হলো, পর্দার বিধান পালন নয়, পর্দার বিধান বর্জনই নারী স্বাস্থ্যের অবনতির মূল কারণ। এটা আমার নিজের কথা নয়, পাশ্চাত্য মনীষীরাই একথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, পর্দা পরিহারের ফলে সহনশীলতা, বিচার-বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞান লোপ পায়। তাই পাশ্চাত্য নারীরা এশীয় নারীদের তুলনায় অধিক পরিমাণে আত্মহত্যা করে থাকে।

বাস্তব সত্য হলো, ‘পর্দার বিধান মেনে চলা এবং অবাধ মেলামেশা থেকে দূরে থাকা নারী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর* এ উক্তির স্বপক্ষে আজ পর্যন্ত একটা যুক্তিও খোঁজে পাওয়া যায়নি। পক্ষান্তরে পর্দার বিধান বর্জনে নারীর স্বাস্থ্যহানী ও চেহারার কোমলতা বিনষ্ট হয়, তা অনেকেই স্বীকার করেছেন।

প্রিয় উপস্থিতি! কোনো নারী যদি আল্লাহ তা‘আলা র আদেশ মান্য করে ঘরবাসিনী হয়ে যায় এবং ঘর-দোরের নিয়ন্ত্রণ ও কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব স্বীয় কাঁধে তুলে নেয়, তাহলে তাকে স্বাস্থ্যগত ব্যায়ামের জন্য পথে-প্রান্তরে ক্ষুধার্ত বন্য প্রাণীদের মতো ছুটে বেড়াতে হবে না। কারণ ব্যয়ামের লক্ষ্য হলো

১. শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রততর হওয়া

২. দেহ ঘর্মাক্ত হওয়া

৩. দেহের পরতে পরতে কর্মক্লান্তি অনুভূত হওয়া। মূলত এ কয়টি কার্য হাসিলের জন্যই ব্যায়াম করা হয়। আর গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো নারী যদি ঘর-সংসারের কাজকর্ম নিজ হাতে আঞ্জাম দেয়, স্বামীর খেদমত ও স্বীয় সন্তানের স্বাস্থ্য পরিচর্যায় নিজেই শ্রম নিবেদন করে, ঘর-দোর নিজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট হয়, তাহলে একদিকে যেমন তার সন্তানেরা সুন্দর ও চমৎকার ভবিষ্যৎ নিয়ে গড়ে ওঠে, তেমনি তার শরীর, স্বাস্থ্য, মন-চিন্তাও থাকে সবল ও পূতঃপবিত্র। মূলত আজকের এই আধুনিক পৃথিবীও সেই স্বাস্থ্যবতী, কর্মপ্রেমী ও সংসারপ্রিয় নারীদের দিকেই তাকিয়ে আছে যাদের হাতে গড়া সুস্থ-সবল সন্তানেরা অশান্ত, যুদ্ধমুখর এই পতিত পৃথিবীকে শোনাবে নতুন স্বপ্নের কথা, কল্যাণের কথা।

মোট কথা, নারী যদি তার নির্ধারিত আপন ভুবনে এসে যায়, তবেই সে পাবে পূর্ণ নিরাপত্তাÑ যেখানে তার জীবন, সম্ভ্রম, ব্যক্তিত্ব ও স্বপ্ন নিয়ে তাকে ভুগতে হবে না কোনো সংশয়ে। নিশ্চয়ই ঘরই নারীর ভুবন, নিরাপদ ইলাহী আশ্রয়।

স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটির শিক্ষিত ভাইবোনদের জন্য আজ আমাদের দুঃখ হয়। কেননা তাদের অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে না জেনে, পাশ্চাত্যের প্ররোচনায় ইসলাম ও ইসলামী বিধি-বিধান যেমন: পর্দা, নারী অধিকার ইত্যাদি নিয়ে মিথ্যা সমালোচনা করে ভ্রান্ত পথে ধাবিত হচ্ছেন। আর তাদেরই সমালোচনায় প্রভাবিত হয়ে কিছু নারীও আজ শোগান দিচ্ছে পর্দাপ্রথা মানবো না, বদ্ধ ঘরে থাকব না’। আমি ঐসব মেয়েদের জিজ্ঞেস করতে চাই, হে নারী! কে তোমাকে বদ্ধ ঘরে আটকে রেখেছে? পর্দার বিধান তো তোমার অমঙ্গল কিংবা ক্ষতির জন্য দেওয়া হয়নি, বরং এ বিধান তো দেওয়া হয়েছে তোমার ইজ্জত ও নিরাপত্তা রক্ষার খাতিরেই। তদুপরি ইসলাম তো তোমাকে জরুরী প্রয়োজনে পর্দা বজায় রেখে ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া তো পুরুষরাও ঘর থেকে বের হতে চায় না। তবে তুমি কেন বিনা প্রয়োজনে হাটে-ঘাটে ঘুরে বেড়াবে?

أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْداً كَثِيْراً طَيِّباً مُبَارَكاً فِيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، صَلَّىَ اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ، وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْراً، أَمَّا بَعْدُ :

প্রিয় উপস্থিতি! আজ পশ্চিমারা মর্যাদা দানের নামে নারীকে কতটা মর্যাদাহীন করেছে তা ভাবতে গেলেও গা শিউরে ওঠে। বর্তমানে পশ্চিমা জগতে নারীর সতীত্ব যত সস্তা, অন্য কোনো জিনিস মনে হয় তত সস্তা নয়। আপনারা যদি কখনো ইউরোপ-আমেরিকা সফর করে থাকেন তবে দেখবেন, নারী অধিকারের নামে সেখানকার মেয়েদেরকে ঘর থেকে বের করে সমাজের যত ছোট ও নিকৃষ্ট মানের কাজ আছে তার সবই তাদের দ্বারা করানো হচ্ছে। হোটেলে পর্যটকদের রুম ঝাড়– দেয়া, বিছানার চাদর বদলানো সব দায়িত্বই মহিলাদের কাঁধে ন্যস্ত। মোটকথা, পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করে না।

আমার ভাবতে কষ্ট হয়, কোনো নারী যদি তার পরিবার-পরিজন আর ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাহলে তার এ সুন্দর জীবনকে বলা হয় আবদ্ধ জীবন। সেটাকে বলা হয় গোঁড়ামী আর সেকেলে কাজ। অথচ এই নারীই যখন অল্প কটি টাকার বিনিময়ে বিমানবালা হয়ে হাজারো পুরুষের লোলুপ দৃষ্টির শিকার হয়ে তাদের সেবায় আত্মনিয়োগ করে, তখন সেটা হয় আধুনিকতা আর স্বাধীনতা, তার এই জীবন হয় স্বাধীন জীবন। বাহ! কী চমৎকার দর্শন!

মনে প্রশ্ন জাগে, কোনো পুরুষের জন্য যদি তার কার্যক্ষেত্রটি বন্দীশালা না হয়, তাহলে কোনো নারীর জন্য তার সংসার নামক কর্মক্ষেত্রটি কোন্ যুক্তিতে বন্দীশালা হবে?

মুসলমান ভাইগণ! আজকাল অনেকেই নারী স্বাধীনতার বুলি আউড়িয়ে নারীদেরকেও পুরুষদের কাজে অংশীদার বানাতে চায়। তাদের এসব কথার জবাব দিয়েছেন, তাদেরই এমন কিছু নারী-সহকর্মী যারা এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন এবং এই আন্দোলনকে সফলকাম করার জন্য ঘর-সংসার, স্বামী-সন্তান সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু আফসোস স্বাধীনতার সেই সোনার হরিণ তারা ধরতে পারেননি।

প্রিয় উপস্থিতি! আমার অত্যন্ত দুঃখ হয় তখন, যখন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত কোনো নামকরা পণ্ডিতের মুখ থেকে উচ্চারিত হয় পর্দা নারী শিক্ষার অন্তরায়, উচ্চ শিক্ষার পরিপন্থি।’

এ ব্যাপারে আমার প্রথম কথা হলো আসলে এ উক্তি একেবারেই অবাস্তব। এর কোনো মৌল ভিত্তি নেই। কেননা ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক বিদূষী মহিলার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে যাদের জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের কাছে অনেক পণ্ডিতকে হার মানতে হয়েছে। এসব মহিলা নিজেরাই কেবল শিক্ষিত ছিলেন না, বরং শত শত নরনারীকে তাঁরা বিদ্যা ও জ্ঞানের অমৃত পরিবেশন করে গেছেন। যেমন, আয়েশা রাযি. ফাতেমা রাযি. কারীমা বিনতে আহমাদ র. হযরত হাফসা বিনতে সিরীন র. প্রমুখ। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই জ্ঞান-পাণ্ডিত্য অর্জন করার জন্য তাদের কিন্তু পর্দা ছাড়তে হয়নি।

পর্দার আড়ালে থাকা আমার মা ও বোনেরা! আপনারা ইসলামকে আঁকড়ে ধরুন। আল্লাহর দীনকে আঁকড়ে ধরুন। কেননা এই দীনই আপনাদেরকে সম্মানিত করেছে। আপনার মাকামকে উঁচু করেছে। আপনার দীনদারী ও নেক-আমলের বিনিময়ে আপনার জন্য পবিত্র জীবন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে :

{مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ‘}

যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব’ (সূরা আন-নাহল:৯৭)

হে সম্মানিতা নারী! ইসলাম আপনাকে মানবরূপী পশুদের অত্যাচারে নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। ইসলামের পূর্বে নারীর যে অমর্যাদাকর অবস্থা ছিল তা স্মরণ করুন। বর্তমানে পাশ্চাত্য বিশ্বে নারীর যে অধঃপতিত, ন্যাক্কারজনক অবস্থা তা স্মরণ করুন। আর জেনে রাখুন, পাশ্চাত্যের ধারায় নারী স্বাধীনতায় আদৌ কোনো কল্যাণ নেই, বরং তা নারীকে দেয় এক নারকীয় জীবন, অসহ্যকর জীবন, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই বয়ে আনে চরম অন্ধকার, মর্মন্তুদ আযাব।

আর মনে রাখবেন আল্ল¬াহ তা‘আলা কিভাবে তাঁর আনুগত্যকারী ও তাঁর রাসূলের অনুসরণকারী নারীদেরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছেন। খাদিজা রাযি. কে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা সালাম প্রেরণ করেছেন। আবু হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন :

(أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ، مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ، فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنْ رَبِّهَا، وَمِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لا صَخَبَ فِيهِ وَلا نَصَبَ)

‘জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬ামের কাছে এলেন। বললেন,‘ইয়া রাসূলাল্ল¬াহ! এই তো খাদিজা এসেছে। তাঁর সাথে একটি পাত্র রয়েছে যাতে তরকারি, অথবা খাবার অথবা পানীয় রয়েছে। সে যখন আসবে আপনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি সালাম বলবেন। আমার পক্ষ থেকেও সালাম বলবেন। আর তাঁকে বাঁশ দিয়ে তৈরি বেহেশতের একটি বাড়ির সুসংবাদ দিবেন যাতে কোনো হইহুল্লোড় নেই, নেই কোনো ক্লান্তি’ (বুখারী)।

পরিশেষে বলতে চাই। একমাত্র ইসলামই নারীকে দিয়েছে যথাযথ মর্যাদা। নারীকে তুলে এনেছে অসম্মান ও অমর্যাদার গহ্বর থেকে। বসিয়েছে সম্মানের শিল্পিত আসনে। তাই ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও যদি নারী তার সম্মান ও মর্যাদা তালাশ করে তবে তা হবে কেবল মরীচিকার পেছনে দৌড়ঝাঁপ, যা কেবল নারীর অসম্মান ও গ্লানীকেই বাড়িয়ে দেবে।

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْم إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنَ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নারীদেরকে হিফাযত করুন। নারীর প্রতি যারা আগ্রাসন চালাচ্ছে তাদেরকে আপনি প্রতিহত করুন। তাদের সকল ষড়যন্ত্র বানচাল করে দিন। নারী সম্প্রদায়কে আপনি সঠিক সম্মান ও মর্যাদা বুঝার তাওফীক দান করুন। হে আল্লাহ! নারীদের ইজ্জত-আব্রু হিফাযত করুন। সকল প্রকার হয়রানি থেকে তাদের রক্ষা করুন। ইসলামের শীতল ছায়ায় তারা যাতে পবিত্র জীবন যাপন করতে পারে আপনি সে তাওফীক দান করুন।

হে আল্লাহ! স্ত্রী-কন্যা, মাতা-ভগ্নীর অধিকার আদায়ে আমরা যেন কোনো ত্র“টি না করি আমাদেরকে সে তাওফীক দান করুন। হে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ থেকে আপনি আমাদেরকে হিফাযত করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.