পাঠ সংক্ষেপ

হালাল রিযক উপার্জন-অন্বেষণ একটি আবশ্যিক বিষয়। কেননা কিয়ামতের দিন মানুষকে তার জায়গা থেকে সামান্যতম সরতে দেয়া হবে না যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তার সম্পদের উৎস ও ব্যয়ের খাত সম্পর্কে। অতএব নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল মুসলমানের জন্য জরুরি হালাল ও পবিত্র উপার্জন বেছে নেয়া, সৎপথে সম্পদ আহরণ করা। হালাল ও বৈধ পথে ব্যয় করা। আর যা কিছু হারাম বা সন্দেহযুক্ত তা থেকে দূরে থাকা। কারণ হারাম উপার্জন ভক্ষণ থেকে যে শরীর বেড়ে ওঠে তার নিশ্চিত ঠিকানা হলো জাহান্নাম।

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَتُوْبُ إِلَيْهِ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ، أَمَّا بَعْدُ :

সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমাকে অঢেল নিয়ামতের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছেন। খাদ্য-পানীয়,আলো-বাতাস, জীবন জীবিকা সবই তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন সুচারুরূপে। তিনি আমাদেরকে এতোই দিয়েছেন যা গুণে কখনো শেষ করা যাবে না। এমনকি আমরা যদি তাঁর নেয়ামত-সামগ্রী গণনা করতে যাই তাহলে শেষ তো করতে পারবই না বরং আমরা নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে পড়বো। আর এসব নিয়ামতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো ইসলামের নিয়ামত, হিদায়েতের নিয়ামত, সিরাতুল মুস্তাকীমের পথ দেখানোর নিয়ামত যা মানুষকে রেখে দেয় দুনিয়া ও আখিরাত - উভয় জগতের সুখ-সমৃদ্ধি ও অফুরান্ত কল্যাণের মধ্যখানে।

প্রিয় ভাইয়েরা! আমাদের মধ্যে কে না চায় দুনিয়া-আখেরাতে উত্তম জীবন পেতে, দুনিয়া-আখিরাতে সৌভাগ্যবান হতে? কে না চায় আপদম্ক্তু-নিষ্কন্টক জীবনযাপন করতে? আমাদের মধ্যে কেউ কি চায় অন্যের গলগ্রহ হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে? তাহলে আসুন এমন একটি বিষয় আমরা মনেপ্রাণে গ্রহণ করি, যাতে রয়েছে দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ। আর তা হলো হালাল রিযক তালাশ করা।

প্রিয় ভাইয়েরা! আল্লাহ তাআলা যা কিছু তাইয়িব বা পবিত্র তা আমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন। আর যা কিছু অপবিত্র বা খাবায়েছ তা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে বলেছেন। পবিত্র বলতে বুঝায় যা নিজে পবিত্র হওয়ার পাশাপাশি হালাল পন্থায় উপার্জিত এবং যাতে শরীর অথবা আকল-বুদ্ধির জন্য নেই কোনো ক্ষতিকর দিক।

প্রিয় ভাইয়েরা! রিযক অন্বেষণ করা, জীবনধারণের উপকরণ সন্ধান করা, ইসলামী শরীয়তের একটি স্পষ্ট নির্দেশ। মানবাত্মাও প্রকৃতিগতভাবে রিযক অন্বেষণের পেছনে ছুটে চলে। আর আল্লাহ তাআলা দিনকে করেছেন জীবিকা অর্জনের সময়কাল। তিনি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করতে এবং তাঁর দেয়া রিযক ভোগ করতে। শুধু তাই নয়, বরং যারা পৃথিবীর বুকে আল্লাহর দেয়া রিযকের সন্ধানে বিচরণ করে তাদেরকে তিনি বিজাতীয় শত্র দের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধে নিয়োজিত মুজাহিদদের সাথে যুক্ত করে একই আয়াতে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে :

{وَآَخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَآَخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ}

আর কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে, আর কেউ কেউ আল্লাহর পথে লড়াই করবে। অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড় (সূরা আল-মুযযাম্মিল:২০)

শরীয়তের দৃষ্টিতে রিযক অন্বেষণে শ্রম ব্যয়ের গুরুত্ব এখান থেকেও বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যকে সর্বোত্তম খাদ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

(مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ، خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ، وَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامِ، كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ)

নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ খায়নি। আর নিশ্চয় আল্লাহর নবী দাউদ আ. নিজ হাতের উপার্জন থেকেই খেতেন (বুখারী)।

প্রিয় ভাইয়েরা! হালাল রিযক উপার্জন করে মানুষের দ্বারস্থ হওয়া থেকে বেঁচে থাকাই বিশাল সম্মাান ও মর্যাদার বিষয়। এমনকী উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বলেন :

مَا مِنْ مَوْضِعِ يَأْتِيْنِي الْمَوْتُ فِيْهِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مَوْطِنٍ أَتَسَوَّقُ فِيْهِ لِأَهْلِيْ؛ أَبِيْعُ وَأَشْتَرِيْ.

আমার মৃত্যু এমন জায়গায় আসার চেয়ে অধিক প্রিয় জায়গা আর নেই যেখানে আমি আমার পরিবারের জন্য বাজার করা তথা কেনা- বেচায় রত থাকব।

লুকমান হাকীমের একটি প্রজ্ঞাময় উপদেশ এ রকম, হে বৎস, তুমি হালাল রিযক উপার্জন করে দারিদ্র্য থেকে ধনাঢ্যতা অর্জন করো। কেননা কোনো ব্যক্তির দরিদ্র হওয়ার অর্থই হল তিনটি বদগুণে জড়িয়ে যাওয়া- এক. দীন পালনে ক্ষীণতা। দুই. আকল-বুদ্ধির দুর্বলতা। তিন. পৌরুষত্বের বিদায়।

প্রিয় ভাইয়েরা! নিশ্চয় পবিত্র উপার্জন ও নির্ভেজাল সম্পদ আহরণে নিহিত রয়েছে দীনদারী ত্র&ldquoটিমুক্ত হওয়া, মানসম্মানের সুরক্ষা, মন ও হৃদয়ের প্রফুল্লতা, চেহারার বিমর্ষহীনতা ও ইজ্জতের মাকাম অর্জনে ধন্য হওয়া।

তবে যে বিষয়টি আমাদেরকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে তা হলো, আমারা যা উপার্জন করছি পবিত্র কি না, হালাল কি না। কেননা আল্লাহ তাআলা যা পবিত্র ও হালাল কেবল তাই ভক্ষণ করার। নির্দেশ দিয়েছেন। আর যা অপবিত্র ও হারাম তা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে:

{يا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُواْ مِنَ الطَّيّبَاتِ وَاعْمَلُواْ صَالِحاً نى بما تعملون عليم}

হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভালো বস্তু থেকে খাও এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর সে সর্ম্পকে আমি সম্যক জ্ঞাত (সূরা আল মুমিনূন:৫১)

আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন :

{يا أَيُّهَا الَّذِينَ ءامَنُواْ كُلُواْ مِن طَيّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُواْ للَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ.}

হে মুমিনগণ, আহার কর আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিযক দিয়েছি তা থেকে এবং আ¬ল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত কর (সূরা আল বাকারা:১৭২)

আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্যসমূহের একটি হলো, যা কিছু পবিত্র তা হালাল বলে ঘোষণা দেয়া। আর যা কিছু অপবিত্র-খাবীছ তা হারাম বলে ঘোষণা দেয়া। ইরশাদ হয়েছে :

{وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ}

এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে (সূরা আল আরাফ:১৫৭)

উপর ন্তু যারা পবিত্র ও উত্তম কেবল তাদের জন্যই তো রয়েছে পরকালে জান্নাতের ঘোষণা। ইরশাদ হয়েছে :

{الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيّبِينَ يَقُولُونَ سَلامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُواْ الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ.}

ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, তোমাদের ওপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে (সূরা আন নাহল:৩২)

প্রিয় ভাইয়েরা! পবিত্র ও হালাল রিযক অন্বেষণ-উপার্জন করা আদৌ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। তা রবং এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক বিষয়। কেননা কাল কিয়ামতের ময়দানে বান্দাকে তার জায়গা থেকে সরতে দেয়া হবে না যতক্ষণ না তাকে প্রশ্ন করা হবে যে, সে তার জীবিকা কোত্থেকে অর্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করে ছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

(لَنْ تَزُولَ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاهُ، وَعَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ، وَفِيمَا أَنْفَقَهُ)

বান্দার দুপা তার জায়গা থেকে সরবে না যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে : (এক) তার জীবন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে, সে কিসে তা কাটিয়েছে (দুই) তার যৌবন সম্পর্কে যে, সে তা কিসে জীর্ণ করেছে (তিন) তার সম্পদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে, সে তা কোথা হতে অর্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে (চার) তার ইলম সম্পর্কে যে, সে তার ইলম অনুযায়ী কী আমল করেছে (তাবারানী, হাসান)।

তাই প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হলো গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করা যে, সে তার জীবিকা কোত্থেকে কীভাবে উপার্জন করছে। সে যা উপার্জন করছে তা হালাল কি না, পবিত্র কি না তা অবশ্যই যাচাই করে দেখতে হবে, যাতে সে হালাল খেতে সক্ষম হয় এবং হালাল পথে ব্যয় করতে সক্ষম হয়।

আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর একটি ঘটনা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। একদা আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর এক চাকর তাঁকে কিছু খাবার দিল। খাওয়া শেষ হলে এটা কোথা থেকে এসেছে এ প্রশ্নের জবাবে সে বলল, আমি জাহিলী যুগে এক ব্যক্তির ভাগ্য গণনা করেছি। অথচ আমি ভাগ্য গণনায় পারদর্শী নই। আমি লোকটিকে ধোঁকা দিয়েছি। আর সে আমাকে এটা দিয়েছে। আর তাই আপনি এইমাত্র খেলেন। এ কথা শুনে আবু বকর সিদ্দীক রাযি. নিজ মুখে হাত ঢুকিয়ে বমি করে দিলেন। পেটে যা ছিল সব বের করে দিলেন(জাওয়ামিউল কালিম: হাদীস নং ১৪৩২)

অন্য এক বর্ণনানুযায়ী। আবু বকর সিদ্দীক রাযি. তখন বলেলেন :

لَوْ لَمْ تَخْرُجْ إِلا مَعَ نَفْسِي لأَخْرَجْتُهَا

যদি তা বের করতে গিয়ে আমার জীবন দিতে হতো তবে আমি তাই করতাম (জাওয়ামিউল কালিম: হাদীস নং ৬৪)

উমর রাযি. একবার কিছু দুধ পান করলেন। তিনি তা খুব ভালো মনে করলেন। যে লোকটি তাঁকে পান করতে দিয়েছিল তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ দুধ তুমি কোথায় পেয়েছ? উত্তরে লোকটি বলল,আমি যাকাতের উটের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেগুলো তখন পানির কাছে ছিল। অতঃপর আমি তাদের দুধ থেকে কিছু নিলাম। এ কথা শুনে উমর রাযি. তাঁর হাত মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে দিলেন।

জনৈক নেককার ব্যক্তির স্ত্রী তাঁকে উপদেশ দিয়ে বলেন, হে অমুক! আমাদের রিযকের ব্যাপারে আপনি আল্লাহকে ভয় করুন। কেননা আমরা ক্ষুধায় ধৈর্যধারণ করতে পারব, কিন্তু জাহান্নামে ধৈর্যধারণ করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! এই তো ছিল সালাফে সালিহীনদের অবস্থা। হারাম বা সন্দেহযুক্ত কোনো কিছু, এমনকি তাঁদের অজ্ঞাতসারে উদরে প্রবেশ করলেও তাঁরা তা বমি করে বের করে দিতেন। পক্ষান্তরে আমাদের বর্তমান যুগের অবস্থা তো এর ঠিক উল্টো। বর্তমান যুগে তো হারাম খাওয়ার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে। কলাকৌশলে যে যত বেশি সম্পদ একত্রিত করতে পারে মানুষ তাকে তত বেশি চালাক ও বিচক্ষণ বলে। আর হালাল খেয়ে অল্পে তুষ্ট থাকা মানুষকে বর্তমান সমাজে বোকা বলে অভিহিত করা হয়। এমনকি বর্তমান যুগের স্ত্রীরাও তাদের পুরুষদেরকে হারাম সম্পদ দু হাতে লুটে নিতে উৎসাহ যোগায়, প্ররোচনা দেয়। বর্তমান যুগে হারাম খেয়ে কেউ বমি করা তো দূরে থাক, সবাই বরং তৃপ্তির ঢেকুর তোলে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! ব্যক্তি ও সমাজের ওপর হারাম উপার্জনের প্রভাব খুবই মারাত্মক। হারাম উপার্জনের ফলে সকল প্রকার বরকত ছিনিয়ে নেয়া হয়। রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। আর্থিক অনটন-সঙ্কট দেশে-সমাজে শক্তভাবে শিকড় গেড়ে বসে । বেকারত্ব বেড়ে যায়। যুলম অন্যায়, প্রতিহিংসা ও রেশারেশির সয়লাব ঘটে।

প্রিয় মুসল্লীবৃন্দ! যারা হারাম খায়, পরিবার-পরিজন ছেলে-সন্তানদের হারাম অর্থে লালন করে, তারা মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত হয়। তাদের উদাহরণ সাগরের পানি পানকারীর মতো। যতই সে পান করে ততোই তার তেষ্টায় আগুণ ধরে। এরা অল্পে তুষ্ট হতে নারাজ আবার অধিক পেয়েও থেকে যায় অখুশি। এরা হারামকে মনে করে সুস্বাদু-সুখাদ্য। হারাম উপার্জনের জন্য এরা অবলম্বন করে চলে সকল বক্রপথ। সুদ, জুয়া, ছিনতাই, চুরি, মাপে কম দেয়া, পণ্যের দোষত্রটি লুকিয়ে রাখা, যাদু, ভেলকিবাজি, ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ, মিথ্যা-কসম, ধোঁকাবাজিসহ হেন কাজ নেই যা এরা করে না। একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে চমৎকারভাবে ভবিষদ্বাণী করেছেন। তিনি বলেন :

(يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، لَا يُبَالِي الْمَرْءُ مَا أَخَذَ مِنْهُ، أَمِنَ الْحَلَالِ أَمْ مِنَ الْحَرَامِ؟.)

এমন এক সময় আসবে যখন ব্যক্তি কোত্থেকে নিচ্ছে- হালাল থেকে, না হারাম থেকে তার গুরুত্ব দেবে না (বুখারী)।

হে চাকরিজীবী ভাইয়েরা, হে ব্যবসায়ী ভাইয়েরা, হে ঠিকাদার ভাইয়েরা, হে মুসলিম ভাই ও পর্দার আড়লে থাকা মা-বোনেরা! আসুন আমরা হারাম উপার্জন ও হারাম সম্পদ ভক্ষণ করা থেকে বিরত থাকি। সন্দেহযুক্ত সম্পদ থেকে ফিরে আসি। মানুষের হক যথাযথভাবে ফিরিয়ে দিই। আমরা আমাদের যার যার দায়িত্ব যথাযথরূপে পালন করি। অফিসে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, যে যেখানে আছি নিজ দায়িত্ব উত্তমরূপে পালন করি। বেতন-ভাতা হালাল করে নিই। ওয়াদা-অঙ্গীকার রক্ষা করে চলি। পণ্যে ভেজাল মেশানো বন্ধ করি। আসুন আমরা আল্লাহ তাআলা কে ভয় করার মতো ভয় করি। হালাল রিযক হলো পবিত্র রিযক। হালাল রিযক হৃদয়কে করে পুষ্পিত-আলোকিত। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে করে সতেজ। হালাল রিযকের মাধ্যমে দুরুস্ত হয় মানুষের জীবন ও জগৎ। সুস্থ হয় মন ও শরীর। কবুল হয় বান্দার দুআ।

ভাইয়েরা আমার! যুহদ বা দুনিয়াবিরাগ মুমিনের একটি বড় গুণ। আর সবচে বড় যুহদ হলো হারাম পরিত্যাগ করা। হারাম থেকে দূরে থাকা। যে ব্যক্তি হারাম খায়। হারাম লেনদেন করে। মানুষকে যুলম করে তার কোনো তাকওয়াও নেই, যুহদও নেই।

আবু হুরাইরা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- :

(مَنْ كَانَتْ يَعْنِي عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ فِي مَالِهِ أَوْ عِرْضِهِ، فَلْيَأْتِهِ فَلْيَسْتَحِلَّهَا مِنْهُ قَبْلَ أَنْ يُؤْخَذَ أَوْ تُؤْخَذَ، وَلَيْسَ عِنْدَهُ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ، فَإِنْ كَانَتْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ حَسَنَاتِهِ فَأُعْطِيَهَا هَذَا، وَإِلَّا أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ هَذَا فَأُلْقِيَ عَلَيْهِ)

যদি কেউ তার ভাইয়ের ওপর যুলম করে থাকে, হোক তা মান-ইজ্জত অথবা সম্পদ বিষয়ক, সে যেন আজই তা থেকে দায়মুক্ত হয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যখন কোনো টাকা পয়সার লেনদেন হবে না। সেদিন যদি তার নেক আমল থেকে থাকে তবে যুলম পরিমাণ নেক আমল তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হবে। আর যদি নেক আমল না থাকে তবে মাযলুম ব্যক্তির গুনাহ নিয়ে তার ওপর চাপানো হবে (আহমদ, সহীহ)।

بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآن الْعَظِيْمِ وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ الْآياتِ وَالذِّكْر الحْكِيْمِ، أقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ فَاسْتَغْفِرُوهُ إِنَّهُ هُو الْغَفُور الرَّحِيْمْ .

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ عَظِيْمِ الْإِحْسَانِ وَاسِعِ الْفَضْلِ وَالْجُوْدِ وَ الِامْتِنَانِ وَ أَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسْولُهُ صَلَّىَ اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِيْنَ. أَمَّا بَعْدُ:

মুহতারাম হাযেরীন! দুনিয়ার মায়াজালে জড়িয়ে পড়ার ফেতনা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। একজন মুসলমানের প্রেরণা-উদ্দীপনা-উৎকণ্ঠার উৎস হবে দুনিয়া, তা কখনো মেনে নেয়া যায় না। বরং মুসলমানের উচিত দুনিয়াকে আখিরাতের ফসল ফলানোর ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা। হাদীসে এসেছে : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

(تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ، وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ، وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ، إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ، تَعِسَ وَانْتَكَسَ، وَإِذَا شِيكَ فَلا انْتَقَشَ، طُوبَى لِعَبْدٍ آخِذٍ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَشْعَثَ رَأْسُهُ، مُغْبَرَّةٍ قَدَمَاهُ، إِنْ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ، وَإِنْ كَانَ فِي السَّاقَةِ كَانَ فِي السَّاقَةِ، إِنْ اسْتَأْذَنَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، وَإِنْ شَفَعَ لَمْ يُشَفَّع)

দীনারের পূজারী, দিরহামের পুজারী ও পোশাকের পূজারী ধ্বংস হোক! তাকে দেয়া হলে সে খুশি। আর না দিলে নারাজ। সে ধ্বংস হোক, অধঃপতিত হোক। সে কাঁটাবিদ্ধ হলে তা আর বের করা হয় না। শুভ সংবাদ ওই বান্দার জন্য, যে আল্লাহর পথে তার ঘোড়ার লাগাম ধরা অবস্থায় আছে, ধূলায়-ধুসর কেশ নিয়ে, ধূলোমলিন দুই পা নিয়ে। যদি সে প্রহরার দায়িত্বে থাকে তবে সে পাহারা দেয়। যদি সৈন্যবাহিনীর পশ্চদ্ভাগে থাকা তার দায়িত্ব হয়ে থাকে তবে সে পশ্চাদ্ভাগে থাকে। যদি সে অনুমতি চায়, তাকে অনুমতি দেয়া হয় না। যদি সে সুপারিশ করে, তার সুপারিশ কবুল করা হয় না (বুখারী)।

হাদীসে উল্লেখিত দ্বিতীয় প্রকার ব্যক্তি দুনিয়ার লোভ লালসা মুক্ত হয়ে আল্লাহর পথে নিজকে নিবেদিত করে রাখে। দীন রক্ষার ক্ষেত্রে তাকে যখন যে দায়িত্ব দেয়া হয় যথার্থরূপে সে তার দায়িত্ব পালন করে। শত্রর গতিবিধি দেখার জন্য যদি তাকে পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে সে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে নির্ঘুম রজনী যাপন করে। কখনো বলে না, এ কঠিন দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যদি তাকে সৈন্যবাহিনীর পশ্চাদ্ভাগে থাকার দায়িত্ব দেয়া হয়, তবে সে তাই মেনে নেয়। বলে না, এখানে থাকলে আমার কোনো নাম-দাম হবে না। এ ব্যক্তির অর্থের প্রতি লোভ থাকে না। দুনিয়ার জৌলুস অর্জনের প্রতি লোভ থাকে না। নেতৃত্ব অর্জনের প্রতি লোভ থাকে না। সে নীরবে আল্লাহর পথে কাজ করে যায়। সচেতনভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করে যায। ফলে মানুষের কাছে সে থেকে যায় অপরিচিত। তাই যদি সে কোনো নেতার দরবারে প্রবেশের অনুমতি চায়, তাকে গুরুত্বহীন মনে করে অনুমতি দেয়া হয় না। সে যদি কারো জন্য সুপারিশ করে তার সুপারিশ আদৌ কোনো গুরুত্ব পায় না। এ হলো সে ব্যক্তি যার কোনো দাবি আল্লাহ তাআলা প্রত্যাখ্যান করেন না।

দুনিয়ার প্রতি মোহাবিষ্ট থাকার একটি অশুভ পরিণতি হলো, হালাল-হারামের বাছ-বিচার না করা। যা সামনে পাওয়া যায়, কোনো রকম যাচাই-বাচাই না করেই তা লুফে নেয়া। আরেকটি অশুভ পরিণতি হলো, ঈমান ও কুফরের দোলাচলে দুলতে থাকা। দুনিয়ার মোহে পড়ে, মানুষ তার ঈমান বিকিয়ে দেয়। দুনিয়ার মোহাবিষ্ট অনেক ব্যক্তিই যদি মুমিন অবস্থায় সকালে উপনীত হয় তবে সন্ধ্যা বেলায় সে কাফের হয়ে যায়। কাফের অবস্থায় সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকাল বেলায় সে মুমিন হয়ে যায়। দুনিয়ার প্রতি মোহাবিষ্ট ব্যক্তি আদর্শিক ও চারিত্রিক দৃঢ়তা হারিয়ে ফেলে। সে টাকা পয়সার অনুরক্ত দাসে পরিণত হয়। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে বলেছেন। দুনিয়ায় অপরিচিত অথবা মুসাফিরের মতো থাকতে বলেছেন।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! রিযক যার ভাগ্যে যেটুকু লেখা আছে তা শেষ না করে কেউ এ ধরাধাম পরিত্যাগ করে যাবে না। তাই আসুন, আমরা যথার্তরূপে আল্লাহর তাকওয়া ধারণ করি। পবিত্র ও উত্তম পন্থায় রিযকের সন্ধান করি। জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

(لا تَسْتَبْطِئُوا الرِّزْقَ، فَإِنَّهُ لَنْ يَمُوتَ الْعَبْدُ حَتَّى يَبْلُغَهُ آخِرُ رِزْقٍ هُوَ لَهُ، فَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ: أَخَذِ الْحَلالِ، وَتَرَكِ الْحَرَامِ)

রিযক দেরিতে আসছে বলে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করো না। কেননা কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মারা যায় না যতক্ষণ না তার নির্ধারিত শেষ রিযক তার কাছে পৌঁছে যায়। অতঃপর তোমরা হালাল রিযক সুন্দরভাবে তালাশ করো। আর হারাম থেকে বিরত হও (ইবনে হাব্বান, সহীহ)।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহ তাআলার তাকওয়া ও ভয়ই সেই মহামূল্যবান চাবি যা বান্দার জন্য সকল রহমত ও বরকতের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়। তাকওয়াই হলো অঢেল নিয়ামত-উপঢৌকন পাওয়ার পরীক্ষিত হাতিয়ার। ইরশাদ হয়েছে :

{وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ}

আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের ওপর খুলে দিতাম কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম (সূরা আল আরাফ:৯৬)

তাকওয়া হলো সকল খায়ের-ভালাই-র প্রস্রবণ। সকল কল্যাণের আধার। যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তাকে সকল দুশ্চিন্তা থেকে বের হয়ে আসার পথ করে দেন। সকল সঙ্কট থেকে মুক্তি লাভের উপায় বের করে দেন। তিনি তাকে এমন জায়গা থেকে রিযকের ব্যবস্থা করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে। তাকওয়া অবলম্বন করে দুনিয়া তার জন্য কখনো সঙ্কীর্ণ হয় না। জীবন-জীবিকা, রিযক-দৌলত তার জন্য সঙ্কুচিত হয় না। ইরশাদ হয়েছে- :

{وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا}

যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন (সূরা তালাক : ২)

হে আল্লাহর বান্দারা! বরকত ও রহমত হাসিলের আরেকটি কার্যকর মাধ্যম হলো দুআ-প্রার্থনা, আল্লাহর আশ্রয়ে নিজকে সঁপে দেয়া। কেননা তিনি ছাড়া মানুষের জন্য অন্য কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তাই যদি রিযকের সঙ্কট দেখা দেয়, রিযকের ব্যাপারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়, আপনার ধার-দেনা বেড়ে যায়, তবে আপনি আল্লাহর পানে ধাবিত হোন। আল্লাহর দরজায় কড়া নাড়ন। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর দরজায় কড়া নাড়ে, আল্লাহ তাঁকে নিরাশ করেন না। তাই আসুন, আমরা আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিই। কেননা এমন কেউ নেই, যে তাঁর দরজায় নাছোড়বান্দা হয়ে দাঁড়িয়েছে অথচ তিনি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিযক অন্বেষণের তাওফীক দান করুন। হারাম থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দিন।

الْلَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْم إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَارْضَ اللَّهُمَّ عَنِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ وَعَنِ الصَّحَابَةِ أَجْمَعِيْنَ وَعَنِ التَّابِعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنَ وَعَنَّا مَعَهُمْ بِمَنِّكَ وَكَرَمِكَ وَعَفْوِكَ وَإِحْسَانِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ.

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সবাইকে হালাল রিযক উপার্জনের তাওফীক দান করুন। হারাম থেকে আমাদের সবাইকে বাঁচান। হালাল রিযকের সকল দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিন। হে আল্লাহ আপনি আমাদের যথার্থরূপে তাকওয়া অবলম্বনের তাওফীক দিন এবং আমাদের আর্থিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ করে দিন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

عبَادَ اللهِ رَحمِكُمُ الله : (إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ والإحْسَانِ وَإيْتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمْنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنِ) اُذْكُرُوا اللهَ يَذْكُرْكُمْ وَادْعُوْهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ وَلَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى أَعْلَى وَأَعْظَمُ وَأَكْبَرُ.